kalerkantho


ঝড়ও উঠল না রংপুরও পারল না

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঝড়ও উঠল না রংপুরও পারল না

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পূর্বাভাস ছিল প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো স্রেফ কয়েক পশলা বৃষ্টি!

অথচ গ্যালারি ভরছে না বলে হাহাকারের মধ্যে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামমুখী মানুষের ঢল।

সেটি অবশ্যই আট বছর পর ক্রিস গেইল-ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ইনিংস ওপেন করতে দেখার টানে এবং তাঁদের ব্যাটে চার-ছক্কার ঝড় দেখার অমোঘ আকর্ষণেও।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ৬ উইকেটে তোলা ১৫৩ রান তাড়া করতে নামা রংপুর রাইডার্সও তো আশা করেছিল যে এই জুটির মারদাঙ্গা ব্যাটিং তাদের ‘জয়ের লড়াই’ সহজ করে দেবে আরো। কিন্তু সহজ না করে করল আরো কঠিন। তাঁরা মারতে শুরু করেছিলেন, আবার একই সঙ্গে কয়েকবার আউট হতে হতেও বেঁচে যাওয়ার অস্বস্তিতেও কম ছিলেন না। দুয়েমিলে টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। তবু একটা ‘লাইফলাইন’ ছিল রংপুরের এবং সেটি সনাৎ জয়াসুরিয়ার ব্যাটিংয়ের ‘কপি-পেস্ট’ কুশল পেরেরা। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এই লঙ্কানও যে প্রতিপক্ষের বোলারদের নাকাল করে ছাড়তে জানেন।

কিন্তু এমন দিনও আসে যখন মানুষ জানা জিনিসও ভুলে যায়। রংপুরের ক্ষেত্রেও যেন হলো তাই।

৮ বলের মধ্যেই তাদের ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিনজনের বিদায়। যে বিদায়ে বিনা উইকেটে ৩১ রান থেকে ৩ উইকেটে ৩১ রাইডাররা। তাতেই ধাক্কা খাওয়া জয়ের স্বপ্নটা আরো মিলিয়ে যেতে থাকে স্কোরবোর্ডে আর ১ রান যোগ হতেই শাহরিয়ার নাফীসও সাজঘরের পথ ধরায়। সেখানে রংপুর রাইডার্স পথ হারালেও গেইল-ম্যাককালামরা আসার আগে দলকে পথ দেখানো রবি বোপারা (৪৮ বলে ৪৮*) ও মোহাম্মদ মিঠুনরা (২৬ বলে ৩১) তো ছিলেন। তাঁরা আসরের প্রথম ম্যাচের মতো জয়ের পথ দেখাতে না পারলেও ৬৭ রানের পার্টনারশিপে দেখাতে পারলেন হারের ব্যবধান কমানোর পথ। চার ম্যাচে রংপুরের তৃতীয় হারটা তাই ১৪ রানের। এতে তারা চলে গেল পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেও। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে টানা চতুর্থ জয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস দ্বিতীয় স্থানে।   

অফস্পিনার সোহাগ গাজী তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক সিরিজে খুব ঝামেলায় ফেলেছিলেন গেইলকে। সে জন্যই কিনা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসও কাল প্রথম ওভারটি করাল তরুণ অফস্পিনার মেহেদী হাসানকে দিয়ে। আর উইকেটে বলও এমন নিচু হচ্ছিল যে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না রংপুরের দুই ওপেনারের কেউই। গেইল যেমন তাঁর মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই (ইনিংসের চতুর্থ বল) পড়েছিলেন এলবিডাব্লিউর জোরালো আবেদনের মুখে। আম্পায়ার র‌্যানমোর মার্টিনেজ সাড়া না দিলেও টিভি রিপ্লে বোলারকে বেশ দুর্ভাগা বলেই মনে করিয়েছে।

নিজের ভুল শুধরে নিতেই কিনা ওই শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার করে বসলেন আরেকটি ভুল। এবার রশিদ খানের এমন বলে এলবিডাব্লিউর আবেদনে সাড়া দিলেন, যেটি কিনা লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করেছিল। ওভাবে আউট হওয়ার আগে অবশ্য আরেকটি ‘জীবন’ ছিল গেইলের (১৩ বলে ১৭)। পাকিস্তানি পেসার হাসান আলীর শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে তাঁর ব্যাটের ওপরের কানা নিয়ে বেশ উঁচুতে উঠে যায় বল। কিন্তু কুমিল্লার উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাশের তা গ্লাভসবন্দি করার ব্যর্থতায় ২ রানে বেঁচে যাওয়া গেইল ওই ওভারেই মারেন টানা তিন বাউন্ডারি।

পরের ওভারেই তাঁকে ফেরানো আফগান লেগস্পিনার এক বলের বিরতিতে তুলে নেন কুশলকেও (০)। উৎসবে মাতা কুমিল্লা শিবির ম্যাচটি একরকম হাতের মুঠোয় নিয়ে আসে এর পরের ওভারে। ক্রমাগত নিচু হতে থাকা বলে ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক না হওয়ার বিরক্তি থেকেই হয়তো ম্যাককালাম উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে চড়াও হতে চাইলেন অফস্পিনার মেহেদীর ওপর। কিন্তু পেসার আল-আমিনকে একটি করে ছক্কা ও বাউন্ডারি হাঁকানো নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক (১৪ বলে ১৩) এবার পড়লেন স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে। ব্যস, ঝড়ের আশা কয়েক পশলা বৃষ্টিতেই শেষ।  

ঝড়ের কার্যকারিতা বৃষ্টিতে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে রশিদের (২/১৯) চেয়ে কোনো অংশে কম ছিলেন না মেহেদীও (২/১৫)। এর আগে কুমিল্লাকে সাধ্যের মধ্যেই আটকে রাখায় দারুণ অবদান রেখেছেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা (২/২২) এবং তাদের লঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরাও (২/২৬)। অন্যদের ব্যর্থতার দিনে ইমরুল কায়েস (৩২ বলে ৪৭) ও মারলন স্যামুয়েলসের (৩৪ বলে ৪১) ব্যাটে দেড় শ পার করা কুমিল্লার সাফল্য দিনের শেষে এটিও যে গেইল-ম্যাককালামরা ঝড় তোলার আগেই তা স্তিমিত করে দেওয়া!


মন্তব্য