kalerkantho


জেলার ফুটবলকে সচল করতে নতুন উদ্যোগ

২২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



জেলার ফুটবলকে সচল করতে নতুন উদ্যোগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কিছুদিন আগে জেলা ফুটবলের কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এর পর থেকে তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জেলার ফুটবল লিগ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।

সেই ভাবনার সুফল হচ্ছে একটা পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে আগামী নভেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে জেলার ফুটবল লিগগুলো।

বাফুফের এই জেলা ফুটবল লিগ কমিটি আগেও ছিল। চার বছর আগে কমিটির প্রধান হিসেবে চেয়ারম্যান মনজুর কাদের প্রত্যেক জেলাকে এক লাখ টাকা করে দিয়ে জেলার ফুটবল লিগগুলোকে সচল করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের গভর্নিং কমিটির এই চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাফুফের দূরত্ব সৃষ্টি হলে উদ্যোগটা পুরোপুরি সুফলা হয়নি। এবার নতুন প্রেক্ষাপটে জেলা লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আ জ ম নাছির উদ্দীনকে। চট্টগ্রামের মেয়রের ব্যস্ততা আছে, তাই ফুটবলীয় কর্মকাণ্ডগুলো চালানোর অনানুষ্ঠানিক ভার পড়েছে তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিনের ওপর। যেন জেলা ফুটবলের নতুন কারিগর তিনি। চট্টগ্রাম আবাহনীর এই পরিচালক গতকাল নিজের অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নভেম্বর থেকে জেলা ফুটবলকে সচল করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন, ‘জেলার সংগঠকদের নিয়ে এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। আমরা পরিকল্পনা করেছি আগামী নভেম্বরে জেলা লিগগুলো শুরু করার।

সব লিগ হয়তো একসঙ্গে শুরু করা যাবে না, এক-একটি বিভাগে একেক সময়ে শুরু করতে হবে। এ নিয়ে বাফুফের তরফ থেকে আমরা আগামী মাসের শুরুতেই বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। ’ তাদের আপাত পরিকল্পনা হলো, নভেম্বরে শুরু করে মার্চের মধ্যে জেলার লিগগুলো সম্পন্ন করা।

ফুটবল নিয়ে এই সংগঠকের অনেক স্বপ্ন। তবে মাঠে নামার পর এই স্বপ্ন বারবার ধাক্কা খাচ্ছে কঠিন বাস্তবের সঙ্গে। দুই বছর আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের স্বত্ব কিনে নিয়ে এখন যেমন বিপাকে পড়েছেন। বাফুফের অপেশাদারির কাছে হার মেনে ইতিমধ্যে সেই লিগ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী মৌসুম থেকে আর তারা সঙ্গী হবে না প্রিমিয়ার লিগের। প্রিমিয়ার লিগ ছাড়লেও সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস আলিঙ্গন করছে জেলা লিগগুলোকে। এসজিএসের চেয়ারম্যান হিসেবের রুহুল আমিন বলেছেন, ‘জেলা লিগগুলোর স্বত্ব কিনতে চায় এসজিএস। ইতিমধ্যে একটা প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বাফুফের কাছে। এসজিএস চায় প্রতিটি জেলাকে তিন লাখ টাকা করে দিয়ে লিগগুলো শুরু করতে। ইতিমধ্যে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা স্পন্সর করতে আগ্রহী। একেকটা স্পন্সরকে কয়েকটি জেলার দায়িত্ব দিয়ে এই লিগের আলাদা আকর্ষণ তৈরি করা হবে। ’ তিনি মনে করেন এভাবে তিন বছর চালিয়ে নিতে পারলে একটা ধারা তৈরি হবে। তখন আর বাফুফের সহযোগিতার দরকার হবে না। জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোই পারবে স্পন্সর জোগাড় করতে। কিন্তু জেলার ফুটবলে অর্থ যেমন একটি সংকটের নাম তেমনি মাঠও। জেলা ক্রীড়া সংস্থা আর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দ্বন্দ্বের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ফুটবল খেলার মাঠ পাওয়াই দুষ্কর হয়ে ওঠে। এই প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলতে হলে জেলা প্রশাসকদেরও লাগবে। তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জেলা ফুটবল লিগের কো-চেয়ারম্যান বসবেন জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে জেলা ফুটবলের বিকল্প কিছু নেই। জাতীয় দল পেরে ওঠে না আন্তর্জাতিক ম্যাচে, দেশের ফুটবলে কোনো তারকা নেই। আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারের মিছিল এড়াতে জাতীয় দলের খেলাই যেন বাদ দিয়ে ফেলেছে বাফুফে। ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে হলে জাগাতে হবে জেলা ফুটবল লিগগুলোকে। জাগানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে রুহুল আমিন তরফদার বলেছেন, ‘আমি খুব আশাবাদী। কারণ এই কমিটি খুব শক্তিশালী হয়েছে, প্রায় সবাই জেলার সংগঠক এখানে। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে এই কমিটিই হবে সবচেয়ে সফল, এটা আমার বিশ্বাস। ’ অপেশাদার বাফুফেরই একটি উপ-কমিটি হয়েও তারা জেলা ফুটবলে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে!


মন্তব্য