kalerkantho

দলছুট তুহিন

‘আমি তানযীর তুহিন, ব্যক্তিগত কারণে শিরোনামহীন ছাড়ছি, কিন্তু গান নয়’—আচমকা এমন ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ভক্তদের চোখ কপালে! কেন? কী হলো? বলেছেন তুহিন। লিখেছেন ইসমাত মুমু

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



দলছুট তুহিন

তাঁর হার্টের রক্তনালিতে ব্লকেজ ধরা পড়েছে। কিছুদিন আগেই হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় এসেছেন।

শারীরিকভাবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। তবু মনের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারলেন না। কেন এমন সিদ্ধান্ত? “অসুস্থ হওয়ার পর চিকিত্সকরা আমাকে এক মাস রেস্ট নিতে বলেছেন। এই সময়ের মধ্যে পারফর্ম করা আমার পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু শিরোনামহীনের অন্য সদস্যরা শো করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে। মাত্র একটা মাস ওরা আমার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে পারল না। ১৭ বছর একসঙ্গে পথ চলছি। এই এক মাসে আমার জন্য কয়টা শোই বা মিস হতো! ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ বা ভালোবাসা দেখানোর প্রয়োজনও বোধ করল না, ব্যান্ডে নতুন ভোকাল নিয়ে নিল। আমাকে ‘নাই’ করে দিল! ওরা কী মনে করছিল? আমি কি আর পারফর্ম করতে পারব না?” আবেগী কণ্ঠে বললেন তুহিন।

নতুন ভোকাল নেওয়ার আগে নাকি আপনার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে? এমনটাই বলছেন আপনার শিরোনামহীনের সহকর্মীরা। তুহিন বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা বলার আগেই ওরা ভোকাল রেডি করে রেখেছে। তারা নাকি গুলশান-বনানীতে করপোরেট শো করবে। সেখান থেকে প্রচুর টাকা-পয়সা আসবে। তাই ইংরেজি গান জানা নতুন ভোকাল ঠিক করেছে। সুস্থ হয়ে আমি ব্যান্ডে ফেরার পর সেই ভোকালও নাকি দলে থাকবে। তার সঙ্গে আমাকে স্টেজ শেয়ার করতে হবে। এটা কখনোই সম্ভব না। সে ইংরেজি গাইবে, আমি তো ভাই ইংরেজি জানা লোক না, করপোরেট দুনিয়ার লোকও আমি না। বাংলা গান গাওয়ার চেষ্টা করি মাত্র। এক শিরোনামহীনের মধ্যে এত রং আমি দেখতে পারব না। ’

তুহিনের দল ছেড়ে যাওয়ার খবরে ভক্ত-শ্রোতাদের হূদয়ে রীতিমতো তোলপাড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এটাকে দুঃখজনক বলছেন। অনেকেই চান মীমাংসা। কেউ কেউ আশায় আছেন, আবারও হয়তো তুহিনকে দেখা যাবে শিরোনামহীনে। তুহিন বলেন, ‘শ্রোতারাই আমার শক্তি। বিচারের ভার তাঁদের হাতেই দিলাম। আমরা তো একটা পরিবার হয়েই ছিলাম। যেখানে আমার জন্য সম্মান বরাদ্দ নেই, সেখানে ফেরার প্রশ্নই আসে না। তবে গান আমি গাইবই। কথা দিচ্ছি, শিগগিরই নতুন রূপে ফিরব, শিরোনামহীনে আর নয়। ’

১৯৯৬ সালে গড়া ব্যান্ড শিরোনামহীনে তুহিন যুক্ত হন ২০০০ সালে। ব্যান্ডটি জনপ্রিয় হয় তখন থেকেই। দলের বেশির ভাগ গানেই কণ্ঠ দিয়েছেন তুহিন, সুর ও কথা জিয়ার। এবার যখন ‘বিচ্ছেদ’ চাইছেন তুহিন, তখন দলের গানগুলোর কী হবে? ‘আইনগতভাবে ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত শিরোনামহীনের শো বন্ধ থাকতে হবে। আমার লেখা ও সুর করা গানও আছে। তবে আমি চাইব না, এই ব্যান্ডের কেউ আমার গান করুক। আগে এসবের আইনগতভাবে একটা সুরাহা হতে হবে। তারপর যা হওয়ার হবে’—বললেন তুহিন।


মন্তব্য