kalerkantho


এমএসএন-বিবিসি ছাড়াও সেই রোমাঞ্চ

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



আজ রাতে বার্সেলোনায় দেখা যাবে না ‘এমএসএন’ আর ‘বিবিসি’! এমন নয় যে আন্তর্জাতিক এ দুই খ্যাতিমান গণমাধ্যমের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে স্প্যানিশ সরকার। নেইমার প্যারিস সেন্ত জার্মেইতে চলে যাওয়ায় ভেঙে গেছে ‘এমএসএন’, অন্যদিকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সুপার কাপের প্রথম লেগে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় ‘বিবিসি’ও হচ্ছে না।

এবারের এল ক্লাসিকো তাই ‘এমএসএন’ ও ‘বিবিসি’ ছাড়াই!

রিয়াল কোচ জিদান যদিও মানছেন, নেইমার চলে গেলেও সামর্থ্য কমেনি বার্সার; একই সঙ্গে কিন্তু এটাও জানিয়েছেন, ‘নেইমারের জায়গায় যেই খেলুক, সে তো নেইমারের মতো হবে না। কারণ নেইমার খুবই ভালো ফুটবলার, তার মতো খুব বেশি কেউ নেই। এমন কারো আসলে কোনো বিকল্প হয় না। ’ নেইমারের জায়গায় বার্সা কোচ এর্নেস্তো ভালভের্দে পছন্দ করছেন জেরার্দ দেলোফুকে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘কামব্যাক স্টোরি’র রচয়িতা নেইমারের জায়গায় বার্সার একাডেমি থেকে বের হওয়ার পর ধারে এ ক্লাবে খেলে ফের বার্সেলোনায় আসা দেলোফু কেমন করবেন, সেটা অবশ্য সময়ই বলে দেবে। হুয়ান গ্যাম্পার ট্রফিতে চাপেকোয়েনশের বিপক্ষে ভালো খেলাটাই এগিয়ে রাখছে দেলোফুকে, তবে রিয়াল তো আর চাপেকোয়েনশে নয়!

এল ক্লাসিকোকে কখনো কেউ হালকাভাবে নেওয়ার মতো ভুল করে না, কিছুদিন আগে ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নস কাপেই দেখা গেছে তার প্রমাণ। তার ওপর এত সুপার কাপ, জিততে পারলে আরেকটা শিরোপা! এমন অবস্থায় কেউই যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে এক বিন্দু ছাড় দেবে না, সেটা আন্দাজ করাই যায়। ভালভের্দেও চাইবেন এল ক্লাসিকো জিতে কোচ হিসেবে শুরুটা স্মরণীয় করে রাখতে। এমএসএন ভেঙে যাওয়ার পর প্রথম এল ক্লাসিকোতে কাকতালীয়ভাবেই নেই ‘বিবিসি’।

বেনজেমা-বেল-ক্রিস্তিয়ানো—কেউই ক্লাব ছাড়েননি। তবে কনফেডারেশনস কাপের সেমিফাইনালের পর ফুটবল থেকে দূরে থাকা রোনালদো এখনো অনিশ্চিত এই ম্যাচে। যদিও জিদান বলেছেন, সব ঠিক আছে। তার পরও মার্কার খবর, সব শেষ অনুশীলনে যোগ দিলেও এখনো ম্যাচ খেলার মানে পৌঁছাননি রোনালদো। লিগের প্রথম ম্যাচটা, দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে গোটাটাই খেলতে চান সিআরসেভেন, তাই ন্যু ক্যাম্পে ৪৫ মিনিট আর এরপর বার্নাব্যু ৬০-৭০ মিনিট খেলবেন, এমনটাই ভাবছেন তিনি। জিদান ৪-৪-২ ছকে দল সাজানোার চিন্তা করছেন, তাতে মাঠে বেশি করে মিডফিল্ডার খেলানো যাবে। মডরিচের নিষেধাজ্ঞায় মাত্তেও কোভাচিচ ঢুকে যাচ্ছেন একাদশে। দানি সেবেয়াইয়াস ও মার্কোস ইয়োরেন্তেকে রেখে জিদান তাঁকে সুযোগ দিচ্ছেন মানে, তাঁর ওপর আস্থা আছে জিদানের। এল ক্লাসিকোতে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে হয়তো লিগে একাদশে বেশিবার জায়গা হবে তাঁর।

মেসি-সুয়ারেস-দেলোফুর রসায়নেই ৫ গোল হয়েছিল চাপেকোয়েনশের বিপক্ষে। অন্যদিকে রোনালদোবিহীন উয়েফা সুপার কাপে কাসেমিরো ও ইসকোর ঝলক এ ম্যাচেও আশাবাদী করে তুলেছে জিদানকে, ‘ইসকোর খেলাটা বিবিসি ত্রয়ীর সঙ্গে অনেক বেশি মানিয়ে যায়। তাকে দিয়ে অনেক কিছুই করানো সম্ভব। আমি আশাবাদী, দেখি কী হয়। ’ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ও উয়েফা সুপার কাপে গোল করা কাসেমিরোর কাছেও প্রত্যাশা বেড়েছে জিদানের, ‘আমরা আক্রমণে একটা দল হিসেবে যাই, ওর একার ওপর একক কোনো দায়িত্ব নেই। তবে সব শেষ দুটো শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সে গোল করায় আমি খুশি। যদিও তার মূল কাজ গোল করা নয়। ’

নতুন মৌসুম আসতে আসতে বদলে গেছে অনেক কিছুই। ছক, খেলোয়াড়, কোচ। তবে বদলাচ্ছে না রিয়াল-বার্সেলোনার দ্বৈরথের চেহারাটা। বছরের পর বছর ধরে, নানা পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাবার পরও এই ম্যাচের আবেদন একফোঁটা কমে নি বলেই তো নামটা ‘এল ক্লাসিকো’। ধ্রুপদী, চিরায়ত, যা কখনোই পুরোনো হবার নয়। মার্কা, এএফপি


মন্তব্য