kalerkantho


মর্যাদা পুনরুদ্ধারের ভার অনূর্ধ্ব-১৮ দলের

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মর্যাদা পুনরুদ্ধারের ভার অনূর্ধ্ব-১৮ দলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নেপালও খুব ভাবনায় ফেলে দিয়েছে মাহবুব হোসেন রক্সিকে। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের এই কোচের অঙ্কে নেপাল চ্যালেঞ্জ অনেক বড়, ‘নেপাল ভালো ফুটবল খেলে।

এই ম্যাচটি উতরাতে পারলে আমাদের শিরোপার পথটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। ’

ছয়-সাত বছর আগেও নেপাল বড় কোনো ফুটবল শক্তি ছিল না। লড়াইয়ে সব সময় ফেভারিট থাকত বাংলাদেশ। কিন্তু হিসাব বদলে গেছে গত কয়েক বছরে। নেপালের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশ সিনিয়র দল এখন ভয়ে থাকে। গত তিন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবার মুখোমুখি হয়েছে নেপালের এবং দুটি ম্যাচই হেরেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২০১৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপাল দেখিয়েছিল তাদের উত্থান। প্রচণ্ড গতিতে তাদের পাওয়ার ফুটবলের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতেই পারছিল না বাংলাদেশ সিনিয়র দল। তারা আসলে ফুটবল একাডেমি গড়ে নতুন প্রতিভা বের করে এনেছে আর তাদের সুবাদেই নেপাল ফুটবলের রং বদল।

অন্যদিকে এ দেশে যুব ফুটবল উন্নয়নে কোনো কাজই হয়নি। তাই দিনে দিনে সিনিয়র জাতীয় দল মর্যাদা হারিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বাংলাদেশ কোচের উপলব্ধি, ‘যুব ফুটবল উন্নয়ন প্রগ্রাম ছাড়া আমরা এগোতে পারব না। যত নিচ থেকে আমরা ফুটবল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারব ততই লাভবান হব। এটা একটা চক্রের মতো, তা ভালোভাবে চালিয়ে নেওয়া গেলে সিনিয়র জাতীয় দল নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু থাকবে না। ’ এত দিন এই কর্মকাণ্ড ভালোভাবে ছিল না বলে বাংলাদেশের সিনিয়র দলের এই জরাজীর্ণ অবস্থা। অবস্থা এমন যে, বাফুফে এখন সিনিয়র জাতীয় দলকে কোনো টুর্নামেন্টে পাঠাতেই ভয় পায়। তাই নেপালের বিপক্ষে যেন মর্যাদা পুনরুদ্ধারের ভার পড়েছে এই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ঘাড়ে। নেপালকে কালকের ম্যাচে হারাতে হবে তাদের!

সাফের এই বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে নেপাল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। দুই বছর আগে যদিও এটা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লড়াই ছিল সেখানে বাংলাদেশ দল ০-২ হেরেছিল নেপালের কাছে। এবার ভুটানে জেতার অঙ্ক কষছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘গতকাল (পরশু) আমরা খেলোয়াড়দের একসঙ্গে নিয়েই নেপাল-মালদ্বীপ ম্যাচ দেখেছি। মালদ্বীপকে তারা ২-০ গোলে হারিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা খারাপ দল নয়। এই দলটিও দ্রুতগতিতে পাসিং ফুটবল খেলে। তারাও চাইবে আমাদের হারিয়ে শিরোপার দৌড়ে ভালোভাবে টিকে থাকতে। সুতরাং এই ম্যাচটি দুই পক্ষের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ’ আসলে নেপালের শুরুটা বাজে হয়েছে। স্বাগতিক ভুটানের কাছে প্রথম ম্যাচ হেরে তাদের স্বপ্নটা কঠিন হয়ে গেছে। রক্সি মনে করেন, ‘নেপাল কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে ফিরবে এই ম্যাচে। তারা ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলে এবং তাদের দুজন ফরোয়ার্ড আছে খুব দ্রুতগতির। ম্যাচ দেখার সময় আমাদের খেলোয়াড়দের সব কিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের কাজ এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বের করা। ’ সৈকত-জাফররা এই ম্যাচ জেতাতে পারলে বয়সভিত্তিক দল শিরোপার বেশ কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। তাদের পয়েন্ট হবে ৯, শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ভুটানের বিপক্ষে ড্র করলেই শিরোপা মুঠোবন্দি হবে।

অথচ এই দল ঢাকা ছেড়েছিল ভালো ফুটবল খেলার লক্ষ্য নিয়ে। তাদের চোখে ছিল না শিরোপা স্বপ্ন। কিন্তু ভুটানে গিয়ে প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয়ের পর এই দলের পুরো চরিত্র বদলে গেছে। পরের ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের বাড়বাড়ন্ত অবস্থা। হারের কথাই ভাবতে চান না বাংলাদেশ দলের কোচ, ‘আমি আগে থেকেই বলছি, এ টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ভালো দল ভারত। তাদের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মাঠের অর্গানাইজেশন—সবই ভালো। এ রকম দলকে হারানোর পর বাকি ম্যাচগুলো সহজ হয়ে যাওয়ার কথা। তার পরও বলি, নেপাল সহজেই ছাড়বে না। ’ সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখতে নেপাল শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে। ভুটানের আবহাওয়া এবং পারিপার্শ্ব সবই নেপালের অনুকূলে। বাংলাদেশের আছে কেবল উজ্জীবিত তারুণ্য।


মন্তব্য