kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

জুনায়নাকে নিয়ে আমি আশা দেখি না

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



জুনায়নাকে নিয়ে আমি আশা দেখি না

জাতীয় দলের কোচ পার্ক তেগুন। এবারের বয়সভিত্তিক সাঁতারে সেই দলের কেউ অংশ না নিলেও আসরটা পার্কের মনোযোগ পাচ্ছে ভীষণ।

কারণ সারা দেশ থেকে তাঁর বাছাই করা ৬০ জন সেরা সাঁতারু প্রথমবারের মতো পরীক্ষা দিতে নেমেছে যে এই আসরেই। জুনায়না আহমেদ নামে এক প্রবাসী অবশ্য আলোটা কেড়ে নিয়েছেন। কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে পার্ক কথা বলেছেন তার প্রসঙ্গেই

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : এই প্রতিযোতিটা তো আপনার কাছে বিশেষ কিছু, ‘সেরা সাঁতারু’-এর ক্যাম্পে থাকা ছেলে-মেয়েরা প্রথম প্রতিযোগিতা করতে নেমেছে?

পার্ক তেগুন : হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে ওদের পারফরম্যান্স অনুসরণ করছি। এ পর্যন্ত ওদের পারফরম্যান্স সত্যি আমাকে মুগ্ধ করেছে। এটুকু বললেও পুরোটা বলা হবে না, ওদের পারফরম্যান্স আসলে আমার প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে, ওরা আমাকে অবাক করছে।

প্রশ্ন : জুনায়না আহমেদও নিশ্চয় আপনার নজর কেড়েছে?

পার্ক : হ্যাঁ, ওর সাঁতার দেখলাম। আজ (গতকাল) সকালে ওর আর ওর বাবার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথাও হলো। ও যে পরিবেশে প্রশিক্ষণ নেয়, ওর পেছনে যে অর্থ খরচ হয় তাতে এই পার্থক্য হওয়াটা স্বাভাবিক।

তবে আমাদের মেয়েরাও ভালো।

প্রশ্ন : জুনায়নাকে কতটা সম্ভাবনাময়ী মনে হচ্ছে, আগামী এসএ গেমসে তাকে ঘিরে কি পরিকল্পনা সাজানো যায়?

পার্ক : অবশ্যই সাজানো যায়। তবে সব কিছু তো আমার হাতে নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি ওকে নিয়ে কোনো আশা দেখি না। কারণটা হলো ওর এখন যে টাইমিং, তা গত সাফের সোনা জয়ের টাইমিংয়ের চেয়ে অনেকখানিই পেছনে। এই ব্যবধানটা আমি ঘুচিয়ে যেতে পারি। কিন্তু তার জন্য সাফ শুরু হতে যে দেড় বছর সময় আছে এই সময়টায় নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন করতে হবে ওকে। কিন্তু সেটা তো সে পারবে না। সে লন্ডনে লেখাপড়া করে, তার জন্যও তাকে সময় দিতে হয়।

প্রশ্ন : কিন্তু ওর এখন মাত্র ১৪ বছর বয়স, ভবিষ্যতের জন্য ভাবলে...

পার্ক : তারও আমি নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। তত দিনে ও সাঁতার ছেড়েও দিতে পারে। দেখুন জুনায়না লন্ডনের ক্লাবে অনুশীলন করে। কোরিয়াতে আমিও এমন ক্লাব চালিয়েছি। আমার ছেলে-মেয়েরা এশিয়াড, অলিম্পিকে পদক জিতেছে। এখানে আমার হাতে যে ‘সেরা সাঁতারু’রা আছে ওরাও একেকটা হীরের টুকরো। কিন্তু ওদের নিয়েও আমি আশাবাদী হতে পারি না। কারণ নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলনের সুযোগ তো ওদেরও হয় না। গত এসএ গেমসের পর ১৮ মাস কেটে গেছে। কিন্তু আমরা অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি মাত্র সাত-আট মাস। সামনে যে ১৮ মাস আছে, তার পুরোটা যে কাজে লাগাতে পারব সেই নিশ্চয়তা কী! আমার কাজ শুধু অনুশীলন দিয়ে যাওয়া, কিন্তু সাঁতারুদের নিয়ে পরিকল্পনাটা সাজাতে হবে কিন্তু ফেডারেশনকেই।


মন্তব্য