kalerkantho


ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত খুন

পুত্রশোকে ৩২ বছরের ঠিকানা ছাড়লেন বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পুত্রশোকে ৩২ বছরের ঠিকানা ছাড়লেন বাবা

পুত্রশোকে ৩২ বছরের পুরনো ঠিকানা ছেড়েছেন স্কুলশিক্ষক মেঘনাথ বিশ্বাস বাবুল। ১ নভেম্বর থেকে পুরনো ভাড়া বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে পুরো পরিবার।

তিনি দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসের বাবা।

নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ায় একটি গলিতে বাঁশের বেড়া-টিনের ছাউনির একটি ঘরে থাকতেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবুল। ৬ অক্টোবর সকালে সুদীপ্তকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালে নেওয়ার পর সুদীপ্তকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

বাড়ির মালিকের স্ত্রী নীপা বিশ্বাস জানান, সুদীপ্তের হত্যাকাণ্ডের দিনই বাবুলের (সুদীপ্তের বাবা) পরিবার বাসা ছেড়ে আত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন। পরে সুদীপ্তের ছোট ভাই কয়েকবার ওই বাসায় আসলেও বাবুল ও তাঁর স্ত্রী আর আসেননি।

জানতে চাইলে কান্নাজড়ানো কণ্ঠে মেঘনাথ বিশ্বাস বাবুল বলেন, ‘ওই ঘরে আমি আর যাইনি। ওই এলাকায়ও আর যাইনি। সেখানে আমার আর যেতে ইচ্ছা করে না।

যেখানে আমার ছেলে মরেছে, বেঁচে থাকতে কোনোদিন আর সেখানে যাব না। ’

নতুন বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা জানিয়ে বাবুল বলেন, ‘আমার ছোট ছেলে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আমি একটা স্কুলে অস্থায়ীভাবে শিক্ষকতা করছি। টিউশনিও করি। প্রয়োজন না থাকলে এই শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যেতাম। ’

দুঃখভারাক্রান্ত কণ্ঠে মেঘনাথ বিশ্বাস বাবুল বলেন, ‘ছেলেটা মারা যাওয়ার পর খুব অসহায়, নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার ৬৫ বছর বয়স। ৪০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। ছেলেটা মাত্র এক মাস চাকরি করেছিল। সংসারে টানাটানি কমবে ভেবেছিলাম। কিছুই হলো না। সব শেষ হয়ে গেল। ’

দক্ষিণ নালাপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, সুদীপ্ত খুনের বিচার চেয়ে ব্যানারে ছেয়ে গেছে এলাকা। পুরো এলাকায় সুদীপ্তের স্মৃতিচিহ্ন। সুদীপ্তরা যে ঘরে থাকতেন সেটি বাড়িওয়ালা মেরামত করছে।


মন্তব্য