kalerkantho

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কারা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নারী সংসদ সদস্য খোরশেদ আরা হকের (আসন ৫০) এপিএস ও ভাগ্নে পরিচয়ে চক্রটি প্রতারণা করে আসছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার চকরিয়া থানায় প্রতারক চক্রের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কুমিল্লার বুড়িচং থানার কাছাখোলার ঘোষনগরের নারায়ণশাহ এলাকার আশিক ভিলার মো. আবদুল খাইরের ছেলে মো. ফারুক হোসেন মামলাটি করেন।

এমপির এপিএস ও ভাগ্নে পরিচয়দানকারী চকরিয়ার বিএমচর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর গ্রামের নুর আহমদের ছেলে আলমগীর রানাকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের একজন শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি পরিচয়দানকারী মো. রাসেল (২৫)। তিনি চকরিয়ার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনা গ্রামের নুরুচ্ছফার ছেলে। অন্যজন হলেন চকরিয়ার  কৈয়ারবিল খোঁজাখালী গ্রামের মৃত মাস্টার শেখাব উদ্দিনের ছেলে মো. সাজ্জাদুর রহমান (২৮)।

ভুক্তভোগী মো. ফারুক হোসেন জানান, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ঢাকার সচিবালয়ে যান ব্যক্তিগত কাজে। এ সময় সেখানে পরিচয় হয় আলমগীর রানার সঙ্গে। তখন রানা নিজেকে এমপি খোরশেদ আরা হকের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) ও আপন ভাগ্নে বলে পরিচয় দেন। সেই সুবাদে আলমগীর রানার সঙ্গে পরিচয় ও সখ্যতা হয়। পরে রানা তাঁকে জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ যেকোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোনো পদে সরকারি চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন অনেককে। আরো বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারা অধিদপ্তরে কম্পিউটার-কাম-মুদ্রাক্ষরিক পদে কিছু লোক নিয়োগ করা হবে। তখন ফারুক তাঁর ভাগ্নে খাইরুল ইসলাম সাজুকে ওই পদে নিয়োগ পাইয়ে দিতে তাঁদের সহযোগিতা চান। এ অবস্থায় ওই তিনজন চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য নগদ ৮ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে দরকষাকষির পর সাড়ে ৫ লাখ টাকায় মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন। সেই অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল তিনটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা বিশ্বরোডের আলকারচরের জমজম হোটেলে বসে নগদ ২ লাখ টাকা দেন। বাকি টাকা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক চকরিয়া শাখার একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে বিভিন্ন সময়ে প্রদান করেন। কিন্তু ভাগ্নের চাকরি হওয়া তো দূরের কথা এ বিষয়ে মুঠোফোনে এবং সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাঁকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেন।

চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত চৌধুরী বলেন, ‘প্রতারক চক্রে আরো কারা রয়েছে এবং এ পর্যন্ত কী পরিমাণ অর্থ হাতিয়েছে তারা এর বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রতারক চক্রের মূলহোতা আলমগীর রানাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’


মন্তব্য