kalerkantho

দুর্ধর্ষ তাসকিন

‘ঢাকা অ্যাটাক’ দেখে হল থেকে বেরিয়ে দর্শকের মুখে একটাই কথা, কে এই জিসান? অনেক তারকার ভিড়ে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন ভিলেনরূপী তাসকিন রহমান। লিখেছেন মাহতাব হোসেন

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



দুর্ধর্ষ তাসকিন

একে একে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা ধ্বংস করার ছক আঁকেন জিসান, বিশ্বের কাছে যিনি নিজের একক ক্ষমতা প্রকাশ করতে চান। তাঁর নিষ্ঠুর অভিব্যক্তি, ভয়ানক আক্রোশ দর্শকমনে শুধু আতঙ্কই ছড়ায়নি, মুগ্ধতাও ছড়িয়েছে।

‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর জিসানের আসল নাম তাসকিন রহমান। ছবির প্রিমিয়ারে নামি-দামি অভিনেতার ভিড়ে সবাই খুঁজেছেন এই অভিনেতাকেই। অস্ট্রেলিয়ায় বসে সেসব শুনলেন তাসকিন। তবে এটি তাসকিনের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি নয়। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে ‘হূদয় আমার’-এ শিশুশিল্পী হয়েছিলেন। ছবির নায়ক আমিন খানের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অবশ্য ‘হূদয় আমার’-এর আগেও অভিনয় করেছেন। প্রথম অভিনয় করেছেন আশির দশকের শেষ ভাগে হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে, নাটক ‘শীতের পাখি’তে। পরিণত বয়সে অভিনয় করেছেন প্রায় ১০টি নাটকে।

‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ কিভাবে যুক্ত হলেন? তাসকিন বলেন, ‘কণ্ঠশিল্পী অদিত ভাই ছবিটির বিষয়ে বলেছিলেন। দিলু রোডের থ্রি হুইলার অফিসে যাই। সেখানে দীপঙ্কর দীপনদা আমাকে গল্প পড়ে শোনান। একটা সিকোয়েন্স দেখিয়ে বলেন সেটা ক্যামেরার সামনে করে দেখাতে। দৃশ্যটা ছিল পায়ে গুলি লাগার পর আমার প্রতিক্রিয়া। করে দেখালাম। দীপনদা বললেন, দারুণ হয়েছে। সেদিনই আমাকে চূড়ান্ত করেন পরিচালক। ’

ছবিতে তাসকিনের চরিত্রটা একটা আইসোলেটেড চরিত্র, একাকিত্বে বেড়ে ওঠা কিশোরের ভয়ংকর হয়ে ওঠার গল্প। ‘আমি খুবই প্রফুল্লচিত্তের মানুষ। যাঁরা ছবিতে আমাকে দেখেছেন, বাস্তবের আমার সঙ্গে মেলাতে গিয়ে খটকা লাগছে তাঁদের। চিত্রনাট্য পড়ে বুঝলাম, চরিত্রটা ভীষণ কঠিন। দুই মাস নিজেকে একেবারে আলাদা ও একা করে ফেললাম। কারো সঙ্গে মিশি না, একা ঘরেই থাকি। যখন শুটিং শুরু হলো তখন বুঝলাম, আমি আসলেই আইসোলেটেড হয়ে গেছি। একটা দৃশ্য আছে, টিভিতে খবর দেখে রিমোট চেপে বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টা করছি, কিন্তু হচ্ছে না। সেই সময় নিজেকে ক্রুদ্ধ করে তুলতে হবে। দৃশ্যটা করতে গিয়ে হাতের মুঠোয় চেপে জ্বলন্ত সিগারেট নিভিয়ে ফেলতে হয়। করার পর দুই সপ্তাহ হাতে ফোস্কা নিয়ে থাকতে হলো’—বললেন তাসকিন।

এই ছবির মনে রাখার মতো ও ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের কথা বলতে গিয়ে তাসকিন বলেন, ‘নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে আমাকে যখন সোয়াত বাহিনি ঘিরে ফেলে, দৃশ্যটা কঠিন ছিল। ভারী অস্ত্রের মুখে ঠুনকো অভিনয় ছবিকে ম্লান করে দিতে পারে, এ জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। ঝুঁকি ছিল, ভবনের একেবারে কিনারে ছিলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে নিজেকে সামলে হুংকার দেওয়া আর শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সোয়াত টিম লিডার এ বি এম সুমনকে কবজা করে পালিয়ে যেতে হবে। দৃশ্যটা দর্শকেরও পছন্দ হয়েছে। ’

‘ঢাকা অ্যাটাক’ মুক্তির আগে তাসকিনের নাম ও ছবি কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। কেন হয়নি? ‘দীপনদা এটা চমক হিসেবে রেখেছিলেন, যেন দর্শক হলে গিয়ে চমকে যায়। আমাকেও এ বিষয়ে বলতে মানা করা হয়েছিল। দর্শক চমকে যাবে ভেবেছিলাম, তবে এতটা চমকাবে, এতটা প্রতিক্রিয়া পাব, স্বপ্নেও ভাবিনি’—বলেন তাসকিন।

ঢাকার গুলশানে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শুধু অভিনয়ই নয়, নানা গুণের অধিকারী তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ায় অনার্স করেছেন ফরেন্সিক সায়েন্সের ওপর, মাস্টার্স বিজনেস ম্যানেজমেন্টে। এখন সিডনিতে গবেষণা করছেন নিওরো সায়েন্স নিয়ে। একই সঙ্গে চাকরি করছেন অস্ট্রেলিয়া সরকারের অধীনে কারেকটিভ সার্ভিস ডিভিশনে। ছবি আঁকতে পারেন, পারেন গাইতেও। ২০১৫ সালে সিডনিতে তাঁর তৈলচিত্রের প্রদর্শনী হয়েছে। আরেকটি প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর পর আরো কয়েকটি ছবি মুক্তির জন্য প্রস্তুত—‘আদি’, ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ও ‘মৃত্যুপুরী’।

তাসকিনের বাবা আনিসুর রহমান স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নামকরা গীতিকার। টিভি নাটক, চলচ্চিত্র ও মিউজিক ভিডিও নির্মাতা তানিম রহমান অংশু তাঁর ভাই। তবে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করা কি সম্ভব? ‘সম্ভব। চরিত্র পছন্দ হলে দেশে এসে শুটিং করব’—বললেন তাসকিন।


মন্তব্য