kalerkantho


ক্যারিবীয় ঝড়ের মধ্যেও উজ্জ্বল জহুরুল

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ক্যারিবীয় ঝড়ের মধ্যেও উজ্জ্বল জহুরুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এমনিতে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে তুলে মারা ‘স্কুপ’ শট প্রায়ই খেলেন তিনি। তবে অনুশীলনে অনেক চেষ্টার পর থার্ডম্যান ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বল বাউন্ডারিতে পাঠানো ‘রিভার্স স্কুপ’ ম্যাচে এবারই প্রথম খেললেন জহুরুল ইসলাম।

আর তাতে দুই ক্যারিবীয়র ব্যাটিং তাণ্ডব দেখা ম্যাচের ফলও গেল উল্টে। খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে জেতার জন্য ৬ রানের প্রয়োজন নিয়ে ম্যাচের শেষ ওভার শুরু করা ঢাকা ডায়নামাইটস সমীকরণ একটু কঠিন করে ফেলেও ১ বল বাকি থাকতে জিতল জহুরুলের ওই বাউন্ডারিতেই। ব্যবধান ৪ উইকেটের, চার ম্যাচে তৃতীয় জয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এখন শ্রেয়তর রান রেটে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও।

তাঁদের শীর্ষে পৌঁছে দিল এমন এক ম্যাচ, যেটি একঘেয়ে আর একতরফা অনেক ম্যাচের পর স্বস্তির হাওয়াও বইয়ে দিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার পরই নির্ধারিত হলো এই ম্যাচের ভাগ্য। ম্যাচটিকে এ রকম সমাপ্তি রেখায় নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব প্রায় পুরোটাই আবার প্রাপ্য দুই ক্যারিবীয়র, খুলনার কার্লোস ব্রাথওয়েট এবং ঢাকার কিয়েরন পোলার্ডের। বিশেষ করে তাঁদের দানবীয় ব্যাটিংয়ের। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৪৮ রান তোলা খুলনা যে শেষ ১০ ওভারে তুলল ১০৮ রান, ব্রাথওয়েট মাত্র ২৯ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কায় অপরাজিত ৬৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস না খেললে কী করে সম্ভব হতো সেটি?

আবার ২৪ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কায় পোলার্ডের ৫৫ রানের ইনিংসটি না হলে ঢাকাও ম্যাচ জেতার মতো অবস্থায় যেত না। অকপটে সেটিও মেনে নিলেন ৩৯ বলে ৫ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৪৫ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হওয়া জহুরুল, ‘মূল কাজটি করে দিয়েছে পোলার্ডই।

তখন আমাদের ওভারপ্রতি সাড়ে ১৪ রান করে করতে হতো। আমাদের (দেশি ব্যাটসম্যান) জন্য কাজটি খুবই কঠিন। আমরা হয়তো ক্যালকুলেশন করে ওভারে ৮-৯ রান করে নিতে পারতাম। পোলার্ডের ইনিংসটিই আসলে ম্যাচে আমাদের এত দূর নিয়ে এসেছে। ’

না হলে ঢাকা ডায়নামাইটসের থেমে যাওয়ার কথা ছিল অনেক আগেই। ১৫৭ তাড়া করতে নেমে তাঁরা যে ৪১ রানেই হারিয়ে বসেছিল ৫ উইকেট। গত আইপিএলে সুনীল নারিনকে দিয়ে ওপেন করিয়ে দারুণ সুফল পেয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এ ম্যাচে ঢাকারও সেই একই ফর্মুলা কাজে দেয়নি। নারিন ১৬ বলে করেছেন ৭ রান! অন্য ওপেনার এভিন লুইসের (৪) মতো ঝড় তুলতে ব্যর্থ শহীদ আফ্রিদি (১) ও ক্যামেরন ডেলপোর্টও (২)। ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম চারের এই বিদেশিরা ফিরে যান দলকে ২৪ রানে রেখেই। এই বিপর্যয় সামলে নেওয়ার পথে থাকা সাকিব আল হাসানকেও (১৭ বলে ২০) তুলে নেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ।

দলের এই বিপদই আবার জহুরুলের মতো স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য নিয়ে আসে নিজের উপযোগিতা প্রমাণের সুযোগ। তা প্রমাণের বিরল সুযোগ কাজে লাগাতে পারার অনুভূতিও প্রকাশ করতে ভুললেন না তিনি, ‘খুবই ভালো লাগছে। আমাদের যে ব্যাটিং লাইন আপ, এখানে সুযোগ পাওয়া খুবই কঠিন। স্থানীয়রা খুব একটা সুযোগই পাইনি আগে। কারণ বিদেশিদের শক্তির জায়গা বেশি, টি-টোয়েন্টিতে ওরা খুবই ভালো ব্যাটসম্যান। ’ নিজ দলের সিংহভাগ বিদেশির ব্যর্থতার দিনে উজ্জ্বল জহুরুলের সঙ্গে ঝলসে উঠল এত দিনের ম্লান পোলার্ডের ব্যাটও। দুজনের ৭৩ রানের পার্টনারশিপে ম্যাচে ফেরা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

পেসার শফিউল ইসলামের বলে পোলার্ডের বিদায়ের পর মোসাদ্দেক হোসেনকে (১২ বলে ১৪*) বাকি পথটা পাড়ি দেওয়া জহুরুল ম্যাচের শেষাঙ্কে নিজের ভুলও শুধরে নিয়েছেন দ্রুতই, ‘প্রথম দুটি বল আমি স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মারতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ব্রাথওয়েট এমনিতে একটু দ্রুতগতির এবং ইয়র্কারগুলো প্রায় নিখুঁত। চার মারার চিন্তা আমার ভুল ছিল। যদি এক রানের চিন্তা করতাম, তাহলে ব্যাটে লাগত। ম্যাচটিতে আমি দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছিলাম। পরে চিন্তা করেছি, যেহেতু দুটি বলে ইয়র্কার করে সফল হয়েছে, আবারও ইয়র্কারই করবে। এবার তাই ভাবলাম থার্ডম্যান যেহেতু একটু ওপরে, সেদিক দিয়ে উল্টো স্কুপ করব। ম্যাচে আগে কোনো দিন এই শট খেলিনি। অনুশীলনে চেষ্টা করি। ম্যাচে এটিই প্রথম। ’

প্রথম চেষ্টায় সফল জহুরুল তাই দুই ক্যারিবীয়র ছক্কার ঝড়ের মধ্যেও উজ্জ্বল হয়ে থাকলেন। বলে রাখা দরকার, ব্রাথওয়েট ও পোলার্ডের মারা এক ডজন ছক্কার অন্তত গোটা চারেক গিয়ে আছড়ে পড়েছে গ্যালারিতেও!


মন্তব্য