kalerkantho


অপ্রতিরোধ্য মেসিতে ছুটছে বার্সা

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অপ্রতিরোধ্য মেসিতে ছুটছে বার্সা

মেসি হাসলে বার্সা হাসে—কাল ঠিক এই শিরোনামটাই করেছে কাতালুনিয়ার দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভো। অনেক দিন ধরেই কথাটা সত্য।

তবু বারবার বলতে হয়। পরশু এইবারের বিপক্ষে ৬-১ গোলের জয়োৎসবও যে মেসিময়। এদিন হ্যাটট্রিকেও থামেননি আর্জেন্টাইন তারকা, গুনে গুনে করেছেন ৪ গোল।

বার্সেলোনার কোচের নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগে এখন অভিধানেও হয়তো ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয় সেই কোচকে। নইলে প্রতি ম্যাচ শেষে মেসির ক্যারিশমা বোঝাবেন কী করে! এর্নেস্তো ভালভেরদে দেখা গেল অত ঝামেলায় যাননি, ন্যু ক্যাম্পে পরশু মেসি শো-র পর সোজাসুজি বলে দিলেন ‘এ আর নতুন কী!’ তাইতো, ক্যারিয়ারে এটি যাঁর ৪৩তম হ্যাটট্রিক, তাঁকে তো নতুন করে চেনানোর কিছু নেই। এদিন শুধু ন্যু ক্যাম্পে ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে মেসির গোল। ভালভেরদে দায়িত্ব নিয়েই তাঁকে ফিরিয়েছেন ‘সেন্ট্রাল রোল’-এ। তাতে মেসির গোলোৎসব যেন আরো বেড়ে গেছে। লা লিগার প্রথম পাঁচ ম্যাচেই তাঁর ৯ গোল।

এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছিলেন প্রথম পাঁচ ম্যাচে। এইবারের বিপক্ষে এদিন লুই সুয়ারেসকেও বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল, দুই পাশে জেরার্দ দেউলোফেউ ও দেনিস সুয়ারেসকে নিয়ে মেসি এদিন আরো ধ্বংসাত্মক। মিডফিল্ডে ইভান রাকিতিচের বদলে পাউলিনিয়োও এদিন সুযোগ পান প্রথম একাদশে। মেসির সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াও ছিল চোখে পড়ার মতো। আগের ম্যাচের দুই গোলদাতা পাউলিনিয়ো ও দেনিস সুয়ারেস দুজন গোল করেছেন এদিনও। তাতেই বার্সার ৬-১ গোলের দাপুটে জয়।

অবশ্য স্কোরলাইন যেমন বোঝাচ্ছে মাঠে ততটা হাসি-খেলার দল ছিল না এইবার। ম্যাচের প্রথম সুযোগটা তারাই পেয়েছে। কিন্তু আন্দ্রের টের স্টেগেনকে ওয়ান অন ওয়ানে হারাতে পারেনি সের্গি এনরিচ। বার্সা ও মেসির প্রথম গোল ২০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে, বক্সের মধ্যে নেলসন সেমেদোকে ফাউল করা হয়েছিল। মেসি ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে তাঁর গোলোৎসব শুরু করেন। বিরতির আগেই ২-০ করে বার্সা পাউলিনিয়োর হেডে। দেনিস সুয়ারেসের কর্নারে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের নিখুঁত হেড, তাতে কিছু করারই ছিল না এইবার গোলরক্ষক মার্কো দিমিত্রোভিচের। বিরতির পর সুয়ারেস করেন তৃতীয় গোল। তাতেও অবশ্য মূল ভূমিকা মেসির। মিডফিল্ডে পাউলিনিয়োর দারুণ এক ডামিতে ডান দিকে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, ইনসাইড কাট করে যে শটটি নিয়েছিলেন এইবার গোলরক্ষক সেটি ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল আয়েশে জালে পাঠিয়েছেন সুয়ারেস। সফরকারীরা এর পরও কিন্তু হাল ছাড়েনি। দাভিদ জুনকার ক্রসে সেই এনরিচই ১ গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ফেলেন। কিন্তু মেসি শো তখনো বাকি। বক্সের সামনে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও সের্হিয়ো বুশকেেজর সঙ্গে পাসের ত্রিভুজ এঁকে বাঁ পায়ের আলতো টোকায় করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। এরপর বাঁ-দিকে পাউলিনিয়োর সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে পূরণ করেছেন হ্যাটট্রিক। শেষ গোলটি বদলি নামা অ্যালেক্স ভিদালের সঙ্গেও পাসের ফুল ফুটিয়ে, বলটা যখন পোস্টে ছাড়ছেন তখন শরীরে ভারসাম্যও নেই তাঁর। কিন্তু এই মেসি এখন এতটাই গোলমুখী যে কোনো বাধাই আর বাধা থাকছে না। এইবার নিজেদের দুর্ভাগাও ভাবতে পারে। কারণ টের স্টেগেন দুটি অসাধারণ সেভে তাদের গোলবঞ্চিত করেছেন, তিনটি শট তো পোস্ট আর ক্রসবারে লেগেই ফিরে এসেছে। বার্সার জয়রথের চাকায় এখন তাই আশীর্বাদের ছোঁয়াও।

নেইমার-এদিনসন কাভানি দ্বন্দ্বে প্যারিস সেন্ত জার্মেইতে যখন ঝড়ের পূর্বাভাস, তখন সম্প্রীতিরও দারুণ ছবি এঁকেছে কাতালান ক্লাবটি। ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে অস্ত্রোপচারের টেবিলে যেতে হয়েছে উসমান দেম্বেলেকে। দলে নতুন আসা এই তরুণকে সাহস জোগাতে এদিন ‘উসমান, সাহস রাখো’ লেখা টিশার্ট পরে মাঠে এসেছেন তাঁর সতীর্থরা। দলীয় এমন ঐক্যের মুখে এইবারও কোনো বাধা হতে পারেনি। লা লিগায় মঙ্গলবার রাতটা মেসির সঙ্গে অবশ্য সিমোনে জাজারও। ভ্যালেন্সিয়ার এই স্ট্রাইকার এদিন ৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছেন মালাগার বিপক্ষে। লেভান্তের সঙ্গে আগের ১-১ গোলের ড্র ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল, তাতেই কিনা তাতিয়ে ছিলেন এই ইতালিয়ান। মালাগা সেই আগুনে পুড়ে হেরেছে ৫-০তে। এএফপি


মন্তব্য