kalerkantho


প্রায় সিনেমার মতোই গল্পটা

তাঁর জীবন নিয়ে অনায়াসেই হতে পারে সিনেমা। অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে রীতিমতো অসম্ভবকে সম্ভব করতে হয়েছে তাঁকে। আগামীকাল ‘গেম নাইট’ মুক্তি উপলক্ষে
র‌্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামসে
র কথা
খালিদ জামিলে
র কাছে

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রায় সিনেমার মতোই গল্পটা

থ্রিলার করলাম, এর পরই ফ্যামিলি ড্রামা, তারপর কী করব ঠিক নেই। আমি আসলে সব ধরনের অভিনয়ের জন্যই নিজেকে উন্মুক্ত রাখতে চাই। না হলে নিজের কাছেই কেমন যেন অস্বস্তি হয়

বাবা ছিলেন ট্রাক ড্রাইভার, দেখা মিলত না সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন। মা ব্যস্ত থাকতেন নার্সিংয়ের কাজে। ডিউটির সময়ের কোনো ঠিকঠিকানা ছিল না। তাই ছোটবেলাতেই অনেক ‘বড়’ হতে হয়েছিল র‌্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামসকে, যা পরের কঠিন জীবনের জন্য তাঁকে তৈরি করে দিয়েছে। ছোট থেকেই নিজের কাজটা নিজেই গুছিয়ে করতে জানেন। দায়িত্ব পালনেও তুলনা নেই—ছোট দুই ভাই-বোনকে মানুষ করেছেন তিনিই। 

মা-বাবার পেশাজনিত ঝামেলায় ছাড়তে হয়েছে অনেক সুযোগ। মাত্র চার বছর বয়সেই শুরু করেছিলেন ফিগার স্কেটিং। জমাটবাঁধা বরফের ওপর নানা রঙের-ঢঙের শারীরিক কসরতের প্রদর্শনীতে দারুণ প্রতিভা ছিল। ৯ বছর বয়সে টরন্টোতে যেতে পারতেন উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য। সেটা হলে হয়তো ফিগার স্কেটিংয়ের বড় তারকা হতে পারতেন। কারণ পরে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ছাড়াই স্থানীয় প্রতিযোগিতায় হয়েছিলেন সেরা। যেতে পারেননি পারিবারিক কারণেই। সেটা একদিক থেকে ভালোই হয়েছে অবশ্য। কারণ অভিনেত্রী র‌্যাচেলকে তাহলে আর দেখা হতো না। স্কেটিংয়ের পাশাপাশি সমান তালে খেলেছেন ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, ফুটবলসহ অনেক  খেলাই। চার দেয়ালের ভেতরটা পছন্দ ছিল না। হোক বাসা কিংবা স্কুল। সে কারণেই ক্লাস থাকলে প্রায়ই অসুস্থতার ভান করতেন!

অভিনয় ক্যারিয়ারে শুরুতে কমেডি সিরিজ ‘স্লিংজ অ্যান্ড আরোজ’-এ অভিনয় করে কয়েকটি পুরস্কারে মনোনয়নও পেয়েছিলেন। ‘মিন গার্লস’ আর ‘দ্য নোটবুক’ তাঁকে পরিচিতি দিয়েছিল। তবে র‌্যাচেলে স্মরণীয় বছর ২০১১। এ বছরই ‘মিডনাইট ইন প্যারিস’ আর ‘শার্লক হোমস : আ গেম অব শ্যাডোজ’ মুক্তি পায়। এরপর তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবি ‘স্পটলাইট’, ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’। এ ছাড়া এইচবিওর সিরিজ ‘ট্রু ডিটেকটিভ’-এও জোরালো উপস্থিতি ছিল।

নিজের ক্যারিয়ারে নানা ধরনের ছবি করেছেন, যেমন তাঁর নিজের জীবনটাও নানা কিসিমের কাজের অভিজ্ঞতায় ভরা। ‘থ্রিলার করলাম, এর পরই ফ্যামিলি ড্রামা, তারপর কী করব ঠিক নেই। আমি আসলে সব ধরনের অভিনয়ের জন্যই নিজেকে উন্মুক্ত রাখতে চাই। না হলে নিজের কাছেই কেমন যেন অস্বস্তি হয়’, বলেন র‌্যাচেল।  

মূলত হলিউড ছবির তারকা হলেও র‌্যাচেল এখনো থাকছেন নিজের দেশ কানাডাতেই। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন বেশ আগে, কিন্তু ঠিকানা পরিবর্তনে আগ্রহ দেখাননি, ‘এখন পৃথিবী অনেক ছোট, যাওয়া-আসায় আর কতই বা সময় লাগে। তা ছাড়া ছবিগুলোও আর এখন শুধুই আমেরিকাতে শুট করা হচ্ছে না।’

আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে র‌্যাচেল অভিনীত ভিন্ন স্বাদের ছবি ‘গেম নাইট’। ছবিটি কয়েকজন বন্ধুর গল্প, যারা প্রায়ই গেম নাইট উপলক্ষে একত্রিত হয়। চলছিল ভালোই, কিন্তু এক রাতে তারা জড়িয়ে পড়ে একটি সত্যিকার খুনের রহস্যের সঙ্গে! ছবিতে অ্যানি চরিত্রে দেখা যাবে র‌্যাচেলকে।


মন্তব্য