kalerkantho


ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ চার বছর পর মামলা

বরিশাল অফিস    

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বরিশালে চার বছর আগে ভুল চিকিৎসায় গোলাম কিবরিয়া নামে কলেজছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসক হারুন আর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে মামলাটি করেন কিবরিয়ার মা ইসরাত জাহান এমি। আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

কিবরিয়া সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও নলছিটি উপজেলার কাঠিপাড়ার আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তাঁরা সপরিবারে নগরের নিউ সার্কুলার রোডে বসবাস করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোলাম কিবরিয়ার নাকের পলিপাসে সমস্যা ছিল। ২০১৪ সালে নগরের পুলিশ লাইনে ডা. হারুনের পরিচালিত রওশোনারা মেমোরিয়াল ক্লিনিকে যান তিনি। ডা. হারুন পলিপাসের অস্ত্রোপচার (অপারেশন) বাবদ ১৫ হাজার টাকা চান। পরে ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর রাতে হারুন তাঁর বাসায় কিবরিয়ার পলিপাস অস্ত্রোপচার করেন। তখন তাঁর নাক দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। কিবরিয়ার অবস্থা গুরুতর দেখে চিকিৎসা না দিয়ে ডা. হারুন বাসা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরের দিন কিবরিয়াকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন অভিভাবকরা। অবস্থার আরো অবনতি হলে তাঁকে পরের দিন সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

মামলার বাদী এমি বলেন, ‘কিবরিয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডা. হারুন আর রশিদ মীমাংসার জন্য আত্মীয়-স্বজনদের শরণাপন্ন হন। তাই এত দিনে মামলা করতে পারিনি। অভিযোগ নিয়ে থানা গেলে তাঁরা মামলা না নিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।’

আরো রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

এর আগে ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ডা. হারুন আর রশিদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছিল। ২০১৩ সালে নগরের বান্দরোডের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ও ২০১৫ সালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রামের দাঁতের রোগীর মৃত্যুতে মামলা দুটি হয়েছিল। পরে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর র‌্যাব নগরের নিজ বাসভবনে রোগী দেখার চেম্বার থেকে ডা. হারুনকে আটক করে। চেম্বারে রোগীর অস্ত্রোপচার করবেন, এমন মুচলেকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান। সালিস বিচারের মাধ্যমে মামলা দুটি উঠিয়ে নেয় বাদীপক্ষ।

এদিকে ডা. হারুন একজন নাক-কান-গলার চিকিৎসক হলেও শৈল্য (সার্জারিক্যাল) চিকিৎসা বেশি দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ।



মন্তব্য