kalerkantho


১৬ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন স্কুলশিক্ষক উজ্জ্বল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দীর্ঘ ১৬ বছর ৪ মাস আইনি লড়াই শেষে চাকরি ফিরে পেলেন বাণীগ্রাম-সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাস। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক এমপিওধারী এ শিক্ষককে বরখাস্ত আদেশ বেআইনি ঘোষণা করেছেন আদালত। ২০০১ সালের ১৪ জুলাই করা বরখাস্ত আদেশটি অবৈধ, বেআইনি ও অকার্যকর উল্লেখ করে বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে সপদে বহাল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বাঁশখালী আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সাইয়েদ মাহবুবুল ইসলাম।

জানা গেছে, শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বাণীগ্রাম-সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি এবং স্কুল কমিটির সভাপতিকে গালিগালাজের অভিযোগে ২০০১ সালের ১৪ জুলাই তাঁকে বরখাস্ত করে। উজ্জ্বল বিশ্বাস তা চ্যালেঞ্জ করে বাঁশখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ওই বছরের ৩০ জুলাই মামলা করেন।

এ প্রসঙ্গে উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর ৪ মাস নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে মামলা পরিচালনা করেছি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি শিক্ষক চাকরি বিধির দোহাই দিয়ে বরখাস্ত করলেও বরখাস্ত আদেশের সঙ্গে বাস্তবতার ন্যূনতম মিলও ছিল না। দীর্ঘদিন পর হলেও আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ায় আমি খুশি। এ ব্যাপারে বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে সহযোগিতা চাই। আমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর আদর্শে আমি শিক্ষকতা পেশায় এসেছি।’

বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঋষিকেশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘মামলার রায় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবিধান মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি কে এম সালাহ উদ্দিন কামাল বলেন, ‘মামলার রায় প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে বাস্তবায়িত হবে। এখানে কারো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।’

বাঁশখালী উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছরের অধিক সময় মামলা পরিচালনা করে উজ্জ্বল বিশ্বাস সপদে ফিরে আসায় সমিতির পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। আমরা তাঁর পাশে আছি।’

বাঁশখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘রায়ের বিষয়টি শুনেছি। দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনা করে উজ্জ্বল বিশ্বাস তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী দিলীপ কান্তি দাশ বলেন, ‘আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন।’ বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মুজিবুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আদালতের রায়ের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই।’


মন্তব্য