kalerkantho


‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে নির্মিত ম্যুরাল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এটিই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডায়না চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে ম্যুরালটি। গত ৭ জানুয়ারি চতুর্থ সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ ম্যুরালটির উদ্বোধন করেন।

৩১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৭ ফুট প্রস্থের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৭ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জালাল উদ্দীন তুহিনের যৌথ অর্থায়নে ম্যুরালটি নির্মিত হয়েছে। নকশা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃিশল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক।

মূল বেদির ওপর আড়াই ফুট উঁচু ও ২০ ফুট চওড়া বেদি আছে। যেখানে বিভিন্ন দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো যাবে। আর মূল প্রতিকৃতির ডান দিকে চার ফুট চওড়া ও ২০ ফুট উঁচু প্রাচীরে লেখা আছে ‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সাথে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালবাসা, অক্ষয় ভালবাসা, যে ভালবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’ বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষরিত এই বাণী আমাদের দেশপ্রেম বাড়িয়ে তোলে।

ম্যুরালটি স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রেজা সেলিম প্রথম দাবি তোলেন বলে জানা গেছে। সভাপতি শাহিনুর রহমান ও সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, এটা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির ফসল। প্রশাসন এমন শিল্পকর্ম বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো নির্মাণ করুক—এমনটাই দাবি আমাদের। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল চর্চা বহুগুণে বেড়ে যাবে ও মৌলবাদ নিপাত যাবে।

দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ ও প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন ‘শাপলা ফোরাম’। পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে আমাদেরও এমনটি দাবি ছিল। স্থাপিত জাতির জনকের ম্যুরালটি আমাদের বঙ্গবন্ধু ও দেশপ্রেমের প্রতি সবসময় অনুপ্রাণিত করবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতির পিতার আদর্শ সঞ্চারিত করতে একটি দৃশ্যমান নান্দনিক শিল্পকর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। সেই অনুভূতি থেকেই এই শিল্পকর্ম নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে।’


মন্তব্য