kalerkantho


এমন উইকেটে এই ব্যাটিং!

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



এমন উইকেটে এই ব্যাটিং!

ব্লুমফন্টেইন থেকে প্রতিনিধি : খেলা শুরু হতে তখনো বাকি কিছুক্ষণ। মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে ওই ২২ গজ দেখিয়ে চিৎকার করে ওঠেন কিউরেটর নিকো প্রিটোরিয়াস, ‘এটি ৪০০ রানের উইকেট।

’ ভাগ্যিস, বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের কানে সেই চিৎকার পৌঁছেনি। ২৫৫ রানে অল আউট হওয়ার পর তাহলে কী লজ্জাটাই না পেতেন তাঁরা!

আর ৪০০ রানের উইকেটে অমন রান হলে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে কী করে! ২১ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জিতে যায় তাই দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশ। টেস্ট সিরিজে ভরাডুবির পর ওয়ানডের আবহেও বাংলাদেশের জন্য থাকে না কোনো আত্মবিশ্বাসের টনিক।

আর কিছু পারুক না পারুক, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টসটা ঠিকই জিতছে বাংলাদেশ। বেনোনির তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের পর পচেফস্ট্রুম-ব্লুমফন্টেইনের দুই টেস্টেও। এরপর অধিনায়ক বদলায়, পরিবর্তন হয় অধিনায়কের—তবু টস ঠিকই জেতে সফরকারীরা। মুশফিকুর রহিমের মতো কাল মাশরাফি বিন মর্তুজার টস জয়ের পরের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য দ্বিমত নেই কোনো। কেউ দ্বিমত করতে চাইলে ম্যানগাউং ওভালের ওই দশাসই শরীরের কিউরেটর প্রিটোরিয়াসের তো তেড়ে যাওয়ার কথা!

কিন্তু সকালের সূর্যে চকচকে ওই ব্যাটিং-স্বর্গের সুবিধা নিতে পারল কই বাংলাদেশ!

তামিম ইকবাল যে খেলবেন না, জানাই ছিল। ওপেনার হিসেবে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারের নামা নিয়ে তাই দ্বিধা নেই কোনো।

কিন্তু দ্বিধাহীন ব্যাটিংটা সৌম্য করতে পারেননি মোটেই। এক রানের সময় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচেছেন একবার। তিন রানের সময় আর না। পুল করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। মিড অন ফিল্ডারের তা মুঠোবন্দি করতে সমস্যা হয়নি মোটেও। ৭.১ ওভারে ৩১ রানের জুটি ভাঙে তাতে। ঠিক পরের বলে ইমরুলও (২৭) আউট। কাভারের ওপর দিয়ে স্লাইস করে কিংবা পুলে বাউন্ডারি মেরে আত্মবিশ্বাস ফেরার প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর ইনিংসে। সেটি ভেঙে চুরমার কট বিহাইন্ড হলে।

ব্যাটিং অর্ডারে এরপর টিম ম্যানেজমেন্টের এক চমক। ৩ নম্বরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় লিটন দাশকে। ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম ইনিংসের ৭০ রানের কথা মাথায় রেখেই হয়তো। মুশফিকুর রহিম পরে যেহেতু উইকেটকিপিং করেন, লিটনের জায়গাটা তাই শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই। তবে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। ৮ রান করে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। আর ব্যাক ফুট পাঞ্চে কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে শুরু করা মুশফিক (২২) যখন ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট, তখন গত দুই টেস্টের দুঃস্বপ্নই ফিরে ফিরে আসছিল।

৪০০-এর উইকেটে যে ৬৩ রান তুলতেই ৪ উইকেট হাওয়া!

পরে অবশ্য টেস্টের মতো ১০০-এর নিচে, ২০০-এর নিচে গুটিয়ে যায়নি বাংলাদেশ। তাতে বড় অবদান সাকিব আল হাসানের। দারুণ কিছু শটে ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দেন তিনি। মাহমুদ উল্লাহর সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৫৭ রানের জুটিতে সামাল দেন প্রাথমিক বিপর্যয়। মাহমুদ (২১) আউট হওয়ার পর সাব্বির রহমানের সঙ্গে ৭৬ রানের আরেকটি জুটিতে দলের স্কোর চলে যায় ভদ্রস্থ চেহারায়। সাব্বিরও খেলেছেন বেশ। তিন ছক্কার মধ্যে দ্বিতীয়তে বল আছড়ে পড়ে ম্যানগাউং ওভালের বাইরে; আর ফাঙ্গিসোকে মারা তৃতীয়টিতে চলে আসেন ফিফটির কাছাকাছি। কিন্তু সাকিব যেমন ৬৮ রান করে আর ইনিংস টেনে নিতে পারেননি; সাব্বিরও তেমনি ৫২ করে আউট। লেগ স্টাম্প থেকে সরে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন তিনি।

তাতে করে বাংলাদেশ ইনিংস শেষ দিকে টেনে নেওয়ার আর কেউ থাকেন না। ৪৮.১ ওভারে ২৫৫ রান তুলতেই ৪০০-এর উইকেটে অল আউট মাশরাফির দল।

বাংলাদেশের কাছে এই ম্যাচ না হয় ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি, কালকের প্রতিপক্ষের জন্য তা না। কেবল এবি ডি ভিলিয়ার্স ও জেপি দুমিনির জন্য প্রস্তুতির মঞ্চ সেটি। কিন্তু তাঁরা ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন বলেই তো মনে হচ্ছিল না। এইডেন মারক্রাম ও ম্যাথু ব্রিয়েটসকা ওপেনিং জুটিতে ১৪৭ রান তুলে উইকেটের চরিত্র বোঝানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের বোলিং-দৈন্যও বুঝিয়ে দেন। পরে মারক্রামকে (৮২) কট অ্যান্ড বোল্ড করেন নাসির হোসেন। ব্রিয়েটসকাকে (৭১) সেঞ্চুরিবঞ্চিত করেছেন মাশরাফি। দুমিনিকে (৩৪) স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে ফেরান মাহমুদ উল্লাহ। কিন্তু ফল নিয়ে তাতে অনিশ্চয়তা ছড়ায় না কোনো। মাহমুদ উল্লাহর বলেই ফিরে যাওয়ার আগে ডি ভিলিয়ার্সও (৪৩) সেরে নেন ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি।

প্রস্তুতি ম্যাচে প্রস্তুতিটাই মুখ্য, ফলাফল এখানে গৌণ। কাল সেই প্রস্তুতির কতটা কী হলো মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের, এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ১২ জনের দলের এই ম্যাচে একজন বেশি ব্যাটসম্যান নিয়েও তো ২৫৫-র বেশি করতে পারেনি। আবার একজন বেশি বোলার থাকা সত্ত্বেও তুলে নিতে পারেনি প্রতিপক্ষের ৪ উইকেটের বেশি!


মন্তব্য