kalerkantho


রোজায় যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ উদ্যোগ

নগরের নিরাপত্তায় ৭ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



রোজার মাসে নগরের সার্বিক নিরাপত্তায় ৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এ সময় যানজট এড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। গাড়ি তল্লাশি বা কাগজপত্র পরীক্ষার সময় পুলিশ আরও সতর্ক হবে এবং ফুটপাত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা নিশ্চিত করবে।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে নগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাসুদ-উল-হাসান নগরের ব্যবসায়ী নেতা, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি রমজান ও ঈদ ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, ‘রোজার মাসে ট্রাফিক ও ক্রাইমে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের অনেক বদনাম থাকে। কিন্তু এবার এ মাসে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করবে না। যদি কোনো বিশেষ অভিযোগ বা তথ্য থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি গাড়িকে ৫ টাকা করে জরিমানা করে সরকারকে ৫০০ টাকা দিতে চাই না। মানুষকে সেবা দিতে চাই। তবে রমজানে যদি সড়কে কেউ লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি নামান তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মাসুদ-উল-হাসান মনে করেন, সড়ক ভালো থাকলে যানজট পরিস্থিতি আরো অনেক উন্নতি করা সম্ভব।

রমজানে ভারী যানবাহনের চলাচলের বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমদানি-রফতানি এবং জরুরি খাদ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্যবাহী ভারী যানবাহন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নগরে প্রবেশ করতে পারবে না। আন্তঃজেলার বাসগুলো সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরে প্রবেশ করতে পারবে না। খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ে পণ্য নিয়ে যেসব ট্রাক আসবে সেগুলো রাত ১০টার পর ঢোকবে এবং সকাল ৮টার মধ্যে পণ্য খালাস করে চলে যাবে।’

যানজট এড়াতে ইপিজেডের কারখানাগুলো নির্ধারিত সময়ের একঘণ্টা আগে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বেপজাকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি জানান, যেসব মার্কেট-শপিংমলে নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই তাদের কাছাকাছি বিকল্প জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। প্রত্যেক মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব উদ্যোগে দুই শিফটে কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সড়কের যানজট নিরসনে পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক। 

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রমজান মাসে নগরের নিরাপত্তায় ৭ হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। দুই র্িশফটে পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’

মতবিনিময়কালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম, উপ-কমিশনার (সদর) শ্যামল কান্তি নাথ, উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য