kalerkantho

আমাদের পিয়া

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



আমাদের পিয়া

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ক্যালেন্ডারে মডেল হলেন। ফটোশুট হলো ফ্রান্স, স্পেন ও হাঙ্গেরিতে। ফিরেই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন রমজানের ব্যতিক্রমী এক টিভি অনুষ্ঠান নিয়ে। জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়াকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

 

২৬ এপ্রিল দেশে ফিরেছেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত এক দিনের জন্যও বাসায় থাকতে পারেননি। এই ব্যস্ততার বড় একটি অংশ জুড়েই ‘বসুন্ধরা তারকাদের রান্নাঘর’। রমজানের প্রতিদিন বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে এটিএন বাংলায় প্রচারিত হবে বিশেষ এই অনুষ্ঠান। উপস্থাপনা করছেন পিয়া। অনুষ্ঠানটির অন্যতম বড় আকর্ষণ অভিনেত্রী মৌসুমী ও গায়িকা মমতাজ। পিয়া বলেন, ‘আমি নিয়মিত উপস্থাপক নই। প্রস্তাব পেলেই উপস্থাপনা করি না। এই অনুষ্ঠানের থিমটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে, সে কারণেই করছি। সমাজের অবহেলিত অসহায় গরিব, বৃদ্ধ, অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে এই অনুষ্ঠান। রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু সামাজিক বক্তব্যও থাকবে। এই মহতী উদ্যোগের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সুবিধাবঞ্চিতদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারব, মৌসুমী ও মমতাজ আপুকেও পাশে পাব—এটি সত্যিই আনন্দের।’

দিল্লিভিত্তিক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘ড্যাঞ্জ এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ক্যালেন্ডারে মডেল হয়েছেন পিয়া। ফটোশুট হয়েছে ফ্রান্স, স্পেন ও হাঙ্গেরিতে। প্রায় ৩২ জনের একটি টিম গেছে সেখানে। মডেল ২৫ জন। পিয়াই একমাত্র বাংলাদেশি। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? ‘দারুণ। পুরো কাজটা হয়েছে মুম্বাইয়ের একটি প্রডাকশন হাউসের তত্ত্বাবধানে। হায়দার খান ছিলেন ফটোগ্রাফার। ডিজাইনার কেন ফার্নান্দেজ, স্টাইলিস্ট ও শুট ডিরেক্টর সাকের, তিনি মুম্বাইয়ের খুবই পরিচিত একজন কোরিওগ্রাফার। এর আগে দেশি ও বিদেশি অনেক ফটোগ্রাফারের ক্যামেরার সামনেই দাঁড়িয়েছি। হায়দার খানের স্পেশালিটি নিজের চোখে দেখলাম, অনেক গোছানো কাজ করেন। ফটোশুটের পাশাপাশি একটি ভিডিওগ্রাফিতেও বন্দি হয়েছি।’ ইউরোপ থেকে ২১ এপ্রিল যান যুক্তরাষ্ট্রে, যোগ দিয়েছেন নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পিয়ার আলাদা একটা পরিচিতি আছে। এর আগে ‘ভোগ’-এর প্রচ্ছদ হয়েছিলেন। বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মডেলিং বরাবরই উপভোগ করেন তিনি। হোক সেটা ছোট পরিসরে কিংবা বড় আয়োজনে, কাজটা গোছানো হলেই তিনি খুশি। ছোট-বড় বেশ কয়েকটি কম্পানির শুভেচ্ছাদূত পিয়া। নতুন মডেলদের জন্য গড়েছেন ‘মিডিয়া মডেল ম্যানেজমেন্ট’। এর কর্মপরিধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, ‘আমি মনে করি, নতুনদের জন্য কিছুটা হলেও করতে পেরেছি। সিনেমায় সিনিয়রদের দিকে অনেকে আঙুল তোলে, ইন্ডাস্ট্রির জন্য তাঁরা কী করছেন? আমাকে কেউ যেন এ কথাটা বলতে না পারে, সে জন্যই এই প্রতিষ্ঠান। চেষ্টা করব প্রতিভাবানদের সুযোগ করে দিতে।’

ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ডেও আছেন। বনানীতে আছে তাঁর কনভেনশন সেন্টার ‘রোজভেল’। ব্যক্তিজীবনে তিনি দায়িত্বশীল মেয়ে এবং স্ত্রী। পরিবারেও সময় দেন, ‘নিজের হাতে কাঁচা বাজার করি, রান্নাটাও করি নিজ হাতে। বলা যায়, আমার হাজব্যান্ডের চেয়ে আমি বেশি বাজার করি। এ বিষয়ে খুব খুঁতখুঁতে।’

ল শেষ করেছেন ২০১৬ সালে। বার কাউন্সিলের পরীক্ষা দিয়েও পাস করেছেন। তবে বার অ্যাট ল-টা কমপ্লিট করতে ইংল্যান্ডে যাওয়া হয়নি। কারণ এক বছর সময় লাগবে। এক বছর সময় বের করা সম্ভব হচ্ছে না। আর অভিনয়? এখানে কি আশানুরূপ সফল পিয়া? বলেন, ‘কোনো একটি জায়গায় সফল হলে আরেকটি জায়গা ঢাকা পড়ে যায়। আমি যখন আন্তর্জাতিক প্রগ্রামগুলো করলাম তখন মনে হলো দায়িত্বটা বহুগুণে বেড়ে গেছে। ইচ্ছা করেই অভিনয় কমিয়ে দিয়েছি। আর পাঁচ বছর আগে যে সিনেমা করেছি এখনো যদি সেই মানের ছবিই করি, দর্শক আমাকে মন্দ বলবে। আমি ভালো কিছুর অপেক্ষায় আছি।’

রাজনীতিতেও তাঁর প্রবল আগ্রহ। তবে কোন দল বা কার আদর্শের রাজনীতি করবেন, সেটা এখনই বলতে চান না। ‘ছোটবেলায় এক ধরনের ইচ্ছা থাকে, রাজনীতি করব, মানুষের সেবা করব। কিছু মানুষ রুলস তৈরি করেন, কিছু মানুষ সেটা যথাযথ পালনে ব্যস্ত থাকেন। আমি রুলস তৈরি করতে চাই। সমাজসেবায়ও যতটা পারি সময় দিই। নিজের ঢোল নিজের পেটানো হবে, তাই বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে আমি চেষ্টা করি।’


মন্তব্য