kalerkantho


ভুলে যেতে চাই

ক্যান্সার শব্দটা খুব ভয়ের

জীবন চলার পথে কত ঘটনা, কত স্মৃতি! সব স্মৃতিই আনন্দের হয় না। এমন অনেক স্মৃতি থাকে, যা আমরা ভুলে যেতে চাই। মডেল-অভিনেত্রী নাদিয়া খানম বলেন তেমনই স্মৃতির কথা

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ক্যান্সার শব্দটা খুব ভয়ের

নানা ও দুলাভাই মারা যাওয়াটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। এগুলো ভুলে যেতে চাইলেও পারি না।

আপনজন হারানোটা কষ্টের। কিন্তু এই দুজন আমার খুব প্রিয় মানুষ। তাদের হারানোর স্মৃতি ভোলা অসম্ভব। তবে ভুলে থাকতে পারলে ভালো লাগত।
দুজনই মারা গেছেন মস্তিষ্কের ক্যান্সারে। ক্যান্সার শব্দটা আমার কাছে খুব ভয়ের। এই শব্দ শুনলেই ভেতরটা কেঁপে ওঠে। তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়। নানাকে ঘিরে অনেক স্মৃতি, কোনোটাই ভোলা সম্ভব নয়। নানা থাকতেন সাভারে। প্রায়ই আমাদের বাসায় আসতেন। বাসায় এলে আমার জন্য চকোলেট নিয়ে আসতেন। যাওয়ার সময় হাতের মুঠোয় গুঁজে দিতেন কিছু টাকা। বলতেন এইটা তোর হাত খরচ। না নিতে চাইলেও জোর করে দিতেন। আমাকে ডাকতেন ‘ম্যাডাম’। কিছু দরকার হলেই বলতেন, ‘ম্যাডাম এইটা দিয়ে যান। ’ সেই ডাক ভোলার নয়। নানা মারা গেছেন চার বছর হয়েছে।
দুলাভাই মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। আমার ফুফাতো বোনের স্বামী। তাঁর মস্তিষ্কে আগে টিউমার ধরা পড়ে, পরে ক্যান্সার। তাঁর সঙ্গের স্মৃতিগুলোও ভোলার নয়। দুলাভাইকে আমি ‘পাপা’ বলে ডাকতাম। জীবনের প্রথম উপার্জনের টাকায় তাঁকে ‘পিজা ইন’-এ খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি বললেন, ‘যাক, আমার মেয়ে বড় হয়ে গেছে। ও আমাকে খাওয়াচ্ছে। ’ ওইটাই ছিল ওনাকে দেওয়া আমার প্রথম এবং শেষ ট্রিট। উনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। পাপার মৃত্যুর পর ‘পিজা ইন’-এ যেতে পারি না। তাঁর কথা মনে পড়ে যায়। ওনার সঙ্গে খুব ঘুরতাম। সেসব স্মৃতি শুধু কষ্টই দেয়। ভুলে যেতে চাইলেও তো ভোলা সম্ভব নয়।


মন্তব্য