kalerkantho

আদনান হত্যা মামলা

সেই ‘বড়ভাই’ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নগরের জামালখান এলাকায় স্কুলছাত্র আদনান ইসপার হত্যা মামলার আসামি ‘বড়ভাই’ জিলহাজ্বকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে জিইসির মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

জিলহাজ্ব উদ্দিন (২২) চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার সমিতিরহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দর্শন বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি নিজেকে ‘বড়ভাই’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফলে নানা ধরনের অপরাধের আশ্রয়দাতা হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি।

জিলহাজ্বকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন কালের কণ্ঠকে জানান, আদনান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে জিলহাজ্ব পলাতক ছিলেন। এ কারণে তখন তাঁকে ধরা যায়নি। সমপ্রতি তিনি নগরে এসেছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। গত বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জিলহাজ্বের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আদনান হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনই জানিয়েছিল, তাদের বড় ভাই জিলহাজ্ব।’

হত্যাকাণ্ডের দিন আসামিরা যে পিস্তল ব্যবহার করেছিল সেটি এনাম নামের একজন সরবরাহ করেছিলেন বলে আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা জানিয়েছিল। এই অস্ত্রের মালিকও এনাম। এই এনামের সঙ্গে জিলহাজ্বের সখ্যতা রয়েছে। তাঁরা দুজন অস্ত্রবাজির মাধ্যমে মহসিন কলেজ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন। আবার এনাম ও জিলহাজ্বের ‘বড় ভাই’ চকবাজার থানা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রউফ বলে পুলিশকে জানিয়েছেন আসামিরা। রউফ নিজকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি জামালখান এলাকায় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় চট্টগ্রাম সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান ইসপারকে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা প্রকৌশলী আদনান আজম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার আসামি নগরের হাজেরা-তজু কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মঈন খান, সাব্বির খান ও মুনতাছির মোস্তফা, ইসলামিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা আব্দুল্লাহ আল সাঈদ ও এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থী এখলাস উদ্দিন আরমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

 



মন্তব্য