kalerkantho


ইয়াবা মামলায় আটকের পর লাখ টাকায় দফারফা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইয়াবা মামলায় আটকের পর লাখ টাকায় দফারফা!

নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি টহলদল ইয়াবা মামলায় আকতার হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটকের ২৪ ঘণ্টা পর লাখ টাকায় দফারফা করে ছেড়ে দিয়েছে! সোমবার সন্ধ্যায় সাতকানিয়া থেকে আটক আকতারকে বায়েজিদ বোস্তামী থানা থেকে মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। মাঝখান পেরিয়ে যায় ২৪ ঘণ্টা।

আকতার হোসেন সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের সাতগড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তাঁকে সোমবার সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের ফকিরহাট থেকে আটক করেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপ-পরিদর্শক আবছার উদ্দিন রুবেল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক আলমগীর, ইব্রাহিম ও নেছার।

 

সোমবার সন্ধ্যায় আকতার হোসেনকে পুলিশের একটি দল আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করে ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোসাদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুনেছি সোমবার সন্ধ্যায় আকতার হোসেনকে পুলিশের একটি দল আটক করে শহরে নিয়ে গেছে। তাঁকে ইয়াবাসংশ্লিষ্ট মামলায় আটক করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানি না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আকতারকে ভালো ছেলে হিসেবেই জানি। কিন্তু ইয়াবা মামলায় তাঁকে আটক করা হয়েছে জেনে বিস্মিত হয়েছি। তবে সর্বশেষ কী হয়েছে তা জানি না।’

বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় সাতকানিয়া থেকে আটকের পর আকতারকে বায়েজিদ থানায় এনে মারধর করে উপ-পরিদর্শক রুবেলের নেতৃত্বাধীন দলটি। এ সময় তাঁর কাছে ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সবচেয়ে বেশি মারধর করেছেন সহকারী উপ-পরিদর্শক আলমগীর। রাতে মারধরের পর মঙ্গলবার তাঁকে দিনভর থানায় আটকে রাখা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছদাহা থেকে আকতারের স্বজনরা এসে মুচলেকা দিয়ে তাঁকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন। এই ফাঁকে আকতারের স্বজনদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা আদায় করেছেন অভিযানকারী দলের পুলিশ সদস্যরা।

আকতার হোসেনকে সাতকানিয়া থেকে আটকের পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থানায় আটকে রাখা এবং ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে উপ-পরিদর্শক আবছার উদ্দিন রুবেলকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। পরে সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. আলমগীর বলেন, ‘আসামি আনা ও ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনি (প্রতিবেদক) থানায় কথা বলুন।’ থানায় কার সঙ্গে কথা বলব?-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।’ আকতারকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মারধর করিনি।’ একই বিষয়ে অভিযানকারী দলের সদস্য উপ-পরিদর্শক নেছার উদ্দিন বলেন, ‘আমি স্যারদের সঙ্গে গিয়েছিলাম। যেখানে গিয়েছি সেই এলাকা সম্পর্কে আমার ধারণা নেই।’ ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না না, এতো সময় আটকে রাখা হয়নি।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি ইয়াবা মামলায় আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকতারকে আনা হয়েছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ করে আকতারের ইয়াবাসংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাই আকতারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’  ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ মোটেই সত্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘কেউ অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করতে পারে। ইয়াবা মামলায় অহেতুক কাউকে জড়িয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। টেকনাফ থেকে দুই হাজার ইয়াবা পাচার করে চট্টগ্রামে এনে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি এলোমেলো তথ্য দেওয়ার কারণেই আকতারকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়েছে। এছাড়া আকতার নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে। তাঁর পক্ষে এতো টাকা দেওয়া আদৌ সম্ভব কিনা, সেটা আপনিই (প্রতিবেদক) খোঁজ নিয়ে দেখুন।’

একই বিষয়ে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) ওয়ারিশ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনিনি। বিস্তারিত জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 


মন্তব্য