kalerkantho

কালোয় ভুবন ভরা

চলচ্চিত্র আর টেলিভিশন জগতের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লোব’-এর ৭৫তম আয়োজনটি হয়ে গেল ৭ জানুয়ারি। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বেভারলি হিলসের দ্য বেভারলি হিল্টন হোটেলে। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় টক শো উপস্থাপক সেথ মায়ারস। আয়োজনের বিস্তারিত জানাচ্ছেন রিদওয়ান আক্রাম

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কালোয় ভুবন ভরা

অভিনেতা-অভিনেত্রী সবাই ছিলেন কালো পোশাকে

পোশাকে প্রতিবাদ

এবারের গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসে হলিউড দুনিয়াকে পাওয়া গেল প্রতিবাদী রূপে। প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিনের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া উচিত, সেটার বাস্তব রূপ দেখা গেল এবারের অনুষ্ঠানে। ফলে গোল্ডেন গ্লোবের লাল গালিচা হয়ে যায় কালো। কেননা প্রায় সব অভিনেতা-অভিনেত্রী হাজির হয়েছিলেন কালো পোশাকে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, শুধু অভিনেত্রীরাই বোধ হয় কালো পোশাকে হাজির হবেন। কিন্তু অভিনেতারাও কালো পোশাকে এই প্রতিবাদে একাত্ম হয়েছেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন মেরিল স্ট্রিপ, টম হ্যাংকস, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ডাকোটা জনসন, নিকোল কিডম্যান, জ্যাক এফরন, ক্যাথারিন জেটা জোন্স, গ্যারি ওল্ডম্যান, হ্যালি বেরি, গ্যাল গাদতের মতো বিখ্যাত সব তারকা।

 

ছিল ব্যতিক্রম

তবে সবাই যে কালো পোশাক পরে এসেছিলেন তা কিন্তু নয়। এঁদের মধ্যে ছিলেন ব্লাংকা ব্ল্যাংকো। অপেক্ষাকৃত কম পরিচিতি এই অভিনেত্রী পরে এসেছিলেন একটি লাল পোশাক। এ ধরনের বিপরীত কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি বেশ আলোচিত। এর আগে এক অস্কার অনুষ্ঠানে তাঁর পোশাক বিভ্রাট হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে, আলোচনায় থাকার জন্য তিনি এ ধরনের কাজ করে থাকেন। শুধু তিনিই নন, তাঁর মতো এবারের অনুষ্ঠানে আরো দুজন নারীকে কালো পোশাকে দেখা যায়নি। এঁরা হচ্ছেন অভিনেত্রী জেনোবিয়া শ্রুফ এবং মডেল বারবারা মায়ার।

ইতিহাস গড়লেন আজিজ আনসারি

টানা দুই বছর ধরে মনোনয়ন পেয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পুরস্কারটা আর ঝোলায় যাচ্ছিল না। এবারও ভেবেছিলেন যথারীতি তাঁর নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে না। শেষ পর্যন্ত আজিজ আনসারির ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক ‘দ্য মাস্টার অব নান’-এর জন্য হলেন ‘সেরা অভিনেতা-টিভি সিরিজ’। আর এর মধ্যে একটা ইতিহাসেরও জন্ম দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই অভিনেতা। প্রথম কোনো এশিয়ান-আমেরিকান হিসেবে জিতলেন গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার।

 

ছিলেন ‘স্পার্টাকাস’ও

তাঁকে মঞ্চে দেখে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল। আর জানাবেই বা না কেন? কার্ক ডগলাসের মতো কজন অভিনেতা আছেন যে এই ১০১ বছর বয়সে পুরস্কার দিতে মঞ্চে উঠেছেন? ‘স্পার্টাকাস’ অভিনেতার সঙ্গে ছিলেন তাঁর পুত্রবধূ অভিনেত্রী ক্যাথারিন জেটা জোন্স। কার্কের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্তাকারে প্রদর্শিত হয় বড় পর্দায়। এরপর তিনি ‘থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি’র চিত্রনাট্যের জন্য ‘সেরা চিত্রনাট্যে’র পুরস্কার তুলে দেন মার্টিন ম্যাকডোনার হাতে।

 

প্রেসিডেন্ট অপরাহ

এবারের গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের আজীবন সম্মাননা ‘সেসেল বি. ডিমেল’ নিতে মঞ্চে উঠেছিলেন। পুরস্কার হাতে নিয়ে যথারীতি বত্তৃদ্ধতা করছিলেন। সেই বক্তব্য এতটা সাড়া ফেলে দিল যে নেটিজেনরা এরই মধ্যে দাবি তুলেছেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অপরাহ উইফ্রেকেই দেখতে চান। শুধু নেটিজেনরাই নয়, উপস্থিত দর্শকরা তিনবার দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যকে সম্মান জানায়। অপরাহ কী বলেছিলেন নিজের সেই বক্তব্যে? তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই বিশ্বাস করা হতো, নারীরা ক্ষমতাবান পুরুষদের বিরুদ্ধে সত্যটা বলার সাহস পায় না। কিন্তু সেই সব পুরুষের সময় শেষ। যে মেয়েরা এই অনুষ্ঠানটা দেখছে তাদের বলতে চাই, দিগন্তে একটা নতুন দিনের শুরু দেখা যাচ্ছে। সেই নতুন দিনের ভোর অবশ্যই বাস্তবে দেখা যাবে। কেননা আজ এখানে উপস্থিত এমন অনেক মহৎ নারী আর পুরুষ আছেন, যাঁরা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন।’

তাঁর এই বক্তব্যের পর নেটিজেনরা আনন্দ আর কান্নায় ভেঙে পড়েন।

একই সঙ্গে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব পেলেন অপরাহ।

 

গ্যারি ওল্ডম্যানের প্রথম

চার দশকের ফিল্মি ক্যারিয়ার, কিন্তু একটি গোল্ডেন গ্লোব নেই। সেই হতাশার শেষ হলো। ৭৫তম আসরে গ্যারি ওল্ডম্যানের ঝোলায় ঢুকল প্রথম সোনার গ্লোব। ‘ডার্কেস্ট আওয়ার’ ছবিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের চরিত্রে অভিনয় করে জিতে নিলেন ‘সেরা অভিনেতা-ড্রামা’ পুরস্কার।

 

টম হ্যাংকস যখন ওয়েটার

হতে পারেন তিনি হলিউডের বড় তারকা, কিন্তু ওয়েটার হিসেবেও যে কম যান না তা-ও বুঝিয়ে দিলেন টম হ্যাংকস। অ্যাওয়ার্ডস পার্টিতে কয়েকজন বন্ধুর জন্য নিজে থেকেই ট্রেতে করে পানীয় পরিবেশন করলেন টম। সেই বন্ধুদের মধ্যে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গও ছিলেন।

 

 

টিভিতে সেরা ‘বিগ লিটল লায়ারস’

এবারের আসরের সবচেয়ে বেশি শাখায় মনোনয়ন (সাতটি) পেয়েছিল ‘দ্য শেপ অব ওয়াটার’ ছবিটি। কিন্তু সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মাত্র দুটি পুরস্কার নিয়ে। তবে এর চেয়ে একটি কম শাখায় মনোনয়ন পেলেও ‘থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি’ জিতেছে চারটি পুরস্কার। একই কথা খাটে এইচবিও চ্যানেলের টিভি ধারাবাহিক ‘বিগ লিটল লায়ারস’-এর ক্ষেত্রে। এটি মাত্র চারটি শাখায় মনোনয়ন পেয়েই জিতেছে সব কটি পুরস্কার। এসবের মধ্যে আছে ‘সেরা অভিনেত্রী-মিনি সিরিজ বা টেলিভিশন ফিল্ম’, ‘সেরা মিনি সিরিজ বা টেলিভিশন ফিল্ম’, ‘সেরা সহঅভিনেতা-মিনি সিরিজ বা টেলিভিশন ফিল্ম’ এবং ‘সেরা সহ-অভিনেত্রী-মিনি সিরিজ বা টেলিভিশন ফিল্ম’। এই ধারাবাহিকের জন্য বড় পর্দার অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান পেয়েছেন ‘সেরা অভিনেত্রী-মিনি সিরিজ বা টেলিভিশন ফিল্ম’ পুরস্কারটি। তবে ধারাবাহিকে ‘সেরা ড্রামা’ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধের কাহিনি তৈরি করা সিরিজ ‘দ্য হ্যান্ডমেইড’স টেল’। আর ধারাবাহিকে ‘সেরা মিউজিক্যাল বা কমেডি’ হয়েছে ‘দ্য মার্ভেলাস মিসেস মাইজল’।


মন্তব্য