kalerkantho


পেকুয়ায় প্রবহমান খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পেকুয়ায় প্রবহমান খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ!

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার প্রবহমান রোপাই খালে বাঁধ দিয়ে এভাবেই চলছে মাছ চাষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

চিংড়িঘেরের জমি ইজারার নামে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার প্রবহমান রোপাই খালে বাঁধ দিয়ে চলছে মাছ চাষ। মগনামা ইউনিয়নের কোনপাড়া ও বাইন্যাঘোনা গ্রামের মধ্যবর্তী রোপাই খালের বিশাল অংশজুড়ে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে স্থানীয় সংঘবদ্ধ প্রভাবশালীরা। তাদের এই অপতৎপরতা খালটির দুই পারের বাসিন্দাদের চাষাবাদে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রবহমান সরকারি খালটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় এলাকাবাসী জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে বেশ কয়েকবার লিখিত আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি পেকুয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও কয়েকবার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। গত বছরের ১১ নভেম্বর ও গত ৮ জানুয়ারি আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপর আর অগ্রগতি নেই।

কমিটির অন্যতম সদস্য ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ভুল তথ্য দিয়ে বিএনপি দলীয় লোকজন সরকারি প্রবহমান খালের জমি চিংড়িঘেরের নাম দিয়ে অবৈধভাবে ইজারা নিয়ে খাল বন্ধ করে রেখেছে। এ ব্যাপারে জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহবুবউল আলম সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘নদী-খাল-বিল ইজারা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। শিগগিরই সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলাকার লোকজন জানায়, রোপাই খালের মাঝখানে বাঁশের বেড়ার বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এই অংশের দক্ষিণে আড়াআড়ি করে বাঁশের চালি ঘন করে তার ওপর জাল ও পলিথিন দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। উত্তর দিকেও একইভাবে আটকানো হয়েছে। এরপর দখলদাররা সেখানে নানা জাতের মাছের চাষ করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল দখলের নেতৃত্বে রয়েছেন পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান। মাস দুয়েক আগে থেকে খালটি দখল করে মাছ চাষ করছেন তিনি। সেই সঙ্গে রুকুরুদিয়া গ্রামের হাজি নুরুল আবছারের ছেলে নুরুল আজিম, বাইন্যাঘোনা গ্রামের আবদুর রহিমসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি খালটি দখলে নিয়ে মাছ চাষ করছে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, খালের দুই পাশের তিনটি গ্রামে অন্তত দুই হাজার একর কৃষিজমিতে লবণের চাষ হয়। মৌসুমি ধানের চাষও হয় কিছু জমিতে। এখন সেই খাল দখল করায় কৃষিকাজে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া দখলদারদের কারণে গ্রাম তিনটির কোনো বাসিন্দা খালের পানি ব্যবহার করতে পারে না। খালে জাল দিয়ে মাছ ধরে যেসব ব্যক্তি জীবিকা নির্বাহ করত, তারা হয়ে পড়েছে উপার্জনহীন।

বাইন্যাঘোনা গ্রামের বাসিন্দা মনির হায়দার চৌধুরী জানান, স্থানীয় লোকজন যুগ যুগ ধরে রোপাই খালে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। এখন প্রভাবশালীরা খাল দখল করে নেওয়ায় দরিদ্র পরিবারগুলোর বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, ওই খালের ইজারা আমাদের নামে ছিল। যেহেতু খাল ইজারা নিয়েছি, সেহেতু খালে বাঁধ দিয়ে হোক বা যেকোনো উপায়ে হোক, মত্স্য চাষ তো করব। প্রবহমান খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের নিয়ম না থাকলেও তারা কিভাবে করছেন জানতে চাইলে দখলদাররা সদুত্তর দিতে পারেননি।


মন্তব্য