kalerkantho


ট্রাকে ইয়াবা পাচার

চালকের বেতন মাসে ৬০ হাজার টাকা

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে খালি মিনি ট্রাক চালিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাওয়াটাই চাকরি। এতে মাসিক বেতন ৬০ হাজার টাকা! এমন লোভনীয় চাকরি দিচ্ছে সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচারকারী চক্র। তবে দৃশ্যত কোনো পণ্য পরিবহন করা না হলেও কৌশলে গাড়ির চেসিসসহ বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে পাচার হয় ইয়াবা।

গতকাল রবিবার ভোরে এমন একটি গাড়ি জব্দ করেছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। যে গাড়ির চেসিসের ভেতর কৌশলে লুকানো অবস্থায় ইয়াবার প্যাকেট পাওয়া গেছে। প্যাকেটগুলোতে ৮৫ হাজার ইয়াবা পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ঘটনায় গাড়িচালক রহমত উল্লাহ ও এছহান নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা দুজনই নিজেদের কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং এলাকার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। কিন্তু গোয়েন্দা পুলিশ মনে করছে, গ্রেপ্তারকৃত দুজন এবং ইয়াবার চালান প্রেরণকারী নূরুল আমিন তিনজনই মূলত রোহিঙ্গা নাগরিক। তাঁরা কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।

ভোরে আকবর শাহ থানার মনসুরাবাদে শ্যামলী পরিবহনের সামনের সড়কে (চট্টমেট্রো-ন-১১-৫৬১৩) গাড়িটি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে দেখা যায়, গাড়ির পেছনে চেসিসের অংশ গোলাকার বৃত্তাকৃতির। খালি চোখে চেসিসের ভেতর অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু টর্চলাইট দিয়ে দেখলে ভেতরে পুটলির মতো কিছু একটা দেখা যায়। দেখা গেছে, গোয়েন্দা পুলিশ দল চেসিসের এই অংশ থেকে পর্যায়ক্রমে কিছু প্যাকেট বের করে আনতে থাকে। সর্বশেষ গণনার পর গোয়েন্দা পুলিশ ৮৫ হাজার ইয়াবা পায়।

ঘটনার বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি মিনি ট্রাকের চেসিস থেকে ৮৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত গাড়িচালক রহমত উল্লাহ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ইয়াবাগুলো নূরুল আমিন নামের একজন দিয়েছে। গাড়ির মালিকও নূরুল আমিন। তিনি নিজের গাড়ি চালানোর জন্যই মূলত রহমতউল্লাহকে নিয়োগ দিয়েছেন। তাঁর কাজ খালি গাড়ি নিয়ে ঢাকায় যাওয়া। সেখানে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে ইয়াবার প্যাকেট হস্তান্তর করে পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে আসা।’

অভিযান পরিচালনাকারী গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এএএম হুমায়ুন কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৬০ হাজার টাকা বেতনে চালক রেখে ইয়াবা পাচারের ঘটনা এই প্রথম জানলাম। খালিগাড়ি হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি করবে না, এই ভেবেই খালি গাড়ির চেসিসে ইয়াবা ভর্তি করে পাচারের কৌশল নেয় পাচারকারী নূরুল আমিন।’

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত চালক রহমতউল্লাহ, তাঁর সহযোগী এছহান ও নূরুল আমিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

গ্রেপ্তারকৃত এহছানকে ইয়াবা পাচারকারী নূরুল আমিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে মনে করছেন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি তিনজনই রোহিঙ্গা। দীর্ঘদিন আগে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে থাকতে পারে। এটা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া নূরুল আমিন নিজে গাড়ি কিনে ইয়াবা পাচার করছে ঢাকায়। চালককে মাসিক ৬০ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার পাশাপাশি পাচার নির্বিঘ্ন করতে এহছানকে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’


মন্তব্য