kalerkantho


এমন সন্ধ্যা জীবনে আর আসেনি

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



এমন সন্ধ্যা জীবনে আর আসেনি

একসময় এ দেশেই থাকতেন। ‘গানবাংলা’র উদ্যোগে ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’-এ গাইতে আট বছর পর এলেন বাংলাদেশে। গাইলেন ‘বেঙ্গল বই’-এর উন্মুক্ত আয়োজনেও। তারই এক ফাঁকে সাহানা বাজপেয়ী কথা বললেন পার্থ সরকারের সঙ্গে। ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ

 

বাতাসটা ভেজা ভেজা। সকালে হালকা বৃষ্টি হয়েছিল, তার রেশ এখনো যায়নি। যেকোনো মুহূর্তে আবারও আসতে পারে বৃষ্টি। ‘বেঙ্গল বই’-এর ভেতরটা দেখে অবশ্য বোঝার উপায় নেই, বাইরে আকাশ চোখ রাঙাচ্ছে। সাহানা বাজপেয়ীর গান শোনার জন্য কয়েক শ মানুষ অপেক্ষায়। সময় দেওয়া সাড়ে ৬টা। বিকেল ৩টা থেকেই অনেকে বসে অপেক্ষা করছেন। স্টেজের পেছনে গ্রিনরুমে বসে চায়ের কাপ থেকে মুখ তুললেন সাহানা, ‘এত ছোট জায়গায় এত মানুষ, কী যে হবে আজকে! আমি বলেছিলাম, আরেকটু বড় জায়গায় করতে!’ জিজ্ঞেস করি, অনেক দিন পর এলেন বাংলাদেশে। কেন আরো নিয়মিত আসেন না? ‘আসতে তো চাই। কিন্তু নানা কারণে হয়ে ওঠে না। জীবন নিয়ে নিচ্ছে সব সময়। তবে এবার যেহেতু জীবনকে ফাঁকি দিয়ে আসতে পেরেছি, সামনে নিশ্চয়ই আরো পারব’—বললেন সাহানা বাজপেয়ী। জীবন সময় নিয়ে কোথায় দিচ্ছে? “আট বছর ধরে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে ‘বাংলা ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি’ পড়াই। আর নিয়মিত গান করছি, চর্চা করছি এবং বেঁচে থাকছি।” একটু থেমে আবার বললেন, ‘ইউটিউবে নিয়মিত গান প্রকাশ করছি। এ বছর কয়েকটি সিঙ্গেল বের করার সম্ভাবনা আছে আর প্লেব্যাক তো করছিই।’

শুনলাম, সৃজিত মুখার্জির নতুন ছবি ‘উমা’তে গাইলেন। কী গান গাইলেন? চোখ পাকিয়ে সাহানা বলে উঠলেন, ‘এটা তো একদম বলা যাবে না। সৃজিতের কড়া নিষেধ, এখনই কিছু বলা যাবে না। তবে ওর ছবিতে গাইতে পারা দারুণ আনন্দের ব্যাপার।’

আর কোনো ছবিতে প্লেব্যাক করছেন, নাকি সেগুলোর কথাও বলতে মানা? “না না, সেগুলো বলা যাবে। ২৫ মে শিশুতোষ ছবি ‘রেইনবো জেলি’ আসবে। ওখানে গান করেছি। তারপর শিবপ্রসাদ আর নন্দিতা রায়ের ‘কণ্ঠ’তেও আমাকে শোনা যাবে। একেবারেই আঙুলে গোনা কাজ, তবে মনে রাখার মতো”—বললেন সাহানা।

এর মধ্যেই ডাক এলো মঞ্চ থেকে। গাইতে চলে গেলেন। মঞ্চে তিনি কী গাইবেন! উল্টো শ্রোতারাই বেশি গাইলেন সাহানার সঙ্গে। তবে কথা বলা থামল না। ১২ মে ঢাকা ছেড়ে উড়াল দিলেন লন্ডনে। পরের আলাপ অনলাইনে। কেমন হলো ‘বেঙ্গল বই’-এর গানের অনুষ্ঠান? আপ্লুত সাহানা বললেন, ‘আমার যে কী অপূর্ব অনুভূতি হয়েছে বলে বোঝাতে পারব না। এত মানুষ, সবাই আমার সঙ্গে গাইছে, এর চেয়ে বেশি একজন শিল্পী আর কী আশা করতে পারেন!’

বাংলাদেশে আপনার অনেক ভক্ত। সেটা তো টের পেয়েছেন। নিয়মিত এলেই পারেন। ‘এত দিন পর এসেও মানুষের এতো ভালোবাসা! ভাবা যায় না! আমি এতটাই আপ্লুত হয়েছি, মনে হয়েছে এখানেই থেকে যাই। সেদিনের মতো এমন সন্ধ্যা আমার জীবনে আর আসেনি।’

এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য তো ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’, সেটার অভিজ্ঞতা কেমন? ‘অসামান্য অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছি। অসাধারণ এই আয়োজনে আমাকে সামিল করার জন্য ‘গান বাংলা’ পরিবারকে ধন্যবাদ। দারুণ সব মিউজিশিয়ানের সঙ্গে এক মঞ্চে এভাবে গাইতে পেরে আমি আনন্দিত।’

এবার তো অল্প সময়ের জন্য এলেন। কী কী করলেন এখানে? ‘পুরান ঢাকায় ঘোরাফেরা, বিউটি বোর্ডিংয়ে খাওয়া, চারুকলা, টিএসসি, বইয়ের নতুন দোকানগুলোতেও গেছি। আর শহীদ মিনার, বাংলা একাডেমির ওখানটা তো আমার জন্য তীর্থক্ষেত্র। অনেক সময় কাটিয়েছি সেখানে। এ ছাড়া পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, গান আর আড্ডা হয়েছে। প্রিয় খাবারগুলো খেয়েছি মন ভরে। এখানে ফিরে এসে বাংলাদেশকে আরো বেশি মিস করছি। ঠিক করেছি, খুব শিগগির অবার যাব। ভালোবাসার এত টান রেখে বেশি দিন দূরে থাকা যায় না।’

একেবারেই ব্যক্তিগত দুটি প্রশ্ন করতে চাই। চাইলে উত্তর নাও দিতে পারেন। করব? ‘করুন না।’

অর্ণবের সঙ্গে কি এখনো কথা হয়? যোগাযোগ বা বন্ধুত্ব আছে এখনো?

‘পরের প্রশ্ন?’

অর্ণব আর সাহানা একসঙ্গে হলেই অসাধারণ কিছু তৈরি হয়। একসঙ্গে গান করার আর কোনো সম্ভাবনা আছে কি?

‘কী জানি! মানুষের শৈল্পিকজীবনে কত কিছুই তো সম্ভব।’


মন্তব্য