kalerkantho


গাছের এক ডালেই এতো ভোগান্তি!

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



গাছের এক ডালেই এতো ভোগান্তি!

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ঝড়ে উড়ে পড়া গাছের ছোট্ট ডালটির (গোল চিহ্নিত) কারণে রবিবার রাঙামাটি শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছোট্ট একটি গাছের ডালের কারণেই গত রবিবার সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুত্হীন ছিল পার্বত্য শহর রাঙামাটি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা খোঁজার পর জানতে পারেন কাপ্তাই উপজেলার নিকটবর্তী চন্দ্রঘোনায় বিদ্যুতের তারের উপর রয়েছে সেই ডাল। পরে সেটি অপসারণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। বিদ্যুৎ ভোগান্তির এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে এখানে।

রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান ও নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানিয়েছেন, সরবরাহের অভাব কিংবা কারিগরি ত্রুটি নয়, সামান্য ঝড়ো বাতাসে দীর্ঘ ৬০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনে ছোট বড় ডাল পড়া এবং কোন স্থানে সেটা পড়েছে তা খুঁজে বের করতেই সময় লাগে বেশি। এ কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, রাঙামাটি শহরের বিদ্যুতের চাহিদা ১২ মেগাওয়াট। পুরো জেলার চাহিদা ২৭ মেগাওয়াট। প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী মিলছে সরবরাহ। ফলে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু কাপ্তাই থেকে দীর্ঘ ৬০ কিলোমিটারের সরবরাহ লাইনের কারণে সমস্যা হচ্ছে। সামান্য ঝড়ো বাতাস হলেই দেখা যায়, লাইনের কোথাও না কোথাও মরা বা তাজা গাছের ডাল এসে পড়ছে। এটি অপসারণ করতে হয়ত কয়েক মিনিট সময় লাগে। কিন্তু খুঁজে বের করতেই লাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পুরো লাইন চেক করতে হয়। এ কারণে গ্রাহকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সমস্যা সমাধানে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে জনবল তা দিয়ে ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন চেক করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আবার ওই লাইন কোথাও হ্রদের উপর দিয়ে, কখনো গভীর জঙ্গলের উপর দিয়ে গেছে। ফলে এসব চেক করতে সময় লাগবে।’

সমস্যা সমাধানে আশার বাণীও শুনিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যে রাঙামাটির কুতুকছড়িতে নতুন বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রিডের কাজ শেষ হলে আর সমস্যা থাকবে না। তখন বর্তমানের প্রায় ৬০ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন কমে ৬/৭ কিলোমিটার হয়ে যাবে।’

বর্তমান সংকট নিরসনে জেলাবাসীর ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘কোথাও লাইনে ফল্ট হলে সাথে সাথেই যদি স্থানীয়রা লাইনের উপর পড়া গাছ বা গাছের ডালের তথ্য আমাদের অবহিত করেন তাহলে আমরা তাত্ক্ষণিক সমস্যা সুরাহার চেষ্টা করব।’

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু রবিবার জেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় বলেন, ‘কেন রাঙামাটির মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এর জবাব দিতে হবে।’ তিনি আসন্ন রমজানে রাঙামাটিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান। বিদ্যুতের কারণে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি দ্রুত এর সমাধান করার পরামর্শ দেন।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য হাজি মো. মুছা মাতব্বর বলেন, ‘যতদূর জেনেছি, বিদ্যুৎ বিভাগ চেষ্টা করছে,। তবে পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ঝড়ো বাতাসে গাছপালা তারের উপরে পড়ার কারণে হয়তো সমস্যাটা বেশি হচ্ছে। তবে আমি বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করব মানুষের কষ্ট যেনো না হয়, সেই জন্য তাদের আরো বেশি কাজ করতে হবে এবং একই সাথে মানুষকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য সহকারে বিদ্যুৎ বিভাগকে সহযোগিতা করতে হবে।’


মন্তব্য