kalerkantho

নিজেই হাল ধরলাম

অভিনয়ের পাশাপাশি ছবি প্রযোজনা করেছেন। এবার পরিচালনায় নামার ঘোষণা দিলেন ‘চলচ্চিত্র পরিবার’-এর আহ্বায়ক। এই প্রসঙ্গ ছাড়াও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নায়ক ফারুকের সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



নিজেই হাল ধরলাম

হঠাত্ ছবি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলেন! তা-ও আবার একসঙ্গে তিন ছবি...
ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো ছবির খরা যাচ্ছে। বেশির ভাগ ছবিতেই গল্প থাকে না।

আমাদের  সময়ের মতো সামাজিক, রোমান্টিক বা পারিবারিক সেন্টিমেন্ট নিয়ে ছবি হচ্ছে না। এ কারণে সিদ্ধান্ত নিলাম নিজেই হাল ধরি। যে করেই হোক, দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে হবে।
ছবিগুলোর গল্প, সংলাপ, গান কারা করবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
প্রতিটির গল্প ভেবে রেখেছি। চিত্রনাট্যও আমার। তবে সংলাপ লিখবেন আমজাদ হোসেন। গান লিখবেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। সুরের বিষয়ে আলাউদ্দিন আলী, আলম খান ও শেখ সাদী খানের সঙ্গে কথা বলব। তাঁরা রাজি হলে তো কথাই নেই।   মোট কথা আমার ছবিতে গুণীজনদের সমন্বয়  ঘটাতে চাই।

শুটিংয়ে যাবেন কবে থেকে?
ইচ্ছা তো শিগগিরই শুটিং শুরু করার। কিন্তু সব কিছু গুছিয়ে উঠতে সময় লাগছে। নায়ক-নায়িকাদের শিডিউল মেলানো, ইউনিট তৈরি করা, লোকেশন বাছাই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আশা করছি, নতুন বছরের শুরুতে প্রথম ছবির শুটিং করতে পারব।

নায়ক-নায়িকা হবেন কারা?
মৌলিক গল্পের ছবি বানাব। এখানে নায়ক-নায়িকা নয়, অভিনেতা-অভিনেত্রীর প্রয়োজন। দরকার পড়লে নতুনদের নিয়ে কাজ করব। তবে অভিনয়টা ঠিকমতো করতে হবে। তা ছাড়া স্টার নিয়ে কাজ করার তেমন ইচ্ছা নেই। হয়তো চরিত্রাভিনেতাদের কয়েকজন পুরনো থাকবেন।

‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ফোরাম’ নামে নতুন সংগঠন হয়েছে...
আমি বুঝে উঠতে পারলাম না ‘চলচ্চিত্র পরিবার’ থাকতে আবার কেন নতুন সংগঠন তৈরি করতে হলো। আর ওই সংগঠনের নেতৃত্বে যাঁরা আছেন তাঁরা চলচ্চিত্রের জন্য কতটুকু অবদান রেখেছেন তাও আমার জানা নেই। আমি বরাবরই বলছি, ভুল-বোঝাবুঝি হতেই পারে, আসুন, সবাই মিলে সেটা শুধরে নিই। তাঁরা আমার আহ্বানে সাড়া দিলেন না, উল্টো ভেদাভেদ সৃষ্টি করে বসলেন।

চলচ্চিত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে একতা ফিরিয়ে আনতে নতুন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কি?
আমি তো সব সময়ই চাই সবাই মিলেমিশে কাজ করুক। ঠুনকো বিষয়গুলো নিয়ে কেন তাঁরা মান-অভিমান করছে বুঝতে পারছি না। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলেছিলাম, শাকিব খান এফডিসিতে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বললেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু সে উল্টো আরেকটি সংগঠন তৈরি করে ফেলল। এতে কি চলচ্চিত্রের উন্নতি হচ্ছে? আমি এখনো সব কলাকুশলীকে অনুরোধ করব, মান-অভিমান ভুলে একসঙ্গে কাজ করুন। এতে চলচ্চিত্রের মঙ্গল হবে।

৮ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিবারের বৈঠক হয়েছে। সেখানে কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
চলচ্চিত্র পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। সেটা দূর করার জন্যই একটা গেট টুগেদারের আয়োজন করেছিলাম। এখন সবাই একত্র হয়েছি। দেশীয় ছবির উন্নয়নে হল মালিকরাও প্রয়োজনে ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অনেক প্রেক্ষাগৃহ মালিক ফের ছবি প্রযোজনায় ফেরার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন।

শোনা যাচ্ছে, এবার সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন?
স্কুলজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বড় হয়েছি। ছয় দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। সে সময় ৩৭টি মামলা খাওয়ার রেকর্ডও আমার আছে। রাজনীতি আমার প্রথম ভালোবাসা। মাঝখানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে খুব একটা সক্রিয় থাকতে পারিনি। তবে আবার শুরু করেছি। আশা করছি, গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করার নমিনেশন পাব।

ঘোড়াশালে ‘জলসাঘর’ নামে আপনার একটা প্রেক্ষাগৃহ ছিল। বহুদিন ধরে সেটি বন্ধ। নতুন করে চালু করার কথা ভাবছেন?
ইচ্ছা আছে। শুধু ‘জলসাঘর’ না, আরো কয়েকটি নতুন প্রেক্ষাগৃহ করব। তবে তার আগে ছবি নির্মাণ বাড়াতে হবে। এখন বছরে ৪০-৪৫টি ছবি মুক্তি পায়। এর মধ্যে আবার আট-দশটি প্রেক্ষাগৃহে নয়, টেলিভিশনে মুক্তি দেওয়া হয়। এত কমসংখ্যক ছবি দিয়ে সারা বছর প্রেক্ষাগৃহ চালানো সম্ভব নয়। অবশ্য আমি আশাবাদী, শিগগির ছবি নির্মাণের হিড়িক পড়বে। সরকারও ইন্ডাস্ট্রির দিকে  নজর দিয়েছে। এবার চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরবেই।


মন্তব্য