kalerkantho


কিছু শিক্ষক প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত : শিক্ষামন্ত্রী

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কিছু শিক্ষক প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত : শিক্ষামন্ত্রী

কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের শেষদিনের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। ছবি : কালের কণ্ঠ

কিছু শিক্ষক প্রশ্নপত্র ফাঁস করছেন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। শনিবার কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই দিনব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তীর শেষদিনে আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার ২০১০ সাল থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে বছরের প্রথমদিন বই দিয়ে নজির স্থাপন করেছে। দুনিয়ার আর কোথাও এভাবে বই দেওয়ার উদাহরণ নেই। আমরাও এখন অন্য দেশের কাছে অনুকরণীয়, অনুসরণীয় হচ্ছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে দেশ অনেক এগিয়েছে। আমাদের দেশ দরিদ্র হতে পারে, আমাদের নতুন প্রজন্ম মেধার দিক দিয়ে দরিদ্র নয়। তবে নতুন প্রজন্মকে গুণগত, আধুনিক, প্রযুক্তিগত, মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলতে হবে। এজন্য দেশে শিক্ষানীতি করা হচ্ছে। সেটা এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠানসূচিতে ছিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‍্যাফল ড্র ও পুরস্কার বিতরণ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু এমপি, মাধ্যমিক ও শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মু. মোহসিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান চৌধুরী, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল ও কদলপুর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং সমিতির সভাপতি বিশ্বজিত ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, ‘রাউজান এখন পিংক, গ্রিন ও ক্লিন উপজেলা। এটি বাংলাদেশের বুকে একটি ব্যতিক্রমী উপজেলা। এখানে কোনোদিন হরতাল পালন হয় না।’

সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু এমপি বলেন, ‘শিক্ষা মানুষকে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যায়। তবে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে হবে। শিক্ষাকে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিতে হবে। যাতে শতভাগ শিক্ষিত হয় দেশ।’

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘আমার আজ আনন্দের সময়। আমি মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই স্কুলে এসে সময় দিয়েছেন। কদলপুরের মানুষ আজ গর্ববোধ করতে পারে।’

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘রাউজান অন্য যেকোনো উপজেলার চেয়ে ভিন্ন ও সুন্দর উপজেলা। কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ আজ যে বর্ণিল আয়োজন করেছে, সেটি এর প্রমাণ।’

অনুষ্ঠানে চার গুণীজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মু মোহসিন চৌধুরী, কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও বিমাবিদ এস এম ইউসুফ। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।


মন্তব্য