kalerkantho


কষ্টে জিতেছে দুই আবাহনী

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কষ্টে জিতেছে দুই আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই আবাহনীই জিতেছে খুব কষ্টে। চট্টগ্রাম আবাহনী শুরুতে করা জাহিদের গোলটি ধরে রেখে মোহামেডানকে হারিয়ে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

সে তুলনায় অনেক ভয়-ডর জয় করে ঢাকা আবাহনী ২-১ গোলে পার হয়েছে ফরাশগঞ্জ হার্ডল। সুবাদে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠেছে চ্যাম্পিয়নরা।   

চট্টগ্রাম আবাহনীর শুরুর তেজ সব সময় বেশি থাকে। এই তেজেই জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয় প্রতিপক্ষ। কালও সে রকম শুরু করে তারা ১২ মিনিটের মধ্যেই গোল বের করে নেয়। ১১ মিনিটে মামুনুল ইসলাম দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক করে ভীতি জাগায় ডিফেন্সে। তাতে জাহিদের হেড একটু এদিক-ওদিক হলেই বল জড়িয়ে যায় জালে। গোলরক্ষক মামুন খান এবার বল গ্রিপে নিলেও পরের মিনিটে আর অক্ষত রাখতে পারেননি মোহামেডানের গোলপোস্ট। আসলে সেটি এত চমৎকার ও নিখুঁত মুভ ছিল, সেখানে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার ছিল না মামুন খানের।

মামুনুলের দুর্দান্ত থ্রু বলে লিওনেল প্রেক্স দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে বল ধরে খানিকটা ওপেন করে ফেলেন। কিন্তু এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড নিজে শট না নিয়ে এত সুন্দর ঠেলেছেন জাহিদ হোসেনের এক ট্যাপেই এগিয়ে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী। লিড দলকে আরো উজ্জীবিত করতে পারে, বাড়াতে পারে গোলের ক্ষুধা। ইদানীং আর তেমন হয় না চট্টগ্রাম আবাহনীর বেলায়। ওই এক লিড ধরে রাখতে গিয়ে তাদের মাঠের আধিপত্য ক্ষুণ্ন হয়।

তখন মোহামেডান ভালো খেলতে শুরু করে এবং ২৬ মিনিটে দারুণ এক সুযোগও তৈরি করেছিল। নাসিরুল ইসলামের দুর্বল শট সোজা চলে যায় গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানার গ্লাভসে। ৫১ মিনিটে আরেকবার ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েও সাদা-কালোরা পারেনি। ডান দিক থেকে উড়ে আসা লং বলে মারা বিপলুর ভলি গিয়ে লাগে বাইরের জালে। আগের ম্যাচেও তারা শুরুর ৩০ মিনিট দুর্দান্ত খেলে গোলহীন থেকেছে এবং শেষ পর্যন্ত হেরেছে। কালও হেরেছে। তবে এই সাদা-কালো এত খারাপ দল নয়, তাকে গুছিয়ে খেলানোর কাজটি কেউ করতে পারছে না। ভারতীয় কোচ সৈয়দ নাঈমুদ্দিন এই কাজটা ভালোভাবে করতে পারতেন। তাঁকে থিতু হতেই দেয়নি ক্লাবের কিছু লোক। তাই হারের ভোগান্তিও এড়াতে পারছে না।

অন্য ম্যাচে সারাক্ষণ ফরাশগঞ্জ রক্ষণভাগের ওপর চাপ দিয়ে প্রথমার্ধে কোনো গোলই আদায় করতে পারেনি আবাহনী। চাপে কেবল একবারই গোলমুখ খুলতে পেরেছিল আবাহনী। ৭ মিনিটে এমেকা একটি লং বল ধরে ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। কিন্তু এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ডকে পেছন থেকে টেনে ফরাশগঞ্জের মালিক মেন্ডি ফেলে দিলে রেফারি নাহিদ এড়িয়ে যান। আবাহনীর খেলোয়াড় এবং ডাগআউট থেকে পেনাল্টির দাবি কানে তোলেননি তিনি। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে কেটে যায় আবাহনীর কর্নার কিক আর রায়হানের লম্বা থ্রো-ইনে। এসব বিফলে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয় আবাহনীর এক বদলিতে। ডিফেন্ডার রায়হানের জায়গায় নামেন রুবেল মিয়া। ৫১ মিনিটেই এই উইঙ্গারের পায়ে মুক্তির গোল। ওয়ালি ফয়সালের কর্নারে রুবেলের ট্যাপে যেন আবাহনীর টেনশন-মুক্তি ঘটে। ৭২ মিনিটে গাম্বিয়ান চিনেডু ম্যাথুর চমকে দেওয়া এক গোলে আবাহনী শিবিরে আবার পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়।   কিন্তু ৭৯ মিনিটে বক্সে সানডেকে মশিউরের এক ফাউলে আবাহনীর ৩ পয়েন্টের পথ তৈরি হয়ে যায়। এমেকার পেনাল্টি গোলে সব ভয়-ডর দূর করে ম্যাচ জেতে চ্যাম্পিয়নরা।


মন্তব্য