kalerkantho


বন্ধ হওয়ার পথে শরণখোলার দুটি ডকইয়ার্ড

কাজ হারানোর আশঙ্কা শতাধিক শ্রমিকের

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাগেরহাটের শরণখোলার দুটি ডকইয়ার্ড বন্ধ হওয়ার পথে। ডকইয়ার্ড দুটির জমি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের আওতাভুক্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে কাজ হারানোর আশঙ্কা করছে শতাধিক শ্রমিক। তা ছাড়া ডকইয়ার্ড না থাকলে এ অঞ্চলের বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরাও চরম সংকটে পড়বে। এখানকার অর্থনীতিতেও পড়বে বিরূপ প্রভাব।

জানা গেছে, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের সর্ব দক্ষিণে শরণখোলা। এ অঞ্চলের মানুষ বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। যুগ যুগ ধরে শরণখোলাবাসী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মত্স্য এবং বনজ সম্পদের ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করছে। প্রাকৃতিক এ সম্পদ আহরণের জন্য শত শত নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ব্যবহার করা হয়।

এগুলো তৈরি ও মেরামতের কথা মাথায় রেখে ১৯৮৫ সালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজারের পূর্ব মাথায় বলেশ্বর নদের পাড়ে শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল ডকইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়। একই এলাকায় ১৯৯০ সালে ফকির ডকইয়ার্ড গড়ে তোলেন আতাহার আলী ফকির। সেই থেকে এ ইয়ার্ড দুটিতে স্থানীয় ছাড়াও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার নতুন নৌকা-ট্রলার নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলে আসছে। বাদল ডকইয়ার্ডের মালিক নাছির উদ্দিন আকন ও ফকির ডকইয়ার্ডের পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে ডকইয়ার্ড দুটি অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে কাজ হারিয়ে শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। এসব শ্রমিক পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ পড়বে বিপাকে। তা ছাড়া ডকইয়ার্ড দুটি বন্ধ হলে এ অঞ্চলের মাছ ব্যবসায়ীরাও দুর্ভোগে পড়বে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা মাছের ব্যবসারও ক্ষতি হবে। বেড়িবাঁধ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন যদি ডকইয়ার্ড দুটি অন্যত্র স্থানান্তরে সহযোগিতা করে তাহলে শ্রমিকরা বাঁচতে পারবে বলে তাঁরা জানান।

ডকইয়ার্ড দুটির শ্রমিক নেতা মো. লিখন মোল্লা ও সোহাগ হাওলাদার বলেন, দুটি ডকে শতাধিক শ্রমিক আছে। ডক বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে শ্রমিকদের বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেছি। অন্যদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মো. আকমল হোসেন আকন বলেন, উপকূলীয় শরণখোলাকে রক্ষার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকদের ক্ষতির বিষয়টিও দেখতে হবে। ডক দুটি বন্ধ হলে শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং একই সঙ্গে এলাকার অর্থনীতিতেও মন্দা দেখা দেবে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ডক দুটি অন্যত্র স্থানান্তর করে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিয়েই বাঁধ কর্তৃপক্ষের কাজ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।


মন্তব্য