kalerkantho


পরিবহন সংকট

টঙ্গীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা শিক্ষার্থীদের

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



টঙ্গীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা শিক্ষার্থীদের

হামিম তাশরিফ নাঈম রাজধানীর ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। তীব্র যানজটের কথা মাথায় রেখে ক্লাসের সময় থেকে কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি টঙ্গীর চেরাগআলী বাসস্টপেজে এসে দাঁড়ান। এ ছাড়া যানবাহন সংকটের কারণে এক-দেড় ঘণ্টা টঙ্গীতেই বাসের পিছু ছুটতে হয় তাঁকে।

নাঈমের মতো হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকে। বাসের পিছু দলবেঁধে ছুটতে হয় তাদের।

টঙ্গী, আশপাশের এলাকা ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করে; কিন্তু তাদের যাতায়াতের জন্য মাত্র দু-একটি প্রতিষ্ঠানের ছাড়া অন্যদের জন্য নেই পরিবহনব্যবস্থা। পাবলিক বাসই তাদের যাতায়াতের বাহন।

সাম্প্রতিক সময়ে পাবলিক পরিবহনে ‘সিটিং সার্ভিস’ ও ‘গেটলক স্পেশাল সার্ভিস’-এর নামে এক নৈরাজ্যকর অবস্থা বিরাজ করছে। বাসের সিট পূর্ণ হয়ে গেলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাসে উঠতে না পেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। কাঁধে, হাতে, পিঠে ব্যাগ নিয়ে দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয় তাদের। ক্লাস, পরীক্ষায় সময়মতো উপস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

গাজীপুর-টঙ্গী-ঢাকা পথে চলাচলকারী ১০টি বাস সার্ভিস রয়েছে, যার কোনোটিই আর লোকাল সার্ভিস নেই। এ কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিদিন ভোর থেকে বাসস্টপেজে এসে বাসে ওঠার প্রতিযোগিতা শুরু করতে হয়। কিছুদিন আগেও এ সড়কে চলাচলকারী সুপ্রভাত, বলাকা, ছালছাবিল, অনাবিল, প্রভাতী-বনশ্রী, ২৭ নম্বর  ভিআইপি ও আজমেরী পরিবহন সব স্টপেজ থেকেই যাত্রী ওঠানামা করাত। এখন এরা সিটের অতিরিক্ত যাত্রী নেয় না। বাসগুলো প্রথম স্টপেজেই সব সিট পূর্ণ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। ছাত্র-ছাত্রীরা বন্ধ দরজা জোর করে খুলে বাসে ওঠার চেষ্টা করে বলে ছাত্র-ছাত্রী দেখলে কন্ডাক্টটররা বাস থামাতে চায় না। বাস থামানো হয় দূরে গিয়ে। বাধ্য হয়ে বেবি ট্যাক্সি, রিকশা ও ইজি বাইকে কয়েকবার যাত্রাবিরতি দিয়ে বেশি ভাড়ায় যাতায়াত করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শুধু সময় ও অর্থেরই অপচয় হচ্ছে না, বিড়ম্বনা বাড়ছে, পড়তে হচ্ছে নানা দুর্ঘটনায়। বিশেষ করে ছাত্রীরা কোনো যানবাহনেই স্থান পায় না। ‘সিট খালি নেই’—এই অজুহাতে ছাত্রীদের বাসে উঠতে দেওয়া হয় না। এ নিয়ে বাস কন্ডাক্টটরদের সঙ্গে প্রতিদিনই ছাত্র-ছাত্রীদের বাগিবতণ্ডা হয়।

টঙ্গী কলেজগেট, চেরাগআলী মার্কেট, সফিউদ্দিন একাডেমি মোড়, বনমালা রোড মোড়, হোসেন মার্কেট, বাস্তুহারা, সাতাইশ সড়ক মোড়, গাজীপুরা বাসস্টপেজ, স্টেশন রোড, টঙ্গী বাজার ও আব্দুল্লাহপুর  বাসস্টপেজে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৭টার পর মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না।

রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শিক্ষার্থী নুসরাত জেরিন অনন্যা জানান, টঙ্গী ও আশপাশের এলাকা থেকে বহু শিক্ষার্থী ঢাকায় পড়াশোনা করে। তাদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। সময়মতো বাস পাওয়া যায় না। একটি বাস এলে বহু লোক পিছু ছোটে। বাসে ওঠা এক মহাঝক্কি-ঝামেলা। সড়কে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশরা কোনো সহায়তা করে না। এ সড়কে বিআরটিসির দোতলা বাস আরো বেশি দেওয়া দরকার।

গাজীপুর ট্রাফিক জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সব বাস স্পেশাল, গেটলক, সিটিং সার্ভিস হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের যে অসুবিধা হচ্ছে, সে ব্যাপারে আমাদের কাছে অভিযোগ আসেনি। এলে বিষয়টি দেখা হবে।’



মন্তব্য