kalerkantho


মহিপাল ফ্লাইওভারে মানুষের ঢল

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মহিপাল ফ্লাইওভারে মানুষের ঢল

উদ্বোধন ঘিরে গতকাল সকাল থেকে মহিপাল ফ্লাইওভারে সাধারণ মানুষ জড়ো হন। এ সময় তাঁরা আনন্দ-উল্লাস করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

হাজার হাজার ফেনীবাসীর আনন্দ-উল্লাস আর হর্ষধ্বনিতে চালু হল দেশের প্রথম ছয় লেন মহিপাল ফ্লাইওভার। এ উপলক্ষে নানা রঙের বেলুন দিয়ে সাজানো হয় ফ্লাইওভার। উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় যান চলাচল।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফেনীবাসী ভিড় জমাতে থাকেন মহাসড়কের চাঁড়িপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের অংশে ফ্লাইওভারের গোড়ায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসে জমায়েত হতে থাকেন। কয়েক ঘণ্টা প্রতীক্ষার পর বেলা পৌনে ২টায় যান চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়। এর আগে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফ্লাইওভারের গোড়ায় বসানো হয় উদ্বোধনী ফলক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফ্লাইওভার এলাকা যেন জনসমাবেশে রূপ নেয়। উৎসাহী যুবকদের একাংশ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে উঠেন ফ্লাইওভারে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেডের সজ্জিত একটি ট্রাক ও স্টার লাইন পরিবহনের দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের চলাচলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচল শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে উদ্বোধন পর্ব দেখতে আসেন স্টার লাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক জাফর উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এটি চালু হওয়ার ফলে মহিপালে যানজট অনেকটা কমে যাবে। এতে পরিবহনগুলোর সময়ও বাঁচবে।’

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের জীবদ্দশায় চমৎকার একটি জিনিস দেখে গেলাম। ভবিষ্যত প্রজন্ম এ প্রকল্পের জন্য গর্ব অনুভব করতে পারবে।’

তরুণ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাইক চালিয়ে উঠেন ফ্লাইওভারে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। এর ফলে দেশবাসী ফেনীকে আবার নতুন করে চেনবে।’

সাংস্কৃতিক সংগঠক আতিকুর রহমান শিবলী বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। এখন আমাদেরও গর্ব করার মতো একটি স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে মহিপালে।’

সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভিড় জমান জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তাঁরা ঘুরে ঘুরে ৬০০ মিটারের ফ্লাইওভারটি দেখতে থাকেন।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রাকচালক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘ফ্লাইওভার চালু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। প্রতিদিন যানজটের ফলে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হত।’

ফেনীর ট্রাফিক পরিদর্শক মীর গোলাম ফারুক বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে যানজট সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হত। অনেক সময় সারারাত ধরেও আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হত। এখন আশাকরি আমরা এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাব।’

ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, ‘এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তিনি এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে দিনটিকে ফেনীবাসীর উৎসবের দিন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘ফ্লাইওভারটি চালু হওয়ায় শুধু ফেনীবাসী নয়, বরং নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরসহ বিশাল এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।’


মন্তব্য