kalerkantho

বিয়ের পর

সম্প্রতি বিয়ে করেছেন ছোট পর্দার দুই অভিনেতা—ইরেশ যাকের ও তৌসিফ মাহবুব। বিয়ের পরের জীবনটা কেমন? কী কী বদল এসেছে জীবনে?

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিয়ের পর

নিজের বিয়েতে আস্ত খাসির রোস্টের সামনে বর ইরেশ যাকের

নিয়মের মধ্যে থাকতে ভালো লাগছে

ইরেশ যাকের

সবে বিয়ে হলো তো এখন অনেক বেশি ‘পরিবর্তন’। এই পরিবর্তনটা হয়তো ধীরে ধীরে থাকবে না। যেমন—এখন সকালে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না। অথচ বিয়ের আগের দিন পর্যন্ত আমি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেছি। শুটিং থাকলে তো কথাই নেই। অফিস বলুন আর শুটিং স্পট—কোনোটার সময়ই তো আমার হাতে নেই। কেউ না কেউ বেঁধে দেয়। সেগুলো মেনে চলতে হয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর কেমন যেন অনেক কিছু মানতে ইচ্ছে করে না। নতুন বউ সেসব নিয়মে আনতে চেষ্টা করে। একটু নিয়মের মধ্যে থাকতে এখন ভালো লাগছে। আগে যেমন আম্মা সকালে ঘুম থেকে উঠাত। তখন বলতাম, আম্মা, আরেকটু ঘুমাই। যখন থেকে আম্মা ডাকাডাকি বন্ধ করে দিয়েছে তখন থেকে আবার নিয়ম করে ওঠা হতো। বিয়ের পর এখন বউ সকালে উঠে অফিসে যায়। সে উঠিয়ে দেয়, এ জন্য আমার আর উঠতে ইচ্ছে করে না।

আগে মাঝেমধ্যে একা মনে হতো। সব কথা তো আর মা-বাবার সঙ্গে বলা যায় না। এখন সব কথা শেয়ার করার মতো একটা বন্ধু মিলেছে। গত বছর ভ্যালেন্টাইনস ডে মা-বাবার সঙ্গে কাটিয়েছি। এ বছর মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি সবাই মিলে একসঙ্গে কাটাব। বলা যায় এটাও একটা পরিবর্তন। এখন তো সবকিছুই নতুন নতুন। পোশাকটা একটু গুছিয়ে পরার চেষ্টা করি। মা-বাবা যত দিন এগুলো নিয়মিত খেয়াল করতেন, তত দিন ঠিকঠাক ছিলাম। একটা সময় অগোছালো হয়ে যাই। বউ এসে আবার আমাকে ঠিক করছে। আগে কাজ ছাড়া বাইরে খুব বেশি বের হতে ইচ্ছে করত না। এখন তো কাজে-অকাজে বউকে নিয়ে বের হয়ে পড়ি।


তৌসিফকে বরের বেশে সাজিয়ে দিচ্ছেন দুই বন্ধু সাফা কবির ও টয়া

নিজেকে অনেক দায়িত্ববান মনে হচ্ছে

 

তৌসিফ মাহবুব

 

প্রেম করে বিয়ে, সেটা তো সবাই জানে। একে অপরের পছন্দ অনেক দিন ধরেই জানি। আর বিয়ের প্ল্যানিংও তো আজকের নয়। বিয়ের পর প্রথম সপ্তাহ কিভাবে কাটাব তার পরিকল্পনা করে রেখেছি এক বছর আগে। সেভাবেই চলছি। পরিবর্তন আস্তে আস্তে টের পাব। এখন যেটা হচ্ছে, বউকে অনেক বেশি সময় দিতে হয়। প্রেমের দিনগুলোতে একসঙ্গে থাকতাম, রাতে একটা সময়ে দুজনকে বাসায় ফিরে যেতে হতো। বিয়ের পরে খুব বেশি দুজনে মিলে ঘুরতে বের হইনি। তবে আমার কাজ না থাকলে দ্রুত বাসায় ফিরি, ওকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করি। আগে মনে হতো আমরা দুজন দুই দুনিয়ায় আছি, এখন মনে হচ্ছে একই পৃথিবীতে আছি। নিজেকে অনেক দায়িত্ববান মনে হচ্ছে। জীবনের একটা লক্ষ্য তৈরি হয়েছে। আগে বন্ধুদের সঙ্গে অনেক বেশি আড্ডা দিতে ইচ্ছে হতো। এখন সে সুযোগ নেই। চলতে চলতে অনেক কিছুই পরিবর্তন হবে। তবে এই পরিবর্তনগুলোতে একটা অন্য রকম সুখ আছে।

অনুলিখন : ইসমাত মুমু


মন্তব্য