kalerkantho


মাইজভাণ্ডারে ওরশ শুরু দেশি-বিদেশি ভক্তের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মাইজভাণ্ডারে ওরশ শুরু দেশি-বিদেশি ভক্তের ঢল

গতকাল ফটিকছড়িতে শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর মাজার ঘিরে ভক্তদের ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাউসুুল আজম শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী প্রকাশ হযরত কেবলার ১১২তম ওরশ ঘিরে ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবারে দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তের মিলনমেলা বসেছে। তিন দিনব্যাপী ওরশ গতকাল রবিবার শুরু হয়েছে।

এ উপলক্ষে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে পুরো দরবার। ইতোমধ্যে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়েছে দরবার ও আশপাশের এলাকা। ভক্তরা মাজারের আশপাশে স্ব-স্ব মঞ্জিলের অস্থায়ী ক্যাম্পে যে যাঁর মতো অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা মাজার জেয়ারত, বিশেষ মোনাজাত, জিকির আজকার, জিকিরে ছেমাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সময় পার করছেন। বসেছে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে কাওয়ালি গানের আসরও।

প্রতিবছর এই মহান অলির ওরশে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ওমানসহ নানা দেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত-অনুরক্ত অংশ নেন। রবিবারের কর্মসূচিতে খতমে কোরআন, খতমে গাউছিয়া, নাতে মোস্তফা (দ.) ও শানে গাউসিয়া পরিবেশন, মিলাদ মাহফিল, প্রতি ওয়াক্তে জায়েরিন ক্যাম্পে জামাতে নামাজ আদায়, কোরআন হাদিসের আলোকে আলোচনা, জিকির, ছেমা মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে ওরশ উপলক্ষে রেলওয়ে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রুটে বিশেষ রেলের ব্যবস্থা করেছে। আগত ভক্তদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা মাজার ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার এবং মাইজভাণ্ডার ওরশ শরীফ

সুপারভিশন কমিটির বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও মাইজভাণ্ডারী স্পেশাল ফোর্স (এমএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে। মাইজভাণ্ডার ওরশ শরীফ সুপারভিশন কমিটির উদ্যোগে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় গাড়ি পার্কিংসহ অতিথিদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে থাকা, সময়মতো জামাত সহকারে নামাজ আদায়, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, আলোকসজ্জা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ব্যবস্থা রয়েছে।

আওলাদে রাসুল (দ.), সাজ্জাদানশীনে দরবার হযরত মওলানা শাহসুুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে আধ্যাত্মিক সাধনার সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় কোরআন ও হাদিসের মৌলিক শিক্ষাকে আশ্রয় ও আত্মস্থ করে অনেক তরিকার আত্মপ্রকাশ ঘটে। যেমন কাদেরিয়া, মুজাদ্দেদিয়া, নকশবন্দিয়া, চিশতিয়া ইত্যাদি।

এরই ধারাবাহিকতায় ঊনবিংশ শতাব্দির মধ্যভাগে কোরআন ও হাদিসের শিক্ষাকে অনুসরণ করে গাউসুুল আজম হযরত মওলানা শাহসুুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর আধ্যাত্মিক শক্তি ও শিক্ষাকে ধারণ করে একটি ত্বরিকা প্রচারের সূচনা হয়। তাঁর অনুসৃত ও প্রচারিত আধ্যাত্মিক সাধন পদ্ধতি বা ত্বরিকা ‘মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।’

ওরশ শরীফের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন আওলাদে রাসুল, নায়েব সাজ্জাদানশীন ও মোনতাজেমে দরবার সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী। তিনি বলেন, ‘ওরশ সুপারভিশন কমিটি ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে আল্লাহর অশেষ রহমতে এবারের ওরশ খুব ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

আজ সোমবার দুপুরে গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর রওজা শরীফে গিলাপ চড়ানো এবং বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করবেন আওলাদে রাসুল (দ.) সাজ্জাদানশীনে দরবার হযরত মওলানা শাহসুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী।

এদিকে ওরশ শরীফ উপলক্ষে গত দুই মাস ধরে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউসে মাইজভাণ্ডারী (শাহ্ এমদাদীয়া) এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করে আসছে। এর মধ্যে ছিল গরিব-দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, রক্তদান কর্মসূচি, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, গাউসুুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণ, স্কুলভিত্তিক মেধা বিকাশ কার্যক্রম এবং পোস্টার, ফেস্টুন ও তোরণ দিয়ে সাজসজ্জা।

ওরশের প্রধান দিবস আগামীকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২.০১ মিনিটে গাউসিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল শাহী ময়দানে ওরশ শরীফের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন হযরত মওলানা শাহসুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী।


মন্তব্য