kalerkantho


মায়ের কোলে ফিরল শিশু তামজিত

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মায়ের কোলে ফিরল শিশু তামজিত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অপহরণের দুই দিন পর মায়ের কোল ফিরে পেল ছয় মাস বয়সী শিশু তামজিত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার সকালে কালিয়াকৈরের ভাতারিয়া এলাকা থেকে শিশুটি অপহৃত হয়।

অপহৃত শিশুর পরিবার জানায়, কালিয়াকৈরের ভাতারিয়া এলাকার মোক্তার হোসেন তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামের চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাড়ি ভিটা বিক্রি করেছেন। পরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে ওঠেন মোক্তার। সেখানে গাড়ি চালিয়ে জিবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। এদিকে ভিটাবাড়ি বিক্রির পর মোক্তারের মা আমেনা বেগম চন্দ্রা ভাতারিয়া এলাকার নবীনের টেকের সামসুলের বাড়িতে ভাড়ায় থেকে ওয়ালটন কারখানায় চাকরি নেন। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে গত সোমবার বিকেলে মোক্তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাকে দেখতে আসেন। ওই দিনই সন্ধ্যায় অপরিচিত এক নারী নানা অজুহাতে মোক্তারের মায়ের ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেয়। পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে মোক্তারের স্ত্রী রোজিনা বাড়িতে রান্না করছিলেন। এ সময় আশ্রয় নেওয়া অপরিচিত ওই নারী শিশু তামজিতকে কোলে নিয়ে বাড়িতে হাঁটাহাঁটি করতে থাকে। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ওই নারী তামজিতকে নিয়ে সটকে পড়ে। বাড়ির লোকজন ছেলে তামজিতসহ ওই নারীকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। খোঁজাখুঁজি করে ছেলেকে না পেয়ে ওই দিন বিকেলে শিশুর মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডয়েরি (জিডি) করেন। এদিকে ওই নারী শিশু তামজিতকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় নিয়ে নিজের শিশু দাবি করে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পরে ওই ব্যক্তি শিশুসহ ওই নারীকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু শিশুটি কান্নাকাটি করলে ওই ব্যক্তি তাকে দুধ খাওয়াতে বলে। কিন্তু এতে ওই নারী গড়িমসি করলে তাদের সন্দেহ হয়। পরে ওই নারীকে আটকে রেখে তার কাছ থেকে বিস্তারিত বিষয় জানে এবং ফোন করে শিশুটির পরিবারকে জানায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে শিশু তামজিতকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওই নারীকে এলাকাবাসী সালিসের মাধ্যমে বিচার করে ছেড়ে দেয়।

কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন বলেন, পরিবারের লোকজন শিশু উদ্ধারের পর থানায় আসে। তবে এ ঘটনায় ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।



মন্তব্য