kalerkantho


নতুন ছবি পুরনো লরেন্স

এই ছবির শুটিং করার সময়ই পরিচালকের প্রেমে পড়েছিলেন জেনিফার লরেন্স। তবে ছবি মুক্তির আগে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা উধাও—লরেন্সের অভিনয়শৈলীর প্রশংসা সবার মুখে মুখে। আগামীকাল ‘মাদার’ মুক্তির আগে অভিনেত্রীকে নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নতুন ছবি পুরনো লরেন্স

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেই তিনি, সম্পর্ক নিয়ে খুব বেশি গুজবও রটে না। মোটকথা, নতুন ছবি না এলে তাঁর দেখা মেলা ভার।

তবু অভিনয়ের গুণে সব সময়ই আলোচনায় থাকেন। তবে এবারের ‘মাদার’ জেনিফার লরেন্সের কাছে বিশেষ কিছু। কারণ বছরখানেক আগে এই ছবির শুটিংয়ের সময়ই পরিচালক ড্যারেন অ্যারনফোস্কির প্রেমে পড়েন। তবে লরেন্স এসব ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে গোপনীয়তার ধার ধারেন না। দুজনের গুজব ডালপালা মেলার আগেই ঘটনা কার্যত স্বীকার করে নেন। বরাবরই এমন ব্যতিক্রম তিনি। সে কারণেই হয়তো এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী বলা হয় তাঁকে। কি অভিনয় কি ব্যক্তিজীবন, বারবারই চমকে দেন অভিনেত্রী। এই যেমন কয়েক দিন আগেই ভক্তদের প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁর সঙ্গে মাতাল হওয়ার! রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণার জন্য তহবিল সংগ্রহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী। তাদের হয়ে অর্থ সংগ্রহের এই অভিনব উপায় লরেন্সই আবিষ্কার করেছেন, ‘সবচেয়ে বেশি অর্থ যারা দান করবে তাদের আমার সঙ্গে মাতাল হওয়ার সুযোগ হবে। আমি নিশ্চিত, সবার জন্যই এটা স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা হবে। ’

২০১১ সাল থেকে ‘এক্স-মেন’ সিরিজ দিয়ে মূলত লরেন্সের ক্যারিয়ারের উল্লম্ফন। এর পর থেকে পাঁচ বছরে করেছেন গোটা পনেরো ছবি, যার মধ্যে এক ডজনই ব্যবসাসফল। এর মধ্যে জনপ্রিয় ‘এক্স-মেন’ আর ‘হাঙ্গার গেমস’ সিরিজ যেমন আছে, তেমনি আছে ‘আমেরিকান হাসল’ আর ‘সিলভার লাইনিংস প্লেবুক’-এর মতো ছবিও। এই পাঁচ বছরের ক্যারিয়ার দিয়ে দুনিয়াজোড়া তরুণ অভিনেত্রীদের উদাহরণ হয়ে উঠেছেন লরেন্স। বলিউডের আলিয়া ভাট থেকে সোনম কাপুর—সবাই লরেন্সের মতো একই সঙ্গে ব্যবসাসফল আর সমালোচকদের প্রিয় ছবির অভিনেত্রী হতে চান। তবে কাজটা সহজ নয়, সবাই তো আর লরেন্স নন। তবে খোদ লরেন্স অবশ্য বরাবরই বিনয়ী। নিজের অভিনয় প্রতিভাকে দেখেন সহজাত ব্যাপার হিসেবেই, ‘আমি বরাবরই চিকিত্সক হতে চেয়েছিলাম। পড়ালেখায় ভালো ছিলাম। বাড়ির সবাই চাইত আমি ডাক্তার হই। কিন্তু এক কাস্টিং এজেন্ট রাস্তায় দেখে প্রায় জোর করেই অডিশন দিতে নিয়ে যায়। অডিশনে আমার মতো নবাগতের অভিনয় দেখে ওরা অভিভূত হয়। এর পর থেকেই আমার আর কিছুতে নিয়ন্ত্রণ নেই, কী থেকে যে কী হয়ে গেল! যেমনটা নিয়ন্ত্রণ থাকে না অভিনয়ের সময়ও। ’

‘হাঙ্গার গেমস’-এ তাঁর করা কাটনিস এভারডেন চরিত্রটি দুনিয়াজুড়ে জনপ্রিয় হলেও অভিনেত্রীর নিজের বেশি পছন্দ ২০১০ সালে ‘উইন্টারস বোন’-এর রি চরিত্রটি। মূলত এই ছবি দিয়েই নজর কেড়েছিলেন ১৯ বছরের লরেন্স।

অভিনয় ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বর্ণবাদ, লিঙ্গ অসমতা, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়ে সব সময়ই সরব তিনি। তাঁর জেনিফার লরেন্স ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। জলবায়ুর পরিবর্তনে আমেরিকার ভূমিকার কট্টর সমালোচকও তিনি। ‘আমার করুণা হয় আমেরিকার জন্য। অদ্ভুত এক বিভ্রান্তির মধ্যে বাস করছি সবাই। দুনিয়াজুড়ে এত সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়, সবই প্রকৃতির প্রতিশোধ। মার্কিন নেতারা এর দায় এড়াতে পারবে না কখনোই। ’


মন্তব্য