kalerkantho


১০ চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি

চুয়াডাঙ্গা থানায় জিডি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চরমপন্থী সংগঠনের নেতা পরিচয়ে সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনসহ ১০ চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। চাঁদা চেয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল জনযুদ্ধর শীর্ষ নেতা পরিচয় দিয়ে জনৈক বিপ্লব চাঁদা দাবি করে। কখনো অন্য নাম বলা হয়। হুমকিদাতা মোবাইল ফোনে বলে, ‘চাঁদার টাকা আগামী সাত দিনের মধ্যে না দিলে হত্যা করা হবে।’ চাঁদা দাবির এ ঘটনায় অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। পাঁচ-সাত দিন আগে থেকে চুয়াডাঙ্গার চিকিৎসকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এ নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আব্দুস সবুর চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় জিডি করেছেন।

এর কয়েক মাস আগে চুয়াডাঙ্গা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। ওই সময়ও থানায় জিডি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কলেজশিক্ষক বলেন, ‘ফোনে চাঁদা দাবির সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা কে কোথায় যায়, না যায়, তাও বলে। এ কারণে ভয় লাগে। পুলিশ অভয় দেওয়ায় চাঁদা না দিয়ে চুপ আছি।’

গত শনিবার চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি বলেন, ‘চরমপন্থীদের তত্পরতা থেমে গিয়েছিল। মনে হচ্ছে, আবার তা বাড়ছে।’

গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ০১৬৩৬-৪৭৬০৮৭ নম্বর থেকে সিভিল সার্জনের কাছে কল আসে। জনৈক ব্যক্তি চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল জনযুদ্ধর শীর্ষ নেতা বিপ্লব পরিচয় দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই টাকা আগামী সাত দিনের মধ্যে না দিলে সিভিল সার্জনের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একইভাবে হাসপাতালের মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. পরিতোষ কুমার ঘোষ, চক্ষু কনসালট্যান্ট শফিউজ্জামান সুমন ও সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানের কাছে চাঁদা চেয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম বলেন, ‘সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) গোলাম মোর্শেদ ডালিমসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে ০১৮৬৩-৬৯০৯৩৭ নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা চেয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’ থানায় জিডি করা ছাড়াও বিষয়টি তিনি চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক তোজাম্মেল হক জানান, যে দুটি নম্বর থেকে চিকিৎসকদের কাছে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সেই নম্বরের কললিস্ট চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের আটক করা হবে।


মন্তব্য