kalerkantho


চট্টগ্রামে কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় রুবি আক্তার রুনু নামে এক কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য দানা বাঁধছে। কেন সে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গেল বা লাফ দিল কিনা-এ বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। রুনু লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার চরজগবন্ধু গ্রামের মো. আলমগীরের মেয়ে। সে চট্টগ্রামে গৃহকর্মীর কাজ করত।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক তদন্ত ওয়ালি উল্লাহ বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় পাঁচলাইশ থানার লালবিল্ডিং নামে পরিচিত একটি ভবনের ছাদ থেকে লাফ দেয় রুবি আক্তার রুনু (১৭)। সে ওই বাড়ির নাদিরা জান্নাতের বাসার গৃহকর্মী। পরে তাকে উদ্ধার করে নাদিরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মৃত্যু হয়। এরপর রুনুর বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়। তাঁরা রবিবার রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত থানায় এসে পৌঁছাননি।’

এদিকে পুলিশ একাধিক সোর্সের মুখে শুনেছে, গৃহকর্মী রুনুকে নির্যাতন করা হত। এর আগেও কয়েক দফা নির্যাতন করা হয়েছে। শনিবারও নির্যাতন করা হয়। এতে রুনু রাগে ভবনের ছাদে গিয়ে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ লোকমুখে এমন তথ্য জানলেও রুনুর বাবা-মা রবিবার পর্যন্ত থানায় এসে এমন কোনো অভিযোগ দেননি। ফলে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওয়ালি উল্লাহ বলেন, ‘আমরা সব বিষয় সামনে রেখে অনুসন্ধান করছি। রুনুর মৃত্যুর রহস্য নিশ্চয় বের করা সম্ভব হবে।’

যে বাসায় রুনু গৃহকর্মীর কাজ করত সেই গৃহকর্ত্রী নাদিরা জান্নাত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যায় নাদিরা জান্নাতের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন ধরে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়েই ‘হ্যালো... হ্যালো...’ বলতে থাকেন। পরক্ষণে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর আরেকটি ফোন নম্বরে কল করা হলে সেটি অপেক্ষমাণ পাওয়া যায়। পুনরায় কল করা হলে তিনি প্রথমবারের মত ‘হ্যালো হ্যালো’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া রুনুর মৃত্যুর বিষয়ে জানতে রুনুর বাবা ও মাকে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তাঁরা সাড়া দেননি।

গৃহকর্মী রুনুর বিষয়ে পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধানে জেনেছে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সে নাদিরা জান্নাতের এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় গৃহকর্মী ছিল। পরে নাদিরার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ শুরু করে। এর মধ্যে তার একদফা বিয়ে হয়েছিল বলেও পুলিশ শুনেছে। তবে এর সপক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আবদুল ওয়ারিশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে। রুনুর মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পুলিশ হেফাজতে আছে। রুনুর বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা লক্ষ্মীপুরের বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছেন। থানায় আসার পর তাঁদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’


মন্তব্য