kalerkantho

আবার আতিফ

হিন্দি ‘তেরে বিন’ ও ‘পেহেলি নজর মে’র মতো জনপ্রিয় গানের গায়ক আতিফ আসলাম আবারও আলোচনায় ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ছবির ‘দিল দিয়া গ্যাল্লা’ এবং ‘জুম’ ছবির ‘যব কয়ি বাত’ গান দুটি নতুন করে গেয়ে। লিখেছেন সজল সরকার

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আবার আতিফ

পাকিস্তানি গায়ক হয়েও ভারতীয় সিনেমায় একের পর এক জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়ে গেছেন। শুধু পাকিস্তান কিংবা ভারতে নয়, উপমহাদেশ ছাড়িয়ে সারা বিশ্বেই খ্যাতি রয়েছে আতিফ আসলামের। সালমান-ক্যাটরিনা অভিনীত ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ছবিতে আতিফের গাওয়া ‘দিল দিয়া গ্যাল্লা’ এখন আলোচনার শীর্ষে। জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক জুটি বিশাল-শেখরের করা গানটি দুই সপ্তাহ ধরেই মির্চি মিউজিক টপ চার্টের এক নম্বরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে নব্বইয়ের দশকে ‘জুম’ ছবিতে কুমার শানু ও সাধনা সরগমের গাওয়া ‘যব কয়ি বাত বিগার যায়ে’ গানটি নতুন করে গেয়ে আতিফ আরো একবার ইউটিউব তারকা বনে গেলেন। শার্লি সেটিয়া ও ডিজে চিতাসকে নিয়ে আতিফের গাওয়া ‘যব কয়ি বাত’ ইউটিউবে প্রকাশ পায় ৫ ফেব্রুয়ারি। প্রকাশের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই অনলাইনে এর দর্শক ছিল এক কোটির ওপরে! এবং গানটি ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে প্রথম স্থান লাভ করে।

মেধাবী এই সংগীতশিল্পী হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবির পাশাপাশি বাংলা ভাষায়ও গেয়েছেন। এরই মধ্যে ভারতীয় বাংলা ছবিতে শোনা গেছে তাঁর কণ্ঠ। মাস দুয়েক আগে মুক্তি পাওয়া দেব ও কোয়েল মল্লিক অভিনীত ‘ককপিট’-এ তাঁর গাওয়া ‘মিঠে আলো’ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলা ভাষা না জেনেও গান গাওয়াটা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানিয়েছেন। নিজ দেশের সংবাদমাধ্যম ডনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ হলেও আমি তা নিতে ভালোবাসি। প্রথমে আমাকে গানটির বিষয়বস্তু বুঝতে হয়েছে। তারপর শিখতে হয়েছে নিখুঁত উচ্চারণ। এ ক্ষেত্রে বাংলাভাষী দুই বন্ধু আমাকে খুব সাহায্য করেছে।’

১৯৮৩ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন আতিফ আসলাম। কম্পিউটারে পড়াশোনা করলেও মনটা ততটা যান্ত্রিক হয়ে ওঠেনি কখনো। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কয়েক বছর নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছিলেন ক্রিকেটের মধ্যে। পরে নাটক, সিনেমা ও গানের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। ২০১১ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘বল’-এ প্রথম অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি তেমন আলোচিত হয়নি। তবে চলচ্চিত্রে গান গেয়ে সাফল্য পেতে সময় লাগেনি আতিফের।

গায়ক আতিফের ক্যারিয়ার শুরু অবশ্য ২০০৪ সালে ‘জলপরি’ অ্যালবাম দিয়ে। এর পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ভাগ্য খুলে যায় পরের বছরই! ভারতের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মহেশ ভাট তাঁর ‘জেহের’ ছবিতে প্লেব্যাকের জন্য আতিফকে আমন্ত্রণ জানান। ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘ও লামহে’ এখনো বাজতে শোনা যায়। বলিউড প্লেব্যাকে নিয়মিত হন তখন থেকে। ক্যারিয়ারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ডাক পড়তে থাকে। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে প্রথম একক কনসার্ট করেন। পরে ২০১০ সালে নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, ২০১১ সালে কানাডা এবং ২০১২ সালে ব্যাংককে শো করেন।

২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হিন্দি ছবিতে নিয়মিত প্লেব্যাক করে যাচ্ছেন। ২০০৬ সালে ‘বাস এক পল’ ছবির ‘তেরে বিন’, ২০০৮ সালে ‘রেস’-এর ‘পেহেলি নজর মে’, ২০১০ সালে ‘প্রিন্স’-এর ‘তেরে লিয়ে’, ২০১২ সালে ‘তেরে নাল লাভ হো গায়া’র ‘পিয়া ও রে পিয়া’, ২০১৩ সালে ‘জয়ন্ত ভাই কি লাভ স্টোরি’র ‘দিল না জানে কিউ’, ২০১৫ সালে ‘বদলাপুর’-এর ‘জিনা জিনা’ এবং গত বছর ‘হিন্দি মিডিয়াম’-এ গাওয়া ‘হুর’ আতিফ আসলামের উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় গান। একক অ্যালবামের মধ্যে ‘জলপরি’, ‘দুরি’ ও ‘মেরি কাহানি’ অন্যতম।


মন্তব্য