kalerkantho


নতুন বিদেশিতে সাইফের প্রতিশোধ

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নতুন বিদেশিতে সাইফের প্রতিশোধ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই নতুন বিদেশিতে আরো ঝাঁজালো সাইফ স্পোর্টিং। এই ঝাঁজেই চ্যাম্পিয়নদের কাছে প্রথম লেগ হারের প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেল তাদের।

ওয়েডসন অ্যানসেলমে আর চার্লস শেরিংহামের গোলে ঢাকা আবাহনীকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা দ্বিতীয় লেগ শুরু করেছে। সুবাদে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে সাইফ উঠে গেছে দ্বিতীয় স্থানে আর আবাহনী ২৪ পয়েন্ট নিয়ে নেমে গেছে চতুর্থ স্থানে। অন্য ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনী ৪-০ গোলে ফরাশগঞ্জকে হারিয়ে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান সুসংহত রেখেছে।

এক মাস বিরতির পর কাল সাইফ স্পোর্টিং-ঢাকা আবাহনীর ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। এ ম্যাচই তিন বিদেশির পারফরম্যান্স এবারের আসরের স্মারক হয়ে গেছে। তার মধ্যে সাইফের দুজন—ওয়েডসন অ্যানসেলমে ও চার্লস শেরিংহাম। ওয়েডসন ঢাকার মাঠে নতুন নয়, গত মৌসুমে শেখ জামালে খেলে কলকাতা ইস্টবেঙ্গলে এক মৌসুম কাটিয়ে আবার ফিরেছেন। নতুন ঠিকানা সাইফ স্পোর্টিংয়ের জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড। খেলেছেন দলের নতুন ইংলিশ স্ট্রাইকার চার্লস শেরিংহামের পেছনে।

চার্লস হয়তো ইংল্যান্ডের মাঠে বিখ্যাত বাবা টেডি শেরিংহামের সুপুত্র হয়ে উঠতে পারেনি, কিন্তু ঢাকার মাঠের জন্য ওটুকু ফুটবল বিদ্যাই যথেষ্ট। এখানকার আবহাওয়া, খাওয়া-দাওয়া নিয়ে যতই অস্বস্তি থাকুক, পারফরম্যান্সে তার কোনো প্রভাব নেই। কর্নার কিকে দুর্দান্ত হেডে গোল করার পর তিনি বলছেন, ‘আমাকে আনা হয়েছে গোল করার জন্য। প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছি, তাই খুব ভালো লাগছে। তবে মাঠের অবস্থা খুব ভালো নয়। ’ এটা কি যেনতেন গোল, এই গোলেই তো শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সাইফ স্পোর্টিং নোঙর ফেলছে জয়ের বন্দরে।

মধ্যবর্তী দলবদলে যোগ হয়েছেন এ দুজন। তার আগেও সাইফ ছিল শিরোপা লড়াইয়ে। তবে অমন দুরন্তপনা ছিল না খেলায়। প্রতিপক্ষকে সন্ত্রস্ত করার মতো আগ্রাসন ছিল না। দুই ফরোয়ার্ডের যোগে এমন আগ্রাসী হয়ে সাইফ স্পোর্টিং ফিরেছে, প্রথম ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে চোখ রাঙিয়েছে অন্যদেরও। শুরু থেকে তাদের গতি আর আক্রমণের সামনে অসহায় হয়ে ছিল চ্যাম্পিয়নরা। মাঝমাঠ থেকে ফরোয়ার্ড পর্যন্ত একাধিপত্যের এই গল্পে আবাহনীর উপস্থিতি বলতে সানডের এক পেনাল্টি গোল। সাইফের নিয়ন্ত্রণে মাঝমাঠ, তার সঙ্গে ফরোয়ার্ডের মূল সূত্রধর ওয়েডসন। সঙ্গে দুই উইঙ্গার জুয়েল ও মতিন মিয়ার আতঙ্ক ছড়ানো ক্রস। তাঁদের ভয়ে শুরু থেকেই জেরবার অবস্থা আবাহনী ডিফেন্সের। ৩২ মিনিটেই ভুল করে বসেন সামাদ, জুয়েলের ক্রসটি হাতে ঠেকিয়ে। তাতেই পেনাল্টির বাঁশি এবং ওয়েডসনের পায়ে গোলের উদ্বোধন। ৫৭ মিনিটে এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন মতিন মিয়ার বাড়ানো বলে। বক্সের ভেতর থেকে সেটি তিনি উড়িয়ে মেরে নষ্ট করেছেন। ঠিক পরের মিনিটে জুয়েল পোস্ট রেখে তুলে দিয়েছেন ওপরে।

তবে ৬২ মিনিটে ওয়েডসনকে তুলে নিয়ে কলম্বিয়ার হেম্বার ভ্যালেন্সিয়াকে নামিয়ে সাইফ কোচ রায়ান বেশ ঝুঁকিই নিয়েছিলেন। কারণ এই বদলিতে আবাহনী ভয় কাটিয়ে গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করে। আবাহনীর মাঝমাঠ একটু সক্রিয় হয়ে ওঠে, সানডেও বল পেতে শুরু করে। আবাহনীর এই স্ট্রাইকার গতবারের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ইনজুরির কারণে মৌসুমের শুরুতে নাম লেখাননি। মধ্যবর্তী দলবদলের পর তিনি আবার আকাশি-হলুদ জার্সিতে গতকাল খেলতে নামলেও সাইফের আধিপত্যের মাঝে নিভু নিভু প্রদীপ হয়েই ছিলেন। পায়ে বল না পেলে খেলারও সুযোগ নেই। কিন্তু ওয়েডসন উঠে যাওয়ার পর তিনি একটু সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেলেও ৭৫ মিনিটে জামালের কর্নারে চার্লস শেরিংহামের চকিত হেডে ২-০তে এগিয়ে যায় সাইফ। ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যায় আবাহনীর জন্য। ৮৯ মিনিটে পেনাল্টির সুবাদে সানডে ব্যবধান কমান। ঠিক দুই মিনিট পরে ম্যাচ ড্র করার মতো অবস্থা তৈরি করে ফেলেছিলেন এই নাইজেরিয়ান। ইনজুরি টাইমে রায়হানের লম্বা থ্রো-ইনে তাঁর হেড পোস্টে লেগে বাইরে চলে গেলে সাইফের প্রতিশোধের মিশন সম্পন্ন হয়। প্রথম লেগে আবাহনীর কাছে ৩-২ গোলে হেরেই শুরু করেছিল সাইফ। তাই প্রতিশোধ সম্পন্ন করে সাইফ কোচ রায়ান নর্থমোর দারুণ খুশি, ‘নতুন দুই বিদেশি খুব ভালো খেলেছে, তাদের দুই গোল আমরা জিতেছি। পাশাপাশি পুরো ম্যাচে দল হিসেবে আমরাই আধিপত্য করেছি। আমাদের পুরো দলই খুব ভালো খেলেছে। ’ অন্যদিকে মিডফিল্ডারদের অক্ষমতায় শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার হাহাকার চ্যাম্পিয়ন দলে।      

দিনের অন্য ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনী দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে ফরাশগঞ্জকে। ৩ মিনিটে জাহিদ হোসেন গোলের উদ্বোধন করেছেন দারুণ এক ফ্রি-কিকে। ৩৪ মিনিটে লিওনেল প্রেক্সের ক্রসে দূরের পোস্টে টোকা দিয়ে তৌহিদুল আলম ২-০তে এগিয়ে নেন দলকে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে জাহিদের কর্নার কিকে ব্যবধান ৩-০ করেন মনসুর আমিন। ৫৫ মিনিটে মামুনুলের তুলে দেওয়া বলে নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার অ্যালিসন উদোকা হেড করে ৪-০ গোলে জিতিয়েছেন চট্টগ্রাম আবাহনীকে। শেষ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন চট্টগ্রাম আবাহনীর সোহানুর রহমান।


মন্তব্য