kalerkantho


আদালতে জবানবন্দি

টাকার জন্যই স্কুলছাত্র মেহেদীকে অপহরণ করে ৪ কিশোর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



টাকার জন্যই সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান মিসকাতকে অপহরণ করেছিল অপহরণকারীরা। তাদের মধ্যে মুক্তাদিরেরই টাকার প্রয়োজন ছিল বেশি। তার পরিকল্পনাতেই অন্য তিন বন্ধু অপহরণে যুক্ত হয়। এছাড়া অপহরণের পর শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটুনি দেওয়ার পর মৃত ভেবে ফেলে রেখে অপহরণকারীরা পালিয়ে গিয়েছিল। এরপরও মেহেদী হাসানের পরিবার থেকে টাকা আদায়ের কৌশল নেয় অপহরণকারীরা।

মেহেদী হাসান অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার চার কিশোর গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একথা বলেছে। জবানবন্দির পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চার আসামিকে সোমবার মহানগর হাকিম আদালতে সোপর্দ করা হয়। তারা ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে আসামিরা জানায়, মুক্তাদির রহমানের পরিকল্পনায় মেহেদী হাসানকে অপহরণ করা হয় এবং তার পরিকল্পনাতেই টাকা আদায় করে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।’ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হল মুক্তাদির রহমান, শাকিল, এ আল কিবরিয়া ও শাহিদ আজ-মাঈন। তাদের বয়স ১৮ বছরের মধ্যেই। গত শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত সময়ে অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

অপহরণের শিকার মেহেদী হাসান শুভপুর রাহাত সেন্টারের সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাসা সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি ডিটি রোডের আবদুল জলিল সওদাগরের বাড়িতে। তার বাবার নাম আবদুল জলিল।

মেহেদী হাসানকে অপহরণের পর হত্যাচেষ্টা চালানোর দায় স্বীকার করা আসামি মুক্তাদির সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর দ্বিতীয় দফায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শাকিল নগরের ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ ও কিবরিয়া সরকারি সিটি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং শাহিদ রেলওয়ে বহুমুখী স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। তারা মেহেদী হাসানের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল।


মন্তব্য