kalerkantho


তবু লক্ষ্যপূরণের তৃপ্তি

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



তবু লক্ষ্যপূরণের তৃপ্তি

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : চীনের মতোই আশা করেছিল স্বাগতিকরা। সেই আশায় জল ঢেলে দিয়ে জাপান দুর্দান্ত খেলে ৪-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছে টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ স্থানে।

তাতেই বেজায় খুশি স্বাগতিক হকি। নিজের দেশে এশিয়া কাপ আয়োজন করে পাঁচ ম্যাচের একটি জিতে ষষ্ঠ হওয়ার গর্বে উন্নত শিরেই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছেন রাসেল মাহমুদরা!

আগের দিন টাইব্রেকারে চীনকে হারিয়ে বাংলাদেশ ন্যূনতম ষষ্ঠ হওয়ার রাস্তা তৈরি করে ফেলেছিল। সুবাদে কালকের ম্যাচে উজ্জীবিত লাল-সবুজ দলকে আশা করেছিল সবাই। সেই অনুযায়ী ইতিবাচক ইঙ্গিত ছিল প্রথম কোয়ার্টারে। দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকে কেমন যেন উলটপালট হয়ে যায় তাদের খেলা। ভুল পাসের ছড়াছড়িতে খেলাটা এমন গুলিয়ে ফেলেছে, পুরো ম্যাচে মনে রাখার মতো কোনো মুভ তৈরি হয়নি। কারো স্টিকে দেখা যায়নি কারুকাজ। গোল না হলেও ম্যাচে তো কিছু সম্ভাবনার জায়গা থাকে, সুন্দর আক্রমণ নিষ্ফলা হওয়ার আফসোস থাকে। সেই আফসোসের জায়গাও রাখেনি রাসেল-মামুনুর রহমানরা।

ম্যাচ শেষে তাঁদের অমন কোনো আক্রমণের কথা মনে করতে পারেনি কেউ। পুরোটা সময় যেন জাপানের আধিপত্য আর বাংলাদেশের চিড়েচ্যাপ্টা হওয়ার গল্প। জাপানি কোচ আইকমান সেইগফ্রিড অবশ্য অঙ্ক কষেই নেমেছিলেন ম্যাচে, ‘চার গোল দেখে ম্যাচটি সহজ মনে হতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রুপেও খেলেছি এবং জিতেছি আমরা, তাই অনেক হোমওয়ার্ক করেই এসেছিলাম। আমাদের খেলোয়াড়রা খুব শৃঙ্খলাবদ্ধ হকি খেলেছে, তাই বাংলাদেশের খেলাটা কঠিন হয়ে গেছে। ’

শুধু কি কঠিন! যেন কোনো এক পরাশক্তির বিপক্ষে নেমেছে স্বাগতিকরা। স্টিকে বল নিয়ে এগোতেই পারেনি। আধুনিক হকির গোলের বড় অস্ত্র পেনাল্টি কর্নার, সেটিও পেয়েছে মাত্র একটি। অন্যদিকে জাপান পেয়েছে পাঁচটি এবং ১৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় তারা। তবে গোল হওয়ার মতো হিট ছিল না, মামুনুর রহমান ও গোলরক্ষক নিপ্পনের সামনে দিয়ে গড়িয়ে জালে পৌঁছে যায় সোতা ইয়ামাদার নিরীহ হিট। সেই গোলের পরও ফেরেনি বাংলাদেশের খেলা, প্রতিপক্ষ আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও গোল ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তৃতীয় কোয়ার্টার পর্যন্ত। সবাই ভেবে নিয়েছিল চীনের ম্যাচের মতো স্বাগতিকরা খেলাটা জমিয়ে রেখেছে শেষ কেয়ার্টারের জন্য। ওই ১৫ মিনিট চাপ দিয়ে দুই-তিন গোল করে ম্যাচ জিতে নেবে। কিন্তু জাপানের নেদারল্যান্ডস কোচ যে অঙ্ক করেই এসেছিলেন। বাংলাদেশকে খোলস ছেড়ে বের হতে না দিয়ে উল্টো নিজেরাই করেছে আরো তিন গোল। ৪৬ মিনিটে কেনতা তানাকার কোনাকুনি বাড়ানো বলটি কেঞ্জি জালে পৌঁছে দিয়ে জাপানকে এগিয়ে নেন ২-০ তে। মিনিট তিনেক বাদে কাজুমা অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন প্রায় শূন্য ডিগ্রি থেকে বল জালে পাঠিয়ে। ৫৩ মিনিটে তানাকা সেরেনের লক্ষ্যভেদে জাপানের ৪-০ গোলে জয় নিশ্চিত হয়। সুবাদে তারা বাংলাদেশের এক ধাপ ওপরে, অর্থাৎ পঞ্চম হয়। এতে খুশি হলেও জাপানের কোচের আফসোসটা অনেক বেশি, ‘আমরা কেবল একটি ম্যাচ হেরেছি। পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটি শেষ মুহূর্তে ড্র না হলে সুপার ফোর খেলতে পারতাম। এটা বড় কষ্টের। ’ পঞ্চম হওয়া জাপান পাঁচ ম্যাচের মধ্যে কেবল একটি হেরেছে, এ ছাড়া তিনটি জয় ও একটি ড্র। আর বাংলাদেশ জিতেছেই একটি ম্যাচ, বাকি সব হার। এই তুলনায় তো নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতেই পারে জাপান। মাত্র এক ম্যাচ জিতে ষষ্ঠ হওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার। বাংলাদেশ অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ অবশ্য ব্যাপারটাকে এভাবে দেখেন না, ‘আমাদের লক্ষ্যই ছিল ষষ্ঠ হওয়া। সেই ’৯৯ এশিয়া কাপের পর প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ হয়েছি আমরা। একটি ম্যাচ জিতেছি। তবে পুরো টুর্নামেন্টে গোল বেশি হয়েছে বলে আমাদেরও খারাপ লাগছে। ’ এই খারাপ লাগাকে ছাপিয়ে তারা ষষ্ঠ হওয়ার তৃপ্তিকে বড় করে দেখাতে চাইছে।


মন্তব্য