kalerkantho


দায়ীদের সাজা হয় না

রংপুরে ক্লিনিকে সাত মাসে চার রোগীর মৃত্যু

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



রংপুরে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে গত সাত মাসে তিন শিশুসহ চার রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। উল্টো ধর্মঘট ডেকে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে ক্লিনিকগুলো।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৮২ সালে প্রণীত অধ্যাদেশ অনুযায়ী বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আইনে ক্লিনিকে ১০টি শয্যার জন্য ছয়জন চিকিৎসক, তিনজন নার্স, তিনজন সুইপারসহ অন্যান্য জনবল থাকা আবশ্যক। অথচ এ নিয়ম মানছে না রংপুরের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো। স্বাস্থ্যসেবাদানকারী এসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।  টেলিফোনে চিকিৎসদের মতামত নিয়ে নার্স-আয়ারা রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিভাগীয় নগর রংপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ক্রমে বাড়ছে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের সংখ্যা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগী মৃত্যুর ঘটনা। এসব মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগসহ আইনের আশ্রয় নিয়েও চিকিৎসকদের সংগঠনের অনৈতিক চাপে সুবিচার পাচ্ছে না ভূক্তভোগীরা।

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, গত ২০ এপ্রিল নগরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার জনসেবা ক্লিনিকে চার বছরের শিশু বাবু মিয়া হার্নিয়া অস্ত্রোপচারে মারা যায়। শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে ক্লিনিক মালিক ডা. মোসাদ্দেক গোপনে শিশুকে অন্য একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখেন। দুই দিন শিশুটির খোঁজ না পেয়ে তার বাবা সাংবাদিকদের জানান। এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা ওই ক্লিনিকের ভেতরে ঢুকতে চাইলে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান। পরের দিন শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনার কোনো প্রতিকার না হতে গত ২ জুন রংপুরের ধাপ মেডিক্যাল মোড় এলাকায় সেন্ট্রাল ক্লিনিকে গাইবান্ধা থেকে আসা রেজ্জাকুল হকের ছয় বছরের ছেলে সিয়াম টনসিল অস্ত্রোপচারের সময় মারা যায়। এ ঘটনায় সিয়ামের বাবা রেজ্জাকুল হক বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি চলমান। পুলিশ এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারকারী আব্দুল হাইসহ দু্জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

রংপুর আধুনিক হাসপাতালে গত শনিবার অস্ত্রোপচারের পর নাসিমা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীসহ সবাই।

এসব ব্যাপারে রংপুর কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মারুফ ইলাহী বলেন, ‘জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেই মানুষ অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে।’

রংপুর ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান কোয়েল বলেন, ‘অপচিকিৎসা বেশি হচ্ছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে।’

কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া বলেন, ‘চিকিৎসকদের ধরলেই চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আন্দোলন চলে। তখন বৃহৎ জনগোষ্ঠী ভোগান্তিতে পড়ে।’

রংপুরের সিভিল সার্জন ও জেলার বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন কমিটির সদস্যসচিব ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুরে বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার নামে অরাজকতা চলছে। এ ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োজন।’

 



মন্তব্য