kalerkantho


আজও গেইল-ম্যাককালাম ঝড়ের অপেক্ষা

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আজও গেইল-ম্যাককালাম ঝড়ের অপেক্ষা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই ব্যাটিং দানবকে তবু হয়তো ‘ছাড়’ দেওয়া যায়। মাত্রই বাংলাদেশে এলেন।

দাবি আকাশচুম্বী হলেও রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএলের প্রথম ম্যাচে রান করতে পারেননি ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কণ্ঠেও তাই পরশুর ম্যাচ শেষে কিছুটা সহানুভূতি, ‘গেইল-ম্যাককালামের কাছে সবার প্রত্যাশা তো ছিলই। দর্শকরা ওদের খেলা দেখতেই এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এসেই শট খেলা খুব কঠিন। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া বা ভারতে যেমন উইকেট হয়, আমাদের তেমন না। এখানে ওদের মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার আছে। ’

গেইল-ম্যাককালামের না হয় মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার আছে। কিন্তু অন্যদের? বেশ কয়েকটি করে ম্যাচ তো খেলা হয়ে গেছে। দেশি ক্রিকেটার বলুন কিংবা বিদেশি—রংপুর রাইডার্সের তেমন কেউই সুবিচার করতে পারেননি নামের প্রতি।

চার ম্যাচে তিন পরাজয় তো আর এমনি এমনি নয়। আজ সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে দ্বৈরথের আগে তাই আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সময় রংপুরের নামিদামি ক্রিকেটারদের।

রেকর্ড বলছে, এখন পর্যন্ত রংপুরের সেরা পারফরমার রবি বোপারা। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে দলের একমাত্র জয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ তিনি; ২৩ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংসের সৌজন্যে। চার ম্যাচে সাকুল্যে ১৭৯ রান তাঁর। একটিতেই মাত্র আউট হওয়ায় গড়ও ১৭৯! কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে এর মূল্য কোথায়? পরশু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে ৪৮ বলে অপরাজিত ৪৮ করলেও শেষ দিকে কী দৃষ্টিকটু ব্যাটিংই না করেন বোপারা! শেষ ২৪ বলে ৪৮ রান প্রয়োজন দলের; অথচ ওই শেষ চার ওভারে তাঁর একটি বাউন্ডারি নেই। বাউন্ডারি মারার তেমন কোনো চেষ্টাও ছিল অনুপস্থিত। তাতে নিজের রান বেড়েছে, গড় হয়েছে হৃষ্টপুষ্ট—কিন্তু রংপুর রাইডার্সের লাভের লাভ হয়নি কিছু।

বোপারার তবু ব্যক্তিগত সান্ত্বনার জায়গা থাকতে পারে, অন্যদের তা-ও নেই। গেইল-ম্যাককালামের প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতাই সামনে চলে আসে বেশি করে। তবে আদর্শ টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান থিসারা পেরেরাও তো চার ম্যাচে ৩৬ রানের বেশি করতে পারেন না। জনসন চার্লস তিন ম্যাচে ১২, অ্যাডাম লিথ দুই ম্যাচে ৪; কুশাল পেরেরা এক ম্যাচে শূন্য। বিবর্ণ বিদেশিদের পাশে দেশিরাও তেমন উজ্জ্বল নন। চার ম্যাচে ১১৮ রান করা মোহাম্মদ মিঠুনেই কিছুটা মুখরক্ষা। শাহরিয়ার নাফীস (চার ম্যাচে ৮৪), জিয়াউর রহমানরা (দুই ম্যাচে ২২) ব্যর্থ পুরোপুরি। যেমনটা বলা যায় বোলারদের বেলাতেও। লাসিথ মালিঙ্গা, রুবেল হোসেন, সোহাগ গাজী, আবদুর রাজ্জাক—ভারী নাম তো বড় কম নয়। কিন্তু পারফরমার বলতে সেই মাশরাফিই।

আজ সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে দল হিসেবে জ্বলে ওঠার তাই বিকল্প নেই রংপুর রাইডার্সের।

অথচ টুর্নামেন্টের শুরুটা কী দারুণই না হয় তাদের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারায় রাজশাহী কিংসকে। কিন্তু এরপর হেরে যায় টানা তিন খেলায়। সিলেট সিক্সার্সের পথচলা আবার একেবারে উল্টো। প্রথম তিন ম্যাচ জেতে তারা ঘরের মাঠের প্রবল দর্শক সমর্থন নিয়ে। কিন্তু এরপর জয় হয়ে যায় সোনার হরিণ। মাঝে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে যায় ভেসে; বাদবাকি তিন ম্যাচেই তো হার সিলেটের। আজকের ম্যাচটি তাই রংপুর-সিলেট দুই দলের জন্যই মহাগুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচকে সামনে রেখে কাল ঐচ্ছিক অনুশীলন করে রংপুর রাইডার্স। কাগজ-কলমে এত ভালো দল নিয়েও মাঠের ক্রিকেটের ফল ভালো না হওয়ায় কিছুটা হতাশ দলটির মেন্টর নাজমুল আবেদীন ফাহিম। তার পরও দলের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না তিনি, ‘এটা দুঃখজনক যে দলের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা এখনো খেলতে পারিনি। সে কারণেই পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে আছি। দলে এখন দু-তিনজন হাই প্রোফাইল ক্রিকেটার এসেছে। দলের সঙ্গে একাত্ম হতে সবারই দুই-একটা ম্যাচ প্রয়োজন হয়। আমি বিশ্বাস করি, এই দলটা যখন জেতা শুরু করবে, ধারাবাহিকভাবেই জিততে থাকবে। সেই ক্ষমতা আমরা রাখি। ’ ব্যাটিং অর্ডারের প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে সমস্যা বলে মানছেন তিনি, ‘ব্যাটিং অর্ডারটা এখনো ঠিক করতে পারিনি। কে কোন জায়গায় খেললে দল উপকৃত হবে, তা নির্ধারিত হয়নি এখনো। তবে রংপুর রাইডার্স অত্যন্ত শক্তিশালী দল। সবাই একটু ছন্দে ফিরলেই অনেক কিছু আশা করতে পারি। ’ পরশুর পরাজয়ের জন্য গেইল-ম্যাককালামের ওপর অতিরিক্তি নির্ভরশীলতার কথা বলা হচ্ছে। তা পুরোপুরি মানছেন না নাজমুল, তবে ওই দুই চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটারের ওপর নির্ভরতার ব্যাপারও উড়িয়ে দিচ্ছেন না, ‘ওদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করার কারণে হেরেছি, তা ঠিক না। তবে এটি ঠিক, ওদের ব্যর্থতা দলকে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। পাশাপাশি দেশি খেলোয়াড়দেরও ভালো খেলাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’

দেশি-বিদেশিদের এই সমীকরণে আজই হয়তো রংপুর রাইডার্সের জ্বলে ওঠার দিন।

শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজও সন্ধ্যা নামবে গেইল-ম্যাককালাম তাণ্ডবের প্রতিশ্রুতিতে। দুপুরের দ্বৈরথ ফর্মে থাকা দুই দলের—ঢাকা ডায়নামাইটস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। দুই দলেরই টুর্নামেন্ট শুরু হার দিয়ে। কিন্তু এরপর হারেনি আর। টানা চার খেলা জিতেছে কুমিল্লা। আর বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া একটি ম্যাচকে একপাশে সরিয়ে রাখলে চার জয় ঢাকারও। পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে থাকা দল দুটির লড়াই হবে তাই সমানে-সমান।


মন্তব্য