kalerkantho


মেসিময় ম্যাচে বার্সার বদলা

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মেসিময় ম্যাচে বার্সার বদলা

গত মৌসুমের বাজে পারফরম্যান্স, দলবদল নিয়ে হতাশা; ওদিকে রিয়াল মাদ্রিদের আধিপত্য—তাতে বার্সেলোনার সোনালি সময়ের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। কিন্তু তাঁরা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসির কথা।

তিনি দলে থাকলে সেই দলকে যে বাতিলের খাতায় ফেলা যায় না কোনোভাবেই। তারই প্রমাণ দিয়ে পরশু জুভেন্টাসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আগের মৌসুমের বদলা নিয়েছে কাতালানরা।

সেই দ্বৈরথের সঙ্গে এবারের ম্যাচের বড় পার্থক্য ছিল বার্সায় নেইমারের না থাকা। আরেকটি বড় পরিবর্তন অবশ্যই এর্নেস্তো ভালভেরদে। নতুন এই কোচ নেইমারহীন বার্সায় মেসিকে ফিরিয়েছেন পেপ গার্দিওলার প্রিয় ‘ফলস নাইন’ পজিশনে। তাতে গত ছয় ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকার ৭ গোল। যার দুটি জুভেন্টাসের বিপক্ষে। এর আগে জিয়ানলুইজি বুফনকে কখনো হারাতে পারেননি তিনি। কিন্তু ইতালিয়ান কিংবদন্তি রেকর্ডটা আর ধরে রাখতে পারেননি।

ন্যু ক্যাম্পে বিরতির ঠিক আগে লুই সুয়ারেসের সঙ্গে লিংক আপে বক্সের ওপর থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়ান মেসি। পরের গোলটিও তাঁর মাঝখান দিয়ে, ডিফেন্সচেরা ড্রিবলিংয়ে। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার কাছ থেকে বল পেয়ে কয়েক গজ দৌড়ে বক্সের সামনে ঠিক জায়গা করে ফেলেন তিনি, সেখান থেকে আবারও কোনাকুনি শটে বুফনকে হারিয়েছেন তিনি। মাঝখানে ইভান রাকিতিচের করা গোলেও তাঁর অবদান। মেসির শট কোনো রকমে ক্লিয়ার করেছিলেন জুভ ডিফেন্ডার স্তেফানো স্তুয়ারো, কিন্তু সুযোগের সন্ধানে থাকা রাকিতিচকে তিনি রুখতে পারেননি।

এক প্রান্তে এই মেসি-শো’র কোনো জবাব ছিল না অন্য প্রান্তে। আগের দ্বৈরথের নায়ক পাউলো দিবালা, গনসালো হিগুয়েইন ছিলেন নিষ্প্রভ। শুরুতে অবশ্য জুভেন্টাসকে বেশ উজ্জ্বলই দেখিয়েছে। রাইট ব্যাক মাতিয়া দি সিগলিও, পাউলো দিবালা এবং মিরালেম পিয়ানিচ পরীক্ষা নিয়েছেন আন্দ্রে টের-স্টেগানের। বার্সা গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সেই হুমকি সামলে স্বাগতিকরাও নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে। মেসির ফ্রিকিক দেয়ালে লেগে ফিরে এলে সেই বলে লুই সুয়ারেসের বুলেট গতির শট দারুণ রিফ্লেক্সে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বুফোনও। কিন্তু মেসির কাছেই শেষ পর্যন্ত হার মেনেছেন তিনি। আর্জেন্টাইন তারকা হ্যাটট্রিকও পেতে পারতেন এদিন। বিরতির পরপর তাঁর আরেকটি শট যে পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এর আগে এসপানিওল, ভিয়ারিয়াল, ভ্যালেন্সিয়া, অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের কোচ হিসেবে মেসির এমনই পারফরম্যান্সের শিকার হয়েছেন এর্নেস্তো ভালভেরদে, এখন কোচ হিসেবে সেই মেসিকেই উপভোগ করছেন তিনি। ম্যাচ শেষে তাঁর কণ্ঠে সেই মুগ্ধতা, বিস্ময় পরিষ্কার ধরা পড়েছে, ‘মেসি দলে থাকা মানেই দারুণ কিছু হতে যাচ্ছে এমন একটা অনুভূতি সব সময় কাজ করা। বিপক্ষ দলের কোচ হিসেবে ঠিক তার বিপরীতটাই মনে হয়। তাঁর বিপক্ষে অনেকবারই আমার সেই অনুভূতি হয়েছে, এখন আমি সত্যিই তার খেলা উপভোগ করছি। দলের সব কিছুতে সে আছে। ’ একই স্বীকারোক্তি মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রিরও, ‘ওদের দলে এমন একজন আছে যে, যেকোনো মুহূর্তে খেলা পাল্টে দিতে পারে। ’ তার পরও অবশ্য নিজেদের দায় এড়ানোর সুযোগ দেখছেন না তিনি, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের ডিফেন্স আরো জমাট থাকার কথা ছিল। মেসিকে জায়গা দিলে সে তো তা কাজে লাগাবেই। প্রথমার্ধে আমাদের ফরোয়ার্ডরা সুযোগ পেয়েছে, সেগুলো কাজে লাগাতে না পারাতেই বিরতির আগে আগে গোলটা হজম করে আমরা তার মাসুল দিয়েছি। ’ ভালভেরদের মতেও মেসির প্রথম গোলটাই খেলা পাল্টে দিয়েছে, ‘প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হলে ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ত। বিরতির আগে আগে মেসির ওই গোলটাই খেলায় আমাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ’ প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের সামনে মেসির ওমনভাবে জায়গা বের করতে দেখে কোচ নিজেও অভিভূত, ‘ও যে গ্যাপটা দেখে, তা অন্যরা দেখে না। তবে আমাকে সবচেয়ে অভিভূত করে সবগুলো মুভে ও যেভাবে ভূমিকা রাখে সেটা। ’

আসরের শুরুতেই কঠিন ম্যাচ, আর সেই ম্যাচেই বার্সার এমন দাপট পুরো টুর্নামেন্টটা নিয়েই নতুন করে আশাবাদী করে তুলছে কাতালানদের। গ্রুপ পর্বের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অলিম্পিয়াকোস ও স্পোর্তিং সিপির বাধা পেরোনোটাও কঠিন হবে না বার্সার জন্য। আর নিজেদের মাঠে গোলপোস্ট অক্ষত রেখে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ৩ গোলের এই জয়ে তাদের গ্রুপ সেরা হওয়ার পথটাও এখন সহজ হয়ে গেল।


মন্তব্য