kalerkantho


সূর্য সেনের বাস্তুভিটা ছুঁয়ে দেখলেন প্রণব

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সূর্য সেনের বাস্তুভিটা ছুঁয়ে দেখলেন প্রণব

গতকাল রাউজানের নোয়াপাড়ায় সূর্য সেনের বাস্তুভিটায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রণব মুখোপাধ্যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের বাস্তুভিটা ছুঁয়ে দেখলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার তিনি রাউজানের নোয়াপাড়ায় মাস্টারদা সূর্য সেনের ভিটাবাড়ি, উপজেলা সদরের মুন্সিরঘাটায় মাস্টারদা সূর্য সেন চত্বর পরিদর্শন এবং সূর্য সেনের আবক্ষমূর্তি ও স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর, পাঠাগার উদ্বোধন এবং একটি বকুল গাছের চারা রোপণ করেন।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির রাউজান আগমনের মাধ্যমে সূর্য সেনের জন্মস্থান ও বাড়ি হিসেবে রাউজানকে আবার নতুন করে চিনল বিশ্ব।-এমনটাই মনে করেন রাউজানবাসী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৪টার দিকে রাউজান সদরের রাউজান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাশে সূর্য সেন কমপ্লেক্সে আসেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। সূর্য সেন চত্বরে তাঁকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেন রাউজানের সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা। এর পর সূর্য সেনের আবক্ষমূর্তিতে ফুলের মালা পরিয়ে এবং মাথা নুইয়ে প্রণাম করে শ্রদ্ধা জানান প্রণব মুখোপাধ্যায়। পরে সূর্য সেন কমপ্লেক্সের পাঠাগার উদ্বোধন করে সেটি ঘুরে দেখেন। সেখানে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি। এ সময় তিনি তাঁকে সম্মাননা জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। সেখানে ১০ মিনিট অবস্থান করে পাঠাগারে টাঙানো বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিদের ছবি দেখেন। এরপর সেখান থেকে তাঁর গাড়ির বহর রওনা হয় মাস্টারদার বাস্তুভিটা নোয়াপাড়া ইউনিয়নে। বিকেল প্রায় ৫টার দিকে মাস্টারদার জন্মভূমি সূর্য সেন পল্লীতে পৌঁছান তিনি। সেখানে পৌঁছে প্রথমে তিনি বাস্তুভিটায় নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ ও প্রণাম করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি সূর্য সেন বাস্তভিটায় একটি বকুল গাছের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি মাস্টারদা সূর্য সেন মা ও শিশু হাসপাতালে যান। সূর্য সেনের বাস্তুভিটায় ২৫ মিনিট অবস্থান করে প্রণব মুখোপাধ্যায় ফিরে আসেন চট্টগ্রাম শহরে।

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগমনকে ঘিরে রাউজানের সর্বত্র স্মরণকালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই, রাউজান নোয়াপাড়া সেকশন-২ সড়ক, মাস্টারদা সূর্য সেন সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন ছিল। রাস্তাঘাট, উপজেলার বিভিন্ন স্থাপনা, বাজার আগে থেকে গোলাপি রঙে সুসজ্জিত করা হয়। প্রণব মুখোপাধ্যায়কে দেখতে হাজার হাজার উত্সুক জনতার উপস্থিতি ছিল সড়কপাশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাজনিত বাধায় সড়কের পাশ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবে সঙ্গে আসা প্রণবকন্যা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায় ভিআইপি প্রটোকল থেকে বেরিয়ে নোয়াপাড়ায় সূর্য সেনের বাস্তুভিটা পরিদর্শনকালে চলে যান গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছাকাছি। তিনি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

গ্রামের নারীরা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়েকে কাছে পেয়ে আবেগে জড়িয়ে ধরেন। হাসিমুখে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন প্রণবকন্যাও।

দুটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, ভারতীয় হাই কমিশানার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা, উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা, উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার জুনায়েদ কবির সোহাগ, এমপিপুত্র ফারাজ করিম চৌধুরী, মাস্টারদা সূর্য সেন পাঠাগারের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত, রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের এএসপি জাহাঙ্গীর, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ, নোয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, বাবুল মিয়া মেম্বার প্রমুখ।


মন্তব্য