kalerkantho


অনিশ্চয়তায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মী

ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তা পাওয়া পাড়াকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ বাড়েনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়লেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল রবিবার উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পভুক্ত চার হাজারতম পাড়াকেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছে প্রকল্পভুক্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সূত্র জানায়, আগামীকাল সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ির ওই পাড়াকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন। গত ৩১ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা না আসায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দিতে ১৯৮০ সাল থেকে এসব পাড়াকেন্দ্র কাজ শুরু করে। 

আইসিডিপির বান্দরবান জেলা ব্যবস্থাপক পুলু প্রু মারমা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট চার হাজার পাড়া কেন্দ্রের মধ্যে বান্দরবান জেলায় পাড়া কেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ৭৫টি। প্রতিটি পাড়া কেন্দ্রে একজন করে পাড়াকর্মী, প্রতি ১০টি পাড়াকেন্দ্র তত্ত্বাবধানের জন্যে একজন সিনিয়র পাড়াকর্মী, প্রতি উপজেলায় তিনজন করে কর্মসূচি কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে জেলাপর্যায়ে আরো কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।

তিনি জানান, ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় পাড়াকেন্দ্রগুলো শিশুদের স্কুলমুখী করার পাশাপাশি কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রসূতি মায়েদের যত্ন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।

সম্প্রতি বান্দরবান সদর উপজেলার রেইচা থলির পাড়া কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পাড়াকর্মীর সহায়তায় শিশুরা গান করে, পুতুল নিয়ে খেলে। বইয়ের পড়াতে মনোযোগ দেয়।

দায়িত্বপ্রাপ্ত পাড়াকর্মী নাইথুই চিং মারমা জানান, পাড়াকর্মীরা শুধু পাড়াকেন্দ্রেই দায়িত্ব পালন করে না, তারা বিকেলে বয়স্কদের নিয়ে উঠান বৈঠক করে তাদের শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করে। কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং প্রয়োজনে সিনিয়র সহকর্মীদের সহায়তায় চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করিয়ে দেয়।

রেইচা থলির পাড়াকেন্দ্র-২ এর ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য মাচিং মারমা বলেন, পাড়াকেন্দ্র পরিচালনা এবং মনিটরিংয়ের কাজে স্থানীয় অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনজন নারী সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় শিশু ও মাতৃসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পাড়াকেন্দ্রগুলো সচল না রাখলে এসব কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। শিশুদের মধ্যে স্কুলমুখী হওয়ার যে প্রবণতা গড়ে উঠেছে তাও বাধাগ্রস্ত হবে।


মন্তব্য