kalerkantho


আয়োজনে তৃপ্তি, অতৃপ্তি পারফরম্যান্সে

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



আয়োজনে তৃপ্তি, অতৃপ্তি পারফরম্যান্সে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টুর্নামেন্ট শুরুর এক দিন আগেও হকি স্টেডিয়ামে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। সব দল চলে এসেছে, এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা মাঠে, অথচ তখনো এখানে-ওখানে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে, নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে, ফেডারেশন ভবনে ঢোকারই উপায় নেই, ঘষা-মাজায় তা অন্ধকার হয়ে আছে।

সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক মহা দুশ্চিন্তায়— এশিয়া কাপের মতো আসর মাঠে গড়াচ্ছে, শুরুতেই এই অবস্থা, টুর্নামেন্টটা ভালোয় ভালোয় শেষ করা যাবে তো! কাল বিকেলে সেই আব্দুস সাদেকের কণ্ঠেই মহাস্বস্তি, ‘সত্যি এতটা নির্ঝঞ্ঝাটভাবে টুর্নামেন্টটা শেষ করতে পারব ভাবিনি। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন, এশিয়ান হকি ফেডারেশনকে কোনো সমস্যায়ই পড়তে হয়নি বলতে গেলে। খেলাগুলোও ভালো হয়েছে, ফাইনালে জৌলুস ছিল, সমর্থকরা উপভোগ করেছে, আর কী চাই!’

এভাবে শেষ করেও হকির কিংবদন্তি এই খেলোয়াড় পুরোটা যেন শেষ করতে পারেননি। বাংলাদেশের খেলার প্রশ্নে এসে আটকালেন, ‘হ্যাঁ, এই জায়গাটায় একটা অতৃপ্তি রয়ে গেছে বলতে পারেন। সফল আয়োজনের মতো বাংলাদেশ দলের ষষ্ঠ স্থান নিয়েও হয়তো সন্তুষ্ট হওয়া যায়। কিন্তু কেন জানি হতে পারছি না। সত্যি বলতে বাংলাদেশের খেলা একেবারেই মন ভরাতে পারেনি। আমরা ওদের কাছ থেকে আরো ভালো পারফরম্যান্স আশা করেছিলাম। আমার তো মনে হয় গত পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যেই এবারের পারফরম্যান্সটা ছিল সবচেয়ে খারাপ।

’ এখানটায় নব্বইয়ের দশকের আরেক তারকা মামুন উর রশিদ কিছুটা দ্বিমত করলেও পারফরম্যান্সের পোস্টমর্টেম করতে গিয়ে তিনিও কেবল হতাশার ছবিই খুঁজে পেয়েছেন, ‘বাস্তবতা মানলে ষষ্ঠ স্থান আমাদের সন্তুষ্ট হওয়ার মতোই ফল। ভারত, পাকিস্তানের কাছে ৭ গোলে হারা নিয়ে কথা হচ্ছে, কিন্তু ওদের সঙ্গে আমাদের ব্যবধানটাও বুঝতেও হবে। ’ আলাদাভাবে এবং একটা দল হিসেবেও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মামুন পেয়েছেন অখুশি হওয়ার মত অনেক বিষয়, ‘খেলোয়াড়রা ওদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। ডিফেন্স অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল, বিল্ডআপে তারা কাজ করতে পারেনি, কাজ করেনি মিডফিল্ডও। প্রতিপক্ষের চাপে পড়েই আমরা ভুল করতে শুরু করেছি। অথচ সেই সময়টায় প্রয়োজন ছিল ঠাণ্ডা মাথায় বলের পজেশন নিয়ে চাপটা উতরে যাওয়া। ’ এ ধরনের পরিস্থিতিতে দলের কয়েকজন খেলোয়াড়কে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হয়, কিন্তু মামুনের চোখে তেমন কোনো প্রবণতাই চোখে পড়ে না, ‘দলটা বিল্ডআপের সময় চার-পাঁচজন খেলোয়াড়কে এমন বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে দিতে হয়, আমার মনে হয় না এই টুর্নামেন্টে কেউ তেমন দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স করতে পেরেছে। ’ বিকেএসপির বর্তমান কোচ কাওসার আলীও হতাশ এই পারফরম্যান্সে, মামুনের সঙ্গে তাঁর আবার দ্বিমত ষষ্ঠ স্থানের সন্তুষ্টি নিয়ে, ‘আমি বলব বাংলাদেশ দল এই টুর্নামেন্টে যেমন খেলেছে, তাতে ওদের সাত/আটই হওয়ার কথা। ষষ্ঠ হয়েই আমাদের বরং সর্বনাশটা হলো। নিজেদের দুর্বলতাটা এখন ঢেকে ফেলার চেষ্টা হবে। সাত/আট হলে যেমন একটা ধাক্কা খেত সবাই, তাতে যা কিছু কাজ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, ষষ্ঠ হওয়ায় এখন একটা মিছে তৃপ্তি নিয়ে সবাই গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়াবে। ’ এই টুর্নামেন্ট শেষে ভারত কী করছে, জাপানের পরিকল্পনা কী—একটু খোঁজ নিলেই বাংলাদেশের করণীয় কী তা বরং স্পষ্ট হবে—এমনই মত কাওসারের। বাংলাদেশের সামনে আগামী বছর এশিয়ান গেমস আছে, এখন কি সেই টুর্নামেন্টের জন্যই পরিকল্পনা সাজানো উচিত না? আব্দুস সাদেকও তাই মনে করেন, ‘এখন আমাদের বসে থাকলে চলবে না। সামনে নির্বাচন আছে। কিন্তু খেলাটাকে যেন রাজনীতির বাইরে রাখা হয়—এই আমার অনুরোধ। ’


মন্তব্য