kalerkantho

সালেহ কার্পেট জুট ও রি-রোলিং মিল

বিক্রির ৮ বছর পর দখল চেষ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়দেনা পরিশোধের শর্তে বিক্রি করা হয়েছিল একটি শিল্পগ্রুপের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ। হস্তান্তরের এক বছর আগে প্রাপ্ত ‘পাওয়ার অব এটর্নি’ মূলে প্রায় আট বছর পর এসব সম্পদ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁদের এক আত্মীয়।

২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসুল এলাকার সালেহ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সালেহ কার্পেট, সালেহ জুট ও সালেহ জরিনা রি-রোলিং মিলসের ভূমিসহ সমুদয় সম্পদ কিনে নেয় ইস্ট ওয়েস্ট কন্টেইনার টার্মিনাল লিমিটেড। ওই সময় সোনালী ব্যাংক শিল্পসংস্থা, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা ও গোষ্ঠীর কাছে শিল্পগ্রুপটির দেনা ছিল প্রায় ১১০ কোটি টাকা।

শিল্পপতি মরহুম সালেহ আহমদ চৌধুরীর মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পদ বিক্রির জন্য সালেহ আহমদ চৌধুরীর সন্তান ও উত্তরাধিকারীরা সম্মিলিতভাবে এই সম্পদ হস্তান্তরের একটি চুক্তি সম্পাদন করেন। সম্পাদিত চুক্তির দলিল হস্তান্তরের পর ইস্ট ওয়েস্ট কন্টেইনার কর্তৃপক্ষ সালেহ জুট, সালেহ কার্পেট ও সালেহ জরিনা রি-রোলিং মিলের শ্রমিকদের বকেয়া সাড়ে সাত কোটি টাকা পরিশোধ করেন। এরপর মালিক পক্ষের দাবিকৃত ৩০ কোটি টাকাসহ সোনালীসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক এবং বিভিন্ন আর্থিক সংস্থার প্রাপ্য বকেয়া প্রায় পরিশোধ শুরু করে। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সংস্থার প্রাপ্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন।

মেজবাহ উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘মরহুম সালেহ আহমদ চৌধুরীর উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে কথিত পাওয়ার অব এটর্নি নিয়ে সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী ইস্ট ওয়েস্ট কন্টেইনার লিমিটেডের স্বত্ব দাবি করায় আমরা বিস্মিত হয়েছি।’

মরহুম সালেহ আহমদ চৌধুরীর বড় মেয়ের জামাতা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী কয়েকদিন আগে সীতাকুণ্ডে ইস্ট ওয়েস্ট কন্টেইনার লিমিটেডে গিয়ে ওই জায়গা পাওয়ার অব এটর্নি মূলে তাঁর বলে দাবি করেন।

তবে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইস্ট ওয়েস্ট কন্টেইনার টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ তাদের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। চুক্তির দলিলে ১৬ নম্বর ক্লজে উল্লেখ করা হয়েছে  চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে তাদের চুক্তির বৈধতা থাকে না। বিশেষ করে এই চুক্তি হয়েছে আনরেজিস্টার্ড দলিলে।’

মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর দাবি, মরহুম সালেহ আহমদ চৌধুরীর উত্তরাধিকারীরা এক বছর আগে তাঁকে ওই সম্পদের সামগ্রিক দায়িত্ব অর্পণের জন্য পাওয়ার অব এটর্নি দেন।

অপরদিকে ইস্ট ওয়েস্ট কন্টেইনার টার্মিনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘সালেহ আহমদ চৌধুরীর উত্তরাধিকারীরা এই শিল্পকারখানা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সময় সোনালী ও অন্যান্য ব্যাংকসহ নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ গ্রহণ করেন। যা পরবর্তীতে তাঁরা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। বিপুল পরিমাণ দায়দেনা পরিশোধের দায়িত্ব নিয়ে আমরা এই সহায় সম্পদ ক্রয় করি। এতোগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করে ভূমির মালিকপক্ষকে টাকা পরিশোধ করতে একটু সময় লাগতেই পারে। তবে আমরা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে তাঁদের প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের টাকাও পরিশোধ করি।’

এ ব্যাপারে মরহুম সালেহ আহমদ চৌধুরীর বড় ছেলে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট আমরা আমাদের এই মিল কারখানার সমুদয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ইস্ট ওয়েস্ট কন্টেইনার টার্মিনাল লিমিটেডের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আমাদের এক অতি নিকটাত্মীয় ওই সম্পদ পুনরায় ফেরত পাওয়া যায় কিনা সে চেষ্টায় একটি পাওয়ার অব এটর্নির মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বোনদের মন রক্ষার্থে আমরা এটা করেছি, যা আইনত শুদ্ধ নয়।’


মন্তব্য