kalerkantho


‘ভ্যালেরি টেইলর’ সড়ক বেহাল

সাভার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘ভ্যালেরি টেইলর’ সড়ক বেহাল

সাভারের শিমুলতলা থেকে সিআরপি পর্যন্ত ‘ভ্যালেরি টেইলর’ সড়কে জলাবদ্ধতা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আজকে তো বৃষ্টি নেই, তার পরও সড়কে হাঁটুপানি। ড্রেন থেকে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় তা উপচে সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। এ সুযোগে অসচেতন কোনো কোনো বাড়িওয়ালা তাদের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের নোংরা বর্জ্য পাইপ লাগিয়ে মোটরের মাধ্যমে তুলে সড়কেই ছেড়ে দিচ্ছে। এখন সড়কটিতে চলাচলে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি এলাকায় বসবাস করাই দায় হয়ে পড়েছে।’ সাভারের শিমুলতলা থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) পর্যন্ত ‘ভ্যালেরি টেইলর’ সড়কের জলাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে এসব কথা বলেন সাভার পৌর এলাকার চাপাইন মহল্লার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম।

এলাকাবাসী জানায়, সাভার পৌর এলাকার চাপাইন মহল্লার এই সড়কটি (সিআরপি পর্যন্ত) দৈর্ঘ্যে প্রায় এক কিলোমিটার হবে। সড়কটির এক পাশে ড্রেন আছে। কিন্তু ড্রেনের পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। সড়কের পাশের বাড়ি-ঘরগুলোর দৈনন্দিন ব্যবহৃত পানি ড্রেনে এসে তা উপচে সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে হাঁটুপানি জমে যায়। এলাকাটিতে ঢোকার প্রধান এই সড়কটিতে পানি জমে থাকার কারণে এটার এখন বেহাল। পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়কটিতে পানি জমার কারণে অনেক অংশই খানাখন্দে ভরে গেছে।

এলাকার আব্দুল মজিদ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়। তখন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে পারে না। আর বৃষ্টি বন্ধ হলেও এই পানি পাঁচ-সাত দিনে সড়ক থেকে সরে না। এ কারণে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এ ছাড়া যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সড়কের পরিবেশ হয়েছে বিষময়। শিমুলতলা হয়ে সিআরপিমুখী সড়কের বেহালের কারণে প্রায়ই রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হাত-পা ভাঙছে সাধারণ যাত্রীদের। এ সড়কে পানি জমে থাকায় রিকশা-অটোরিকশাচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয় বেশি। এলাকার এই সড়কের বেহালের কারণে রাতেরবেলা চলাচল করা আরো বিপজ্জনক। কারণ সড়কে নেই সড়কবাতি। ভাড়া বেশি দিয়ে সাধারণ মানুষকে মাসের পর মাস চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কে গর্ত থাকায় অনেক সময় যানবাহন উল্টে পড়ে গেলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআরপির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান সিআরপি। দেশ-বিদেশের পক্ষাঘাতগ্রস্ত বহু রোগী এই প্রতিষ্ঠানে আসে চিকিৎসাসেবা নিতে। এদের মধ্যে অনেকেই সিআরপিতে থাকার জায়গা না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির আশপাশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকে। কিন্তু সড়কটিতে পানি জমে থাকার কারণে হুইলচেয়ারে চলাচলকারী ওই সব রোগীর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে থেকে অনেক স্বেচ্ছাসেবী আসেন সিআরপিতে। তাঁরা এই সড়কের দুরবস্থা দেখে আমাদের দেশ সম্পর্কে বিরূপ একটা মনোভাব নিয়ে ফিরে যান।’



মন্তব্য